সেশনজট কমেছে, বেড়েছে গবেষণা

ঢাবির লেদার ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি ইনস্টিটিউট
সেশনজট কমেছে, বেড়েছে গবেষণা
ছবি: সংগৃহীত

২০১১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বতন্ত্র ইনস্টিটিউট হিসেবে যাত্রা শুরু করে বাংলাদেশ কলেজ অব লেদার টেকনোলজি। কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে থাকা অবস্থায় কলেজটির শিক্ষার মান, শিক্ষকসংকট, সেশনজট প্রভৃতির কারণে ক্রমে খারাপ অবস্থার দিকে চলে যেতে থাকলে এটিকে অত্যাধুনিক করে গড়ে তোলার লক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তর্ভুক্ত ইনস্টিটিউট হিসেবে রূপদান করা হয়। দীর্ঘ ৯ বছরের পদযাত্রা শেষে চলতি সময়ে ইনস্টিটিউটটির সেশনজট কমেছে। একই সঙ্গে বেড়েছে গবেষণার সংখ্যাও। ২০১৩ সাল পর্যন্ত ইনস্টিটিউটির কোনো গবেষণা কর্ম না থাকলেও ২০১৪ সালে প্রথম গবেষণাপত্র প্রকাশ করে এ ইনস্টিটিউট।

ইনস্টিটিউট কর্তৃপক্ষ বলছে, গত তিন বছরে ইনস্টিটিউটে ৬৫টি গবেষণাপত্র প্রকাশিত হয়। এর মধ্যে ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষে ৩৬টি, তার আগের বছর ১৫টি ও ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষে ১৪টি গবেষণাপত্র প্রকাশিত হয়। এছাড়াও স্নাতক ও স্নাতকোত্তরের শিক্ষার্থীদের রয়েছে আলাদা থিসিস। ইনস্টিটিউটের প্রথম দিকে ৯ মাসের সেশনজট থাকলেও গত দেড় বছরে সেশনজটও নেমে এসেছে শূন্যের কোঠায়। ফলে শিক্ষার্থীরা যথাসময়ে ফলাফল নিয়ে বের হয়ে যেতে পারছেন ইনস্টিটিউট থেকে। তারা অবদান রাখছেন দেশের চামড়া শিল্পের মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতেও।

কাঁচা চামড়ার রপ্তানিকারক দেশ হিসেবে পরিচিত বাংলাদেশ। গত কয়েক বছর ধরেই কাঁচা চামড়ার পাশাপাশি চামড়াজাত পণ্য রফতানিতে জোর দেওয়া হচ্ছে। এ খাতে প্রবৃদ্ধির হারও ঈর্ষণীয়। বাংলাদেশের চামড়ার মান ভালো হওয়ায় চামড়াজাত পণ্য রফতানি করে দ্রুত এগিয়ে যাওয়া সম্ভব। সরকারি-বেসরকারি তথ্য উপাত্ত অনুযায়ী অর্থনীতিতে চামড়া শিল্পের অবদান দিন দিন বেড়ে চলছে।

ইনস্টিটিউটটিতে শিক্ষার্থীদের বিশেষভাবে কাঁচা চামড়া সংরক্ষণ, প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং ট্যানিং করা চামড়া দিয়ে বিভিন্ন চামড়াজাত পণ্যের ডিজাইন এবং ম্যানুফ্যাকচারিং পদ্ধতি সম্পর্কে শিক্ষাদান করা হয়। তাছাড়া এই প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষক এবং মাস্টার্সের শিক্ষার্থীরা চামড়া শিল্পের সমৃদ্ধিতে বিষয়সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ক্ষেত্র নিয়ে গবেষণা করেন।

ইনস্টিটিউটের সদ্য সাবেক পরিচালক অধ্যাপক ড. সৈয়দ মো. শামছুদ্দিন বলেন, দায়িত্বগ্রহণের পর থেকে ইনস্টিটিউটের গবেষণা কার্যক্রমের স্বয়ংসম্পূর্ণতা বৃদ্ধি করতে গবেষণাগার এবং ল্যাবসমূহে বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক সরঞ্জাম যথা থার্মোগ্রাভিমেট্রিক অ্যানালাইজার, অটোকেভ মেশিনসহ বিভিন্ন মেশিন স্থাপন করেছি। আমি চেষ্টা করেছি ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থীদের সেশনজট থেকে মুক্ত করতে এবং গবেষণাপত্রের মাধ্যমে চামড়া খাতকে সম্ভাবনাময়ী শিল্পে রূপ দিতে।

ইনস্টিটিউটের বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, লেদার কলেজ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে আসার আগ পর্যন্ত গবেষণা বলতে খুব বেশি কিছু ছিল না। থিসিস করার সময়ে আমাদের এখানে অনেক বৈজ্ঞানিক সরঞ্জাম ছিল না। যার জন্য আমাদের অন্য বিভাগের গবেষণাগারে যেতে হতো। কিন্তু এখন আমাদের ইনস্টিটিউটে বৈজ্ঞানিক সরঞ্জাম চলে এসেছে। যার জন্য শিক্ষার্থীদের গবেষণাপত্র ও থিসিস প্রকাশে সমস্যার সম্মুখীন হতে হয় না।

ইনস্টিটিউটের সদ্য নিয়োগপ্রাপ্ত পরিচালক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, আমি মাত্রই দায়িত্ব পেয়েছি। ইনস্টিটিউটটিকে ভবিষ্যতে আরো গতিশীল, কর্মচঞ্চল এবং এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা অব্যাহত থাকবে।

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত