এমসি কলেজে গণধর্ষণ, উত্তাল সিলেট 

এমসি কলেজে গণধর্ষণ, উত্তাল সিলেট 
ধর্ষকদের গ্রেফতারের দাবিতে কলেজ গেটে টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ। ছবি: ইত্তেফাক

সিলেটের ঐতিহ্যবাহী এমসি কলেজ ক্যাম্পাস থেকে শুক্রবার রাতে কয়েকজন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা এক দম্পতীকে জোর পূর্বক ছাত্রাবাসে তুলে নিয়ে স্বামীকে বেঁধে স্ত্রীকে গণধর্ষণ করে। এ ঘটনার প্রতিবাদে উত্তাল হয়ে উঠেছে সিলেট নগরী।

শনিবার দুপুরে এমসি কলেজের প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা ধর্ষকদের গ্রেফতারের দাবিতে কলেজ গেটে টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করে। এ সময় সিলেট-তামাবিল সড়কে যান চলাচল ব্যাহত হয়।

অন্যদিকে একই দাবিতে চৌহাট্রায় আরেকটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। বিকালে কোর্ট পয়েন্টে ইসলামী শাসনতন্ত্র ছাত্র আন্দোলন মানববন্ধন করেছে।

আরো পড়ুন: গণধর্ষণে ছাত্রলীগ কর্মীরা, বিচার চাইলেন আওয়ামী লীগ নেতারা

বিশিষ্ট ব্যক্তি, সুধী মহল এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, সংগঠনও তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, ‘কতিপয় ধর্ষক, সন্ত্রাসী ও দুষ্ট লোকের জন্য রাজনীতি আজ কলুষিত। তাদের জন্য ভালো লোক রাজনীতির প্রতি বিতশ্রদ্ধ। ফলে প্রকান্তরে দেশের ক্ষতি হচ্ছে।’

আরো পড়ুন: গণধর্ষণের আসামি ছাত্রলীগের সাইফুরের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে মামলা

তারা আসামিদের দ্রুত গ্রেফতারের মাধ্যমে বিচারের আওতায় আনা ও চাঁদাবাজ, ধর্ষক, সন্ত্রাসীদের পৃষ্ঠপোষকদেরও মুখোশ উন্মোচন করার দাবি জানান।

সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন), সিলেটের আহ্বায়ক ফারুক মাহমুদ চৌধুরী বলেন, এর আগেও ছাত্রলীগ সন্ত্রাসীরা শতবর্ষের ঐতিহ্যবাহী এমসি কলেজ ছাত্রাবাস পুড়িয়েছে। টিলাগড় এলাকার আধিপত্য বিস্তার নিয়ে একের পর এক হত্যাকাণ্ড চালিয়েছে। কিন্তু এসবের একটিরও আজ পর্যন্ত বিচার হয়নি, আসামিরা চিহ্নিত হয়নি। ফলে তারা দিন দিন বেপরোয়া হয়ে ওঠেছে। এই বিচারহীনতার সংস্কৃতির কারণেই আজকের এই ন্যক্কারজনক ঘটনা ঘটেছে। তিনি বলেন, স্বামীর সামনে স্ত্রীকে গণধর্ষণের ঘটনার শাস্তি না হলে আমরা সভ্য সমাজে মুখ দেখাবো কেমনে।

আরো পড়ুন: এমসি কলেজে গণধর্ষণ: হল ছাড়ার নির্দেশ

সিলেটে এসএমপির পুলিশ কমিশনার গোলাম কিবরিয়া ইত্তেফাককে জানান, আসামি ধরতে পুলিশ তৎপর। এরই মধ্যে ভিকটিমের জবানবন্দী নেওয়া হয়েছে। যাবতীয় আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হচ্ছে। এ বিষয়ে কোন ছাড় নেই। এসএমপি কমিশনার সহ ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তারা শনিবার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

শুক্রবার সন্ধ্যায় এক তরুণী স্বামীকে নিয়ে এমসি কলেজ ক্যাম্পাসে বেড়াতে যান। এসময় ছাত্রলীগকর্মী এম. সাইফুর রহমান ও শাহ মাহবুবুর রহমান রনির নেতৃত্বে স্বামী ও স্ত্রীকে পার্শ্ববর্তী কলেজ ছাত্রাবাসে তুলে নিয়ে যায় আসামিরা।

পরে স্বামীকে বেঁধে স্ত্রীকে ধর্ষণ করে তারা। ঐ সময় ছাত্রলীগ কর্মীরা তরুণী ও স্বামীর প্রাইভেটকারও ছিনিয়ে নেয়। পুলিশ গাড়িটি উদ্ধার করেছে।

রাত ১০টায় খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ধর্ষিতা ও তার স্বামীকে উদ্ধার করে। ধর্ষিতা বর্তমানে ওসামানী হাসপাতালে ওসিসিতে চিকিৎসাধীন।

ঘটনার পর রাতভর অভিযান চালালেও কোন অভিযুক্তকে আটক করতে পারেনি পুলিশ।

সূত্র জানায়, ধর্ষণের ঘটনাটি স্থানীয় কয়েকজন আওয়ামী লীগ নেতা প্রথমে চাপা দিতে আপোষে মীমাংসার চেষ্টা করেন। কিন্তু বিষয়টি গণমাধ্যমে প্রকাশ পেলে ও পুলিশ জেনে গেলে তা আর সম্ভব হয়নি। তবে সময় ক্ষেপণের কারণে অভিযুক্তরা পালিয়ে যায়।

ইত্তেফাক/জেডএইচ

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত