ছাত্র অধিকার পরিষদের দুই নেতার রিমান্ড, প্রতিবাদে বিক্ষোভ

সকল অপরাধীর গ্রেফতার না হওয়া পর্যন্ত অনশন চালিয়ে যাবেন ওই ছাত্রী
ছাত্র অধিকার পরিষদের দুই নেতার রিমান্ড, প্রতিবাদে বিক্ষোভ
দুই নেতার গ্রেফতারের প্রতিবাদে বিক্ষোভ। ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রীর করা ধর্ষণ ও ধর্ষণে সহযোগিতার মামলায় গ্রেপ্তার ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নূরের দুই সহকর্মীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দুই দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছে আদালত। এরা হলেন- বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. সাইফুল ইসলাম ও সংগঠনের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সহ-সভাপতি মো. নাজমুল হুদা। ঢাকার মহানগর হাকিম মোর্শেদ আল মামুন ভুইয়া সোমবার তাদের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

দুপুরে এই দুজনকে ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে হাজির করে কোতয়ালি থানার ওই মামলায় সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা। শুনানি শেষে বিচারক প্রত্যেকের দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের চার নেতাকে ডিবি পরিচয়ে তুলে নিয়ে যাওয়ার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে সংগঠনের নেতাকর্মীরা। গতকাল মঙ্গলবার শাহবাগ জাতীয় জাদুঘরের সামনে থেকে বিক্ষোভ মিছিল শুরু করে তারা। এর আগে সেখানে আয়োজিত এক সমাবেশে ছাত্র অধিকার পরিষদের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক মো. রাশেদ খান বলেন, বাংলাদেশের মতো একটা রাষ্ট্রে এমন নিষ্ঠুর কাজ কখনো কাম্য নয়।

স্বাধীন দেশ বলা হলেও আমরা প্রকৃতপক্ষে স্বাধীন নয়। অবিলম্বে নেতাকর্মীদের আমাদের কাছে পৌঁছে দিন, এমন হীন কাজে মেতে উঠবেন না। আমাদের পুলিশ-প্রশাসনের সবাই খারাপ না। অনেক মানবিক পুলিশ দেখি। কিন্তু গুম, খুন, নির্যাতনের সঙ্গে যারা জড়িত আমরা তাদের সমালোচনা করতেই পারি। এটা আমাদের সাংবিধানিক অধিকার। আমাদের পুলিশ বিদ্বেষী ভাববেন না, আমাদের সুন্দর বাংলাদেশ গঠনে সহযোগিতা করুন।

এসময় আরও বক্তব্য রাখেন যুগ্ম আহ্বায়ক ফারুক হোসেনসহ সংগঠনের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। এতে ধর্ষণ বিরোধী আন্দোলন দমানোর জন্যই সরকার নেতাকর্মীদের গ্রেফতার করছে বলে অভিযোগ করেন তারা। বিক্ষোভ সমাবেশে ছাত্র অধিকারের নেতাকর্মী ছাড়াও গ্রেফতারকৃত পরিবারের সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন। বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে প্রেস ক্লাব অভিমুখে বিক্ষোভ মিছিল করে সংগঠনটি। এতে শতাধিক নেতাকর্মী অংশগ্রহণ করে।

গ্রেফতার দুই:

ছাত্র অধিকার পরিষদ রবিবার তাদের চার নেতাকে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) পরিচয়ে তুলে নেওয়ার অভিযোগ করে। এর মধ্যে আছেন, সংগঠনের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. সাইফুল ইসলাম, মো. সোহরাব হোসেন, ঢাকা বিশ^বিদ্যালয় শাখার সহ-সভাপতি মো. নাজমুল হুদা ও সাংগঠনিক সম্পাদক আসিফ মাহমুদ। তবে পুলিশের পক্ষ থেকে নাজমুল হুদা ও মো. সাইফুল হুদাকে গ্রেফতার দেখানো হয়। পরে তাদেরকে দু’দিনের রিমান্ড আদেশ দেয় আদালত। তারা উভয়ই ধর্ষণ ও ধর্ষণে সহযোগিতার অভিযোগে ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের ছাত্রীর করা মামলার আসামী।

গ্রেফতারের বিষয়ে ডিএমপির গণমাধ্যম ও জনসংযোগ বিভাগের উপকমিশনার ওয়ালিদ হোসেন গণমাধ্যমকে বলেন, রাজধানীর কোতোয়ালি ও লালবাগ থানায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রীর করা ধর্ষণ মামলার আসামি সাইফুল ও নাজমুল। ওই দুই মামলায় তাঁদের গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের লালবাগ জোনাল টিম।

একজনও বাদ থাকলে অনশন চলবে :

গ্রেফতার না হওয়া ধর্ষণ ও ধর্ষণে সহযোগিতার অভিযোগে করা মামলায় দুই জন গ্রেফতার হওয়ায় স্বস্তি প্রকাশ করেছেন আসামীদের গ্রেফতারের দাবিতে অনশনরত ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। তবে সব আসামী গ্রেফতার না হওয়া পর্যন্ত অনশন চালিয়ে যাবেন বলে জানিয়েছেন তিনি। এর আগে গত বৃহস্পতিবার রাত থেকে ধর্ষণ মামলার আসামীদের গ্রেফতারের দাবিতে অনশন শুরু করেন এই ছাত্রী।

সোমবার সন্ধ্যায় তিনি বলেন, ‘আজকে দুই জনকে আসামীকে গ্রেফতার করে দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন বিজ্ঞ আদালত। সেক্ষেত্রে কিছুটা আশার আলো দেখতে পাচ্ছি। তবে ছয়জন আসামীর প্রত্যেকে গ্রেফতার করা পর্যন্ত আমি এখানে অবস্থান করবো।’ নিজের শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘আমি অসুস্থ ছিলাম, ব্লাড প্রেশার কমে গিয়েছিলো। আজকে আবার গলায় সমস্যা হচ্ছে। তবে এখন সুস্থ আছি’।

ইত্তেফাক/এসআই

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত