চবির সাবেক অধ্যাপকের মেসবাড়িতে চুরি

শিক্ষার্থীদের মালামাল চুরির দায় বিড়ালের!

অভিযোগের পাহাড় মেসমালিকের বিরুদ্ধে
শিক্ষার্থীদের মালামাল চুরির দায় বিড়ালের!
ইনসেটে মেসমালিক আ ন ম আব্দুল মুক্তাদির ও তার মেসবাড়ি [ছবি: ইত্তেফাক]

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) দক্ষিণ ক্যাম্পাসে অবস্থিত বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিন্যান্স বিভাগের সাবেক অধ্যাপকের মেসবাড়িতে চুরির ঘটনা ঘটেছে। এতে মেসমালিক আ ন ম আব্দুল মুক্তাদির দোষ চাপিয়েছেন বিড়ালের উপর! এ ঘটনায় ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা প্রোক্টর বরাবর অভিযোগ দায়ের করেন।

এদিকে মালিক সমিতির সাথে মিটিং করে ক্যাম্পাসের আশেপাশে ব্যক্তি মালিকানাধীন কটেজ ও মেসভাড়ায় শিক্ষার্থীদের জন্য ৪০ শতাংশ ছাড়ের ঘোষণা দিয়েছিল বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এ সিদ্ধান্তের তোয়াক্কা না করে মেসে অবস্থানরত শিক্ষার্থীদের থেকে পুরো টাকা আদায়সহ বিভিন্নভাবে হয়রানি করছিলেন আলোচিত ওই শিক্ষক৷

এসব ঘটনায় ক্যাম্পাসজুড়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। এবং এক পর্যায়ে শিক্ষার্থীদের ক্ষোভের মুখে সোমবার সন্ধ্যায় শাখা ছাত্রলীগের নেতৃবৃন্দ ওই বাসা ঘেরাও করেন। এ সময় প্রক্টরিয়াল বডির উপস্থিতিতে শিক্ষার্থীদের হারানো জিনিসপত্রের ক্ষতিপূরণ দিতে রাজি হন এবং ভাড়ায় ৪০ শতাংশ ছাড়ের বিষয়টিও স্বীকার করেন বাড়ির মালিক আ ন ম আব্দুল মুক্তাদির।

ভুক্তভোগীরা জানান, করোনার ছুটিতে বাড়ি চলে যাওয়ার দীর্ঘদিন পর দরকারি জিনিসপত্র নেওয়ার জন্য ক্যাম্পাসে আসেন তারা। কুমিল্লা থেকে আসার পর বাসায় ঢুকতে চাইলে বাসা মালিক বকেয়া উসুল করিয়ে প্রায় ১ ঘণ্টা পর বাসায় ঢুকতে দেন। এক্ষেত্রে ভাড়ায় ৪০ শতাংশ ছাড়ের বিষয়টি তুললে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করে উড়িয়ে দেন। এসময় তারা বাসায় ঢুকে সবকিছু অগোছালো দেখেন এবং বাসার সিলিংফ্যান, মাল্টিপ্লাগ ও ছাতাসহ আরো অনেক ব্যবহারের জিনিস খুঁজে পাননি।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক ভুক্তভোগী ছাত্রী বলেন, 'আমরা যাওয়ার সময় আমাদের বিছানা ও জিনিসপত্র সব গুছিয়ে রেখে গিয়েছিলাম। কিন্তু গতকাল এসে দেখি বাসার সব জিনিসপত্র এলোমেলো হয়ে পড়ে আছে। বাসার সিলিংফ্যান, মাল্টিপ্লাগ, ছাতাসহ আরো অনেক ব্যবহারের জিনিস আমরা আসার পর খুঁজে পাইনি। এ নিয়ে আমরা তৎক্ষণাৎ স্যারকে (বাড়িওয়ালা) জানালে উনি বললেন এসব বিড়াল করেছে। অথচ বিড়াল কি এসব চুরি করে?'

এর আগে গত ৬ জুলাই রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের দুইজন শিক্ষার্থী বাসায় প্রবেশ করতে চাইলে তাদেরকে ছুরি নিয়ে ধাওয়া করার অভিযোগ উঠে ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে। পরে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা প্রোক্টর বরাবর অভিযোগ দায়ের করলে প্রক্টরিয়াল বডি বিষয়টি মিটমাট করেন।

এসব বিষয়ে কথা বলতে ওই শিক্ষককে ফোন করলে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করেন এবং ফোন কেটে দেন।

উল্লেখ্য, ২০১৯-২০২০ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি পরীক্ষার সময় বাসায় ভর্তি পরীক্ষার্থীদের আশ্রয় দিলেই জনপ্রতি ৫০০, ৪০০কিংবা ৩০০ টাকা করে চাঁদা দাবি করে আলোচনায় এসেছিলেন ওই শিক্ষক। এছাড়াও বিভিন্ন সময় শিক্ষার্থীদের হয়রানিসহ অনেক অভিযোগের তীর উঠেছিল এই মেসমালিকের বিরুদ্ধে।

ইত্তেফাক/এমআর

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত