ধর্ষণের শিকার ঢাবি ছাত্রীর পক্ষ নিয়ে সাইবার বুলিংয়ের শিকার নারীরা!

ধর্ষণের শিকার ঢাবি ছাত্রীর পক্ষ নিয়ে সাইবার বুলিংয়ের শিকার নারীরা!
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অনশনরত ছাত্রীর সঙ্গে আরো অনেকে। ছবি: সংগৃহীত

ধর্ষণের বিচার চেয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অনশনরত ছাত্রীর পক্ষে অবস্থান নিয়ে ধর্ষকদের বিচার দাবি করায় সাইবার বুলিংয়ের শিকার হচ্ছেন অনেকেই। ধর্ষণের শিকার এই নারীর পক্ষে কথা বললেই শুনতে হচ্ছে অকথ্য গালাগালি। এই সাইবার বুলিং থেকে রক্ষা পাচ্ছে না নারীরাও। সাইবার বুলিং ছাড়াও মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে দিয়ে অপদস্থ করা হচ্ছে নারীদের।

অভিযোগ উঠেছে, ঢাবিতে ওই ছাত্রীর পাশে দাঁড়ানোর কারণে, বিএনপি-জামায়াত জোটের নেতা-কর্মীদের কাছে ধর্ষণের শিকার পূর্ণিমা রাণী শীলের বিরুদ্ধে ফেসবুকে আক্রমণাত্মক তথ্য প্রদান করেন ভিপি নূরের অনুসারী এবং বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদের সিরাজগঞ্জ শাখায় দেওয়া আংশিক কমিটির দপ্তর সম্পাদক রাজিবুল হাসান রাজিব। ফলে মিথ্যা তথ্যের কারণে পরিবারটি সম্পর্কে নেতিবাচক মন্তব্য ছড়িয়ে যায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে।

‘মো. রাজিবুল হাসান রাজিব’ নামের এক ফেসবুক একাউন্ট থেকে পূর্ণিমার ছবি সংযুক্ত করে লেখা হয়েছে, ‘এই সেই সিরাজগঞ্জের পূর্ণিমা রানী শীল! যে ১৩ বছর বয়সে ধর্ষণের শিকার হয়েছিল। ধর্ষণ মামলায় ১৩ জন ধর্ষণকারীর কাছ থেকে এ লাখ করে মোট ১৩ লাখ টাকা আদায় করে সে। এই সেই পূর্ণিমা রানী যার বাবা নিজে ছাত্রীকে ধর্ষণের দায়ে ৬ মাস জেল খেটেছেন। সুতরাং এই রকম পরিবারের মেয়ে থেকে নোংরামি ছাড়া আর কি আসা করা যায়!!!’

এদিকে ফেসবুকে ছড়িয়ে দেয়া এই তথ্য সম্পর্কে জানতে চাইলে পেইজটি সংগঠনের নয় এমন দাবি করে বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক নুরুল হক নুর। তিনি বলেন, ‘যে পেইজ থেকে এ স্ট্যাটাস দেওয়া হয়েছে সেটি আমাদের সংগঠনের পেজ নয়। অনেকেই অতিমাত্রায় উৎসাহ দেখিয়ে বা ষড়যন্ত্র করতে এ ধরনের পেজ খুলে। পরে সেখান থেকে বিতর্কিত স্ট্যাটাস দেয়।’

তিনি বলেন, ‘ছাত্র অধিকার পরিষদের আলাদা পেজ রয়েছে। এ ধরনের কোন ধরনের কোন কিছু আমাদের পেজে ঘটলে তার দায়ভার আমাদের। এর বাইরে ফেক পেজ থেকে কোন কিছুর দায়ভার আমাদের না।'

স্ট্যাটাস দেওয়া ব্যক্তি বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদের সিরাজগঞ্জ জেলা শাখার দপ্তর সম্পাদক জানালে পরিষদের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক রাশেদ খাঁন বলেন, ‘আমি বিষয়টি সম্পর্কে জানি না। এ ব্যাপারে খোঁজ-খবর নিচ্ছি।’

এদিকে এই নেতার বিষয়ে কেন্দ্রীয় সংগঠন থেকে কেউ স্পষ্ট করে কিছু না জানালেও ছাত্র অধিকার পরিষদের সিরাজগঞ্জ জেলা শাখার কমিটি (আংশিক) অনুমোদনের বিজ্ঞপ্তিতে রাজিবুল হাসান রাজিবের পরিচয় হিসেবে বলা আছে দপ্তর সম্পাদক।

কথা বলে জানা গেছে, এলাকায় এরা সক্রিয় না থাকলেও ঢাকায় বসেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে। ফেসবুকে এই রাজিবের ছবির পাশে লেখা আছে, ‘স্ট্যান্ড উইথ ভিপি নূর/ ফ্রি ডেমোক্রেসি।’

সাইবার বুলিং করেও বারবার পার পেয়ে যাওয়ায় এই ধরণের মানুষগুলো বর্তমানে বেপরোয়া হয়ে উঠেছে বলে মনে করছেন অনেকেই। ফেসবুকে এদের কারণে সাধারণ মানুষ বিষয়গুলো নিয়ে কোন মন্তব্যই করতে পারছে না বলে জানান বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে তিনি বলেন, ‘এখানে কোন পক্ষ না নিয়ে যদি নিরপেক্ষ আলোচনার জন্য মন্তব্য করা হয়, তাহলেও দেওয়া হয় দালাল আখ্যা। এরপর ফেসবুক ঘেঁটে খুঁজে বের করা হয় তার আওয়ামীপন্থী শিক্ষক বা অন্য কোন নেতার সঙ্গে ছবি আছে কি না। সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সকল শিক্ষকদের সম্পর্ক থাকে। সেখানে নীল দল বা সাদা দল থেকে আমরা একাডেমিক কাজ করি না। কিন্তু তুচ্ছ থেকে তুচ্ছ বিষয় সামনে এনে পরিবার, মা-বাবা তুলে গালি দেওয়া হয়। এক অসুস্থ অবস্থা তৈরি করা হয়েছে এখানে।’

এদিকে অনশনে বসার শুরু থেকেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐ ছাত্রী দাবি করে আসছেন ‘স্বপ্নের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়’সহ অজ্ঞাত শতাধিক ফেসবুক আইডি, পেজ, ও গ্রুপ হতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তার নামে যৌন উত্তেজনা সৃষ্টিকারী মিথ্যা অশ্লীল সংলাপ, পাবলিক পোস্ট, কমেন্ট ও শেয়ার করা হচ্ছে। এতে এর মাধ্যমে তার ব্যক্তিগত ও সামাজিক মর্যাদাহানি করে আসছে।

ঐ ছাত্রী বলেন, শুধু তাই নয়, ভুল বার্তা দিতে এবং সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করতে ইডেন কলেজের এক শিক্ষার্থীকে নূরের বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলাকারী ছাত্রী বলেও প্রচার করা হয়। নূরের ভিডিও বার্তার সঙ্গে ছাত্রীর ছবি ব্যবহার করা হয়। অথচ ওই ছাত্রী কোন মামলা দায়ের করেননি। অপরাধীদের বিচার দাবি করার পর থেকেই চলছে এ ধরণের কর্মকাণ্ড। সাবেক ঢাবি ভিপি নূর এবং তার সংগঠনের নেতারা এ সব বিষয়ে কিছু জানে না বললেও তাদের সমর্থক ও সংগঠনের মানুষদের কাছ থেকে বারবার এ ধরণের আচরণ প্রশ্ন তুলছে জনমনে।

ইত্তেফাক/জেডএইচ

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত