তরুণদের রাজনীতি সচেতন হওয়ার আহ্বান ভিপি নুরের

তরুণদের রাজনীতি সচেতন হওয়ার আহ্বান ভিপি নুরের
নুরুল হক নুর। ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসুর) সাবেক ভিপি নুরুল হক তরুণদের রাজনীতি সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ৬০ কিংবা ৭০ এর দশকে যে গণমুখী ছাত্ররাজনীতি ছিল সেই ধারাই যদি ফিরিয়ে নিয়ে যেতে চাই তবে মেধাবী ছাত্রদের ছাত্র রাজনীতিতে ফিরিয়ে আনতে হবে। তাদেরকে রাজনীতিতে সচেতন হতে হবে। ছাত্র রাজনীতির নামে অপরাজনীতি দিয়ে কোন ধরণের পরিবর্তন হবে না।

বুধবার (৬ জানুয়ারি) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সন্ত্রাসবিরোধী রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে আয়োজিত এক সমাবেশে এসব কথা বলেন তিনি। স্বাস্থ্যবিধি মেনে বিশ্ববিদ্যালয়ের হল খোলা সহ তিন দাবিতে এ সমাবেশের আয়োজন করে বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদ।

এর আগে গত ২৩ ডিসেম্বর পরীক্ষা নেওয়ার আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হল খুলে দেওয়ার দাবিতে অবস্থান কর্মসূচি পালন শুরু করে ছাত্র অধিকার পরিষদ। এতে বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি বিন ইয়ামিন মোল্লা, কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহ্বায়ক তারিকুল ইসলাম তারেক, ঢাবি শাখার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাকিল মিয়া প্রমুখ অংশ নেন। কিন্তু দীর্ঘ ১৫ দিন অবস্থান শেষে গতকাল মঙ্গলবার অবস্থান কর্মসূচির ইতি টানেন তারা। এসময় তারা ঘোষণা দেন, হল খোলার জন্য প্রয়োজনে উপাচার্যের বাসভবন ঘেরাও করা হবে। দাবি না মানা হলে টাবু টানিয়ে সেখানে রাতযাপনও করা হবে।

আরো পড়ুনঃ ফেলানী হত্যার ১০ বছর, কাঙ্ক্ষিত বিচারের আশায় বাবা-মা

সমাবেশে ছাত্রদের উদ্দেশ্যে নুরুল বলেন, ছাত্রদেরকে দেশের মানুষের গণতান্ত্রিক পরিবেশ, ন্যায় বিচার নিশ্চিত করা ও মানুষের অধিকার আদায়ের জন্য কথা বলতে হবে। সেজন্য মেধাভিত্তিক, সুস্থ ধারার রাজনীতি গড়ে তোলার জন্য অবশ্যই প্রত্যেকটি বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজে ছাত্র সংসদ নির্বাচন দিতে হবে। অনেকেই অনেকসময় রেফারেন্স দেয় যে, বিভিন্ন সময় বিএনপির সময় এই সংসদ বন্ধ করে রাখা হয়। কিন্তু আমি বলতে চাই, এই ছাত্র সংসদ নির্বাচনকে শুধুমাত্র বিএনপি কিংবা ছাত্রদল বন্ধ রেখেছে? ছাত্রলীগের ভাই, কিংবা আওয়ামী লীগের কোন দায় নেই? সবার দায় রয়েছে। কেননা যারা যে সময় ক্ষমতায় ছিল তারাই ক্ষমতাকে কুক্ষিগত করে মেধাভিত্তিক ছাত্ররাজনীতিকে নিরুৎসাহিত করার জন্য অস্ত্র এবং পেশী শক্তি নির্ভর করে ছাত্র রাজনীতি কায়েম করেছিল।

হল খোলার বিষয়ে তিনি বলেন, সকল ছাত্র সংগঠন একমত পোষণ করেছে যে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান প্রেক্ষাপটে স্বাস্থ্যবিধি মেনে হল খুলতে হবে এবং হল খুলেই পরীক্ষা নেয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। কাজেই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের এই দাবি এড়িয়ে যাওয়ার কোন সুযোগ নেই। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন হল না খুলে শিক্ষার্থীদের সাথে প্রহসন করছে।

শিক্ষক সমিতির নির্বাচন নিয়ে তিনি বলেন, এই করোনার সময়ে শিক্ষক সমিতির নির্বাচন হয়েছে। সেখানেও অটো পাশের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এটা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের জন্য লজ্জার। যে বিশ্ববিদ্যালয়কে বলা হয় জাতির বিবেক, ছাত্র-শিক্ষককে বলা হয় সমাজ গড়ার কারিগর সে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা গণতান্ত্রিক চর্চার জায়গাকে ধ্বংস করেছে।

ইত্তেফাক/এমএএম

Nogod
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত