করোনায় কারিগরি শিক্ষা

পরীক্ষার সময় ও নম্বর কমেছে পলিটেকনিকে

অ্যাসাইনমেন্ট মূল্যায়নে প্রমোশন নবম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে অটোপাশের সুযোগ নেই: সচিব
পরীক্ষার সময় ও নম্বর কমেছে পলিটেকনিকে
হাতে কলমে শিখছেন ছাত্রীরা। ছবি: সংগৃহীত

করোনার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থীদের পুষিয়ে নিতে পরীক্ষার সময় ও নম্বর কমেছে পলিটেকনিকে। আর নবম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা পরবর্তী ক্লাসে প্রমোশন পাবে অ্যাসাইনমেন্টের মাধ্যমে।

কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান মোরাদ হোসেন মোল্লা বলেছেন, ‘সাধারণ শিক্ষার্থীদের মতো আমরা কারিগরির নবম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের ১৮টি অ্যাসাইনমেন্ট জমা নিয়েছি। বর্তমানে সেগুলো মূল্যায়নের কাজ চলছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে অ্যাসাইনমেন্টের ওপর নম্বর নির্ধারণ করে ফলাফল প্রকাশ করা হবে। মাধ্যমিকের মতো কারিগরির অ্যাসাইনমেন্ট ডিসেম্বরের শেষে জমা নেওয়া হয়েছে। এসংক্রান্ত নীতিমালা তৈরি করে ফলাফল প্রকাশ করা হবে।’

তিনি আরো বলেন, শিক্ষার্থীদের পঠনজ্ঞান অর্জনে কারিগরি স্তরের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের অ্যাসাইনমেন্টে কাজ করানো হয়েছে। তবে এর মাধ্যমে শতভাগ শিক্ষার্থীকে দশম শ্রেণিতে উন্নীত করা হবে।

অন্যদিকে ২০২০ সালের ডিপ্লোমা ইন ইঞ্জিনিয়ারিং পরীক্ষার নম্বর ও সময় কমিয়ে দিয়েছে বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ড। প্রতিটি বিষয়ে মোট ১০০ নম্বরের মধ্যে পরীক্ষা দিতে হবে ৫০ নম্বরের। আর ৩ ঘণ্টার পরীক্ষা ২ ঘণ্টা এবং ২ ঘণ্টার পরীক্ষা দিতে হবে ১ ঘণ্টা ৩০ মিনিটে।

২০১০ ও ২০১৬ সালের প্রবিধানের আওতায় পরীক্ষার্থীদের মুদ্রিত প্রশ্নপত্রের মোট নম্বরের ৫০ শতাংশের উত্তর দিতে হবে (সব বিভাগের যে কোনো প্রশ্ন থেকে)। ২০১০ ও ২০১৬ সালের প্রবিধানের সব বিষয়ের মোট ৩ ঘণ্টার পরীক্ষা ২ ঘণ্টা এবং ২ ঘণ্টার পরীক্ষা ১ ঘণ্টা ৩০ মিনিট মেয়াদে অনুষ্ঠিত হবে।

গতকাল এক সংবাদ সম্মেলনে কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. আমিনুল ইসলাম খান বলেছেন, কারিগরি শিক্ষায় অটো পাশ দেওয়া যায় না। তিনি জানান, কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের বৈঠকে পরীক্ষার নম্বর ও সময় কমিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থীরা তাদের শিক্ষার ক্ষতি পুষিয়ে নিতে চার দফা দাবিতে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করছে কয়েক দিন ধরে। এর প্রেক্ষাপটে সচিব মন্ত্রণালয়ের অবস্থান তুলে ধরেন।

শিক্ষার্থীদের দাবি, তাদের এক বছর লস পুষিয়ে দিতে হবে। এ দাবির বিষয়ে সচিব বলেন, এ ক্ষেত্রে যে পরীক্ষাগুলো হয়নি, সেগুলোর ছয় মাসের সেমিস্টার চার মাসে করে দুই বছর করলে এক বছরের লস অ্যাডজাস্ট হবে। শিক্ষার্থীদের দ্বিতীয় দাবি, যেসব পরীক্ষা স্থগিত হয়েছে, সেগুলোর পরীক্ষা শর্ট সিলেবাসে নিতে হবে।

এ বিষয়ে সচিব বলেন, ‘আমরা দ্বিতীয়, তৃতীয়, চতুর্থ পর্বের তাত্ত্বিক পরীক্ষার সংক্ষিপ্ত সিলেবাস করেছি। সেখানে তারা সংক্ষিপ্ত পরীক্ষা দিতে পারবে। যেখানে ১০টি প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার প্রয়োজন হতো, সেখানে ৫টি প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে। যে কোনো গ্রুপ থেকে নিয়ে প্রশ্নের উত্তর দিতে পারবে তারা। এ ক্ষেত্রে অটো পাশ দেওয়া সম্ভব নয়। কারণ যে রিকয়ার কম্পিটেন্সি প্রয়োজন হবে, তা থাকতে হবে। এ জন্য আমরা পরীক্ষা পদ্ধতি রিডিজাইন করেছি।’

শিক্ষার্থীদের তৃতীয় দাবি, অতিরিক্ত ফি গ্রহণ না করা এবং প্রাইভেট পলিটেকনিকে সেমিস্টার ফি মওকুফ করতে হবে। এ বিষয়ে সচিব বলেন, ‘আমরা টিউশন ফি ও পরীক্ষার ফি ছাড়া সরকারি পলিটেকনিকে অন্য ফি মওকুফ করেছি। বেসরকারি পলিটেকনিকগুলোকে অনুরোধ করেছি, তারাও এই ধরনের ফি মওকুফ করে। তারা বলেছে, ফি-র কারণে যেন কোনো শিক্ষার্থী পরীক্ষা থেকে বঞ্চিত না হয়। তারা অতিরিক্ত ফি দাবি করছে না।’

শিক্ষার্থীদের চতুর্থ দাবি প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ডিপ্লোমা শিক্ষার্থীদের জন্য আসন বরাদ্দ করা। সচিব বলেন, ‘ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে কারিগরি শিক্ষার্থীরা ডিপ্লোমা পাশ করার পর ভর্তি হতে পারে। পর্যায়ক্রমে ঠাকুরগাঁও, নওগাঁ, নড়াইল ও খাগড়াছড়িতে চারটি ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ হচ্ছে। সেখানে ৫০ শতাংশ ডিপ্লোমা এবং ৫০ শতাংশ সরাসরি ভর্তি হতে পারবে। এটা বুয়েট আর আমরা করব। এর ফলে প্রচুর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং পাশ করা শিক্ষার্থী বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পড়ার সুযোগ পাবে।’

সচিব বলেন, ‘এই দাবি নিয়ে রাজপথে আন্দোলন করা, বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা মোটেই সমীচীন নয়। আমরা বিশ্বাস করি, তারা ঘরে ফিরে আসবে।’

ইত্তেফাক/জেডএইচ

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
আরও
আরও
x