ঢাবির সান্ধ্য আর প্রাইভেট প্রোগ্রামের শেষ নেই

ঢাবির সান্ধ্য আর প্রাইভেট প্রোগ্রামের শেষ নেই
[ফাইল ছবি]

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় প্রশাসন ইনস্টিটিউটে (আইবিএ) শিক্ষক রয়েছেন ৩৩ জন। এর মধ্যে ছুটিতে আছে আট জন, এলপিআরে একজন। ফলে মাত্র ২৪ জন শিক্ষক দিয়ে চলছে আইবিএর দেড় হাজারেরও বেশি শিক্ষার্থীর শিক্ষা কার্যক্রম। এরপরও চালু করা হচ্ছে একের পর এক প্রাইভেট প্রোগ্রাম ও সান্ধ্যকালীন কোর্সের সংখ্যা বাড়ানো হচ্ছে।

এর মধ্যে রেগুলার শিক্ষার্থী রয়েছেন ৮০০। অন্যদিকে সান্ধ্য কোর্সের শিক্ষার্থী ৫৭৬ জন। এছাড়া রয়েছে ২০টির বেশি সার্টিফিকেট কোর্স প্রোগ্রাম। এসব প্রোগ্রামের প্রত্যেকটিতে ৪০ থেকে ৬০ জন শিক্ষার্থী প্রতিবার ভর্তি করানো হয়। সারা বছরই চলে এসব প্রোগ্রামের ভর্তি ও ক্লাস।

বিশ্ববিদ্যালয়ের অনীহার জন্য শিক্ষক সংকট হয় দাবি করে ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ড. সৈয়দ ফারহাত আনোয়ার বলেন, আমাদের ৪০ শতাংশ শিক্ষক ইন্ডাস্ট্রি থেকে আসেন। সব যে আমাদের লোক হয় তা নয়। আবার বেশ কিছু শিক্ষক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আনি। সবকিছু কাভার করতে সপ্তাহে সাত দিন সকাল সাড়ে ৮টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত ইনস্টিটিউটের কার্যক্রম চলে বলে জানান তিনি।

আরও পড়ুন: মার্চে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় খুলে দেওয়ার সুপারিশ

ইনস্টিটিউট সূত্রে জানা যায়, এক্সিকিউটিভ এমবিএ নামে সান্ধ্য কোর্স পরিচালনা করা হয়। এখানে বছরে সামার, স্প্রিং ও ফল সেমিস্টারে ৪০ জন করে ছাত্র ভর্তি করা হয়। ১ বছর চার মাসের প্রোগ্রাম হওয়ায় সান্ধ্য কোর্সে বর্তমান শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৫৭৬ জন। এছাড়াও ইনস্টিটিউটে ২০টিরও বেশি প্রাইভেট প্রোগ্রাম রয়েছে। এসব প্রোগ্রামের একটি ছয় মাসের, ছয় সপ্তাহের আটটি, তিনটি চার সপ্তাহের আর সপ্তাহব্যাপী হয় এমন প্রোগ্রাম রয়েছে আটটি। এসব প্রোগ্রামে ৬০ জন করে ছাত্র ভর্তি করানো হয়। তবে অধিকাংশ সময় শিক্ষার্থীর কোটা পূর্ণ হয় না। তখন অল্প সংখ্যক শিক্ষার্থী দিয়েই পরিচালনা করা হয় কোর্স।

এসব প্রোগ্রাম ব্যয়বহুল। বিভাগের কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্যানুযায়ী, সান্ধ্যকালীন এক্সিকিউটিভ এমবিএ কোর্সের জন্য শিক্ষার্থী প্রতি ব্যয় হয় ২ লাখ ৭০ হাজার টাকা। ম্যানেজমেন্ট ডেভলপমেন্ট প্রোগ্রাম (এমডিপি) নামের একটি সার্টিফিকেট প্রোগ্রামে ২০টির বেশি কোর্স রয়েছে। এর ছয় মাসের এসিবিএ কোর্সের খরচ ১ লাখ ৩৫ হাজার টাকা, ছয় সপ্তাহের কোর্স ৩৬ হাজার, চার সপ্তাহের কোর্স ২২ হাজার ও এক সপ্তাহের কোর্স ফি ১৪ হাজার টাকা। এসব কোর্সের জন্য নেই কোনো নীতিমালা। বছরের যে কোনো সময় যে কেউ চাইলে কোর্সে ভর্তি হতে পারেন। শুধু প্রাইভেট প্রোগ্রাম নয়, রেগুলার এমবিএ করতেও শিক্ষার্থী প্রতি খরচ হয় ১ লাখ ২০ হাজার টাকা।

আরও পড়ুন: বিতর্কের মুখে ঢাবিতে সান্ধ্যকালীন কোর্সের ভর্তি পরীক্ষা স্থগিত

এসব প্রোগ্রামের অর্থ পায় না বিশ্ববিদ্যালয়, এমনকি এসব প্রোগ্রাম সম্পর্কেই জানে না তারা। বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থাপনা ব্যবহার করে এসব প্রোগ্রাম পরিচালনা করা হয়। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় এখান থেকে কোনো অর্থ পায় কি না এমন প্রশ্নে অধ্যাপক ফারহাত বলেন, ‘ইনস্টিটিউট বিবিএ’র জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কোনো ধরনের সহায়তা পায় না। সবাই তাদের শিক্ষা কার্যক্রম চালানোর জন্য অর্থ পায়। আমরা পাই না। বিশ্ববিদ্যালয় আমাদেরকে অর্থ সহায়তা দিবে না তার জন্য আমিতো বসে থাকব না। আমি লোকজনদের বাইরে পাঠাই, শিক্ষকদের স্কলারশিপে টাকা দেই এসবের কিছুই কি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আমাদের সহায়তা দেয়?’

তবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাজেটে দেখা যায়, ২০২০-২১ অর্থ বছরে আইবিএর জন্য ৫ কোটি ৯৩ লাখ টাকা বাজেট বরাদ্দ হয়েছে। এর আগের অর্থ বছরে ইনস্টিটিউটি ৫ কোটি ৬৪ লাখ টাকা খরচ করে। এরও আগে ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ৫ কোটি ৮৬ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। গবেষণার জন্যও কোনো বরাদ্দ হয় না বলে দাবি করেন তিনি। তবে বাজেটে ইনস্টিটিউটটির বইপত্র ও জার্নালের জন্য ১ লাখ ২০ হাজার ও প্রকাশনার জন্য ৮৫ হাজার টাকা বরাদ্দ পাওয়া যায়।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত হিসাব পরিচালক ইলিয়াস হোসেন জানান, আমরা সান্ধ্য কোর্স থেকে অর্থ পাই। তবে অন্য কোনো প্রোগ্রাম সম্পর্কে আমরা জানি না।

আরও পড়ুন: শতবর্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

এর আগে ২০১৯ সালের মে মাসে সান্ধ্য কোর্সের যৌক্তিকতা যাচাই করতে ‘সান্ধ্য কোর্স যৌক্তিকতা যাচাই কমিটি’ করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। ঐ কমিটি সুপারিশ করে, অর্থের বিনিময়ে কিছু শিক্ষার্থীর পরীক্ষা নিয়ে সার্টিফিকেট দিচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়, যা পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ধারণার সঙ্গে সংগতিপূর্ণ নয়। এতে করে বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ালেখার মান কমে যাওয়ার পাশাপাশি সনদের মান কমে যাচ্ছে বলে পর্যবেক্ষণ দেওয়া হয়।

সান্ধ্যকালীন কোর্স ও প্রাইভেট প্রোগ্রাম একটি নীতিমালার মধ্যে আনতে গত বছর সব প্রাইভেট প্রোগ্রামের বিষয়ে একটি কেন্দ্রীয় নীতিমালা করতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্যকে (শিক্ষা) আহ্বায়ক করে একটি কমিটি করে দেওয়া হয়। এ বিষয়ে উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. এ এস এম মাকসুদ কামাল বলেন, সান্ধ্য কোর্স ও প্রাইভেট প্রোগ্রামের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে একটি কমিটি হয়েছে। আমরা সব প্রোগ্রাম যাচাই-বাছাই করছি। যাচাই-বাছাই শেষে একটি নীতিমালা প্রণয়ন করে সুনির্দিষ্ট আওতার মধ্যে নিয়ে আসব।

ইত্তেফাক/ইউবি

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
আরও
আরও
x