পরীক্ষা স্থগিত হওয়ায় বিপাকে শাবি শিক্ষার্থীরা

পরীক্ষা স্থগিত হওয়ায় বিপাকে শাবি শিক্ষার্থীরা
ছবি: সংগৃহীত

চলমান পরীক্ষা স্থগিত হওয়ায় বিপাকে পড়েছেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। অর্থাভাব ও সময়মতো পরীক্ষা না হওয়ায় হতাশায় থাকা শিক্ষার্থীদের মধ্যে আরো বেশী হতাশা কাজ করছে।

১৭ মার্চ থেকে শুরু হওয়া প্রথম ধাপের পরীক্ষার্থীদের অনেকের এক থেকে দুইটা পরীক্ষা বাকী রয়েছে। কিন্তু এ মুহূর্তে পরীক্ষা বন্ধ হওয়ায় নানা রকম সমস্যায় পড়েছেন শিক্ষার্থীরা। ফলে সামাজিক মাধ্যমসহ বিভিন্ন মাধ্যমে ক্ষোভ ঝাড়ছেন ভোগান্তিতে পড়া সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

ফাইল ছবি

শাবি শিক্ষার্থী তাসনিম হৃদয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে লেখেন, হল না খুলে, পরীক্ষা নেয়ার কথা বলে জোরপূর্বক আমাদের সিলেট টেনে আনা হলো। জায়গা ম্যানেজ করতে কতটা কস্ট হয়েছে তা বলা বাহুল্য। এখন এত মেন্টাল প্রেশার আর ফিনান্সিয়াল ক্রাইসিস সহ্য করে যখন পরীক্ষা প্রায় শেষের দিকে, তখন এক্সাম স্থগিত হবে! ল্যাবে যে প্রানীগুলোর উপর এক্সপেরিমেন্ট করা হয়, এদেরও ত এত কষ্ট দেয়া হয় না!

আরেক শিক্ষার্থী নুসরাত মৌ লেখেন, এত কষ্ট দিয়ে সিলেট আনাইলেন, পরীক্ষা নিবেন, থাকার জায়গা ম্যানেজ করাইলেন, বাপ মায়ের থেকে যেমনে পারো, টাকা আনো, কিন্তু রেজিস্ট্রেশনও করাইলেন। আর এখন সরকারি ভার্সিটি! বাহ!

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের স্ক্রীনশর্ট

তামারা ফেরদৌস নামের এক শিক্ষার্থী লেখেন, একমাস ধরে চলমান পরিক্ষা বন্ধ করা কতটা যৌক্তিক? জুনিয়রদের পরীক্ষা বন্ধ করেন তাদের রুটিনও দেয় নাই কিন্তু আমাদের পরিক্ষা মাঝামাঝি বন্ধ কেন করতে হবে? এত দূর-দুরান্ত থেকে সবাই নিজ দায়িত্বে নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পরিক্ষা দিতে আসছে। যখন চাইলাম পরীক্ষা দিয়ে দিলাম, যখন ইচ্ছা বন্ধ করে দিলাম। আমাদের জান, মাল এর মূল্য নাই?

এ এস এম সায়েম নামের এক শিক্ষার্থী বলেন, পরীক্ষা শুরু হবে জানতে পেরে জানুয়ারি মাসে এসেছিলাম, এখন হটাৎ করে শুনি পরীক্ষা হবে না। অথচ আমারা একটামাত্র পরীক্ষা বাকী রয়েছে। এখন বাসা ছাড়তে গেলে আগামী মাসের টাকাও বাড়িওয়ালাকে পরিশোধ করতে হবে। কেননা, নিয়ম অনুযায়ী, বাসা ছাড়তে গেলে মাসের দশ থেকে পনেরো তারিখের মধ্যে জানানো লাগে। কিন্তু এ মুহ‚র্তে যে পরীক্ষা হবে না এটা জানতে পারলাম এ মাসের শেষের দিকে। এটা রীতিমত হয়রানি ছাড়া আর কিছুই না।

সার্বিক বিষয়ে শাবি ভিসি অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ বলেন, আমি শিক্ষার্থীদের আর্থিক কষ্ট বুঝছি। কিন্তু এ মুহূর্তে আমার কিছু করার নেই।

ইত্তেফাক/এনএ

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
আরও
আরও
x