অনলাইনে পরীক্ষা দেওয়ার পক্ষে মত ঢাবি শিক্ষার্থীদের

অনলাইনে পরীক্ষা দেওয়ার পক্ষে মত ঢাবি শিক্ষার্থীদের
ছবি: সংগৃহীত।

করোনা মহামারির মধ্যে দীর্ঘ এক বছরেরও বেশি সময় ধরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) ক্যাম্পাস বন্ধ থাকায় দীর্ঘ সেশনজটে পড়তে যাচ্ছে শিক্ষার্থীরা। এ সেশনজট থেকে উদ্ধার পাওয়ার জন্য অনলাইন পরীক্ষায় অংশগ্রহণে নিজেদের মত প্রকাশ করছেন তারা। শিক্ষার্থীদের ভ্যাকসিন দেওয়ার আগ পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের হল না খোলার সিদ্ধান্তের পর এমন মত প্রকাশ করছে তারা।

শিক্ষার্থীরা বলছে, দীর্ঘ সময় বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস বন্ধ থাকায় বড় ধরনের সেশনজটে পড়তে যাচ্ছে তারা। বর্তমান চাকরির বাজারের মূল্যায়নে এখনি নিজেদের প্রস্তুত করা প্রয়োজন। যার কারণে দ্রুত ক্লাস ও পরীক্ষা শেষ করা প্রয়োজন।

তবে দীর্ঘ এক বছরেরও বেশি সময় বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস বন্ধ থাকার কারণে অনলাইনে ক্লাস পরীক্ষা নেওয়ার পক্ষে মত দিচ্ছে শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থীরা বলছে, তাদের দীর্ঘ এক বছরেরও বেশি সময়ের সেশনজটে পড়ে রয়েছেন। চাকরির বাজারও অস্থিতিশীল। যার কারণে তারা অনলাইনে পরীক্ষায় বসতে চান। তাই দ্রুত পরীক্ষা অংশগ্রহণ করে নিজেদের চাকরির বাজারের জন্য প্রস্তুত করতে চান তারা।

পরীক্ষা গ্রহণের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ফেসবুক গ্রুপ স্বপ্নের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী নুর ই জান্নাত লিখেন ‘এক্সাম নিয়ে নিক। দুঃখিত এবার আর সুশীল হয়ে এক্সাম পেছানোয় সমর্থন করতে পারছি না৷ লোকে স্বার্থপর বললেও কিছু করার নাই। আর ঝুলে থাকা সম্ভব নয়। মাথার ওপর অনেক প্রেশার৷’

শ্রাবণী লিখেছেন, যেমনেই হোক পরীক্ষা দিতে চাই, এখন যেহেতু সবাই করোনা করোনা করতেছে, তাই যদি অনলাইন এ নেয় তাও দিতে চাই। কিন্তু একই বর্ষে আর না।

ফিন্যান্স বিভাগের শিক্ষার্থী আজিজুর রহমান রিজভী বলছেন, আমাদের সময় এগিয়ে যাচ্ছে, কিন্তু আমরা ঠায় ২০২০ সালেই দাঁড়িয়ে আছি। আমাদের এ অবস্থার পরিবর্তন প্রয়োজন। আমাদের পরিবার, সমাজ আমাদের দিকে তাকিয়ে আছে। কিন্তু আমাদের কিছু করার সাধ্য নেই এখন।

তবে অনলাইন পরীক্ষার বিরোরিতাও করছেন কিছু শিক্ষার্থী। তাদের দাবি, শিক্ষার্থীরা গ্রামে অবস্থান করার কারণে অনেক শিক্ষার্থী অনলাইন এক্সামে অংশগ্রহণ করতে পারবেন না। যার কারণে একটি দীর্ঘ বৈষম্যের সৃষ্টি হতে পারে, অনেকেই ঝরে পড়তে পারে। এমন আশঙ্কা থেকে তারা এ দাবি তুলছেন।

এমন দাবি করে শিক্ষার্থী জয় পাল লিখেন, অনলাইনে কো‌নো পরীক্ষা নেওয়া যাবে না। যেখানে ক্লাসই করতে পারি না আবার পরীক্ষা! যা হবে সরাসরি হবে। পরীক্ষা নিতে চাইলে সরাসরি নিতে হবে। একেই অনলাইন ক্লাসের কারণে অনেক শিক্ষার্থী মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে আর না।

এ ধরনের মতের বিরোধিতা করে শিক্ষার্থী নুর ই জান্নাত লিখেন, ‘যারা অনলাইন এক্সাম সম্ভব না বলছে তারা কি আরও কয়েক বছর সেশন জটে থাকতে চায়? এক্সাম কি হাজারটা? কয়েকটা কোর্সের এক্সাম, কয়েক ঘণ্টা নেটওয়ার্ক পাওয়া যায় এমন জায়গায় গিয়ে দিতে পারে। আর ফেসবুকিং ঠিকই করতে পারতেছে, এক্সামের বেলায় খালি বাহানা।’

ভূতত্ত্ব বিভাগের শিক্ষার্থী এ এস এম সাকিব লিখেন, ‘১৪ বার ডিসকানেকটেড হয়ে যাওয়া লাগবে, সেটা আমেরিকা ইউরোপে বসে পরীক্ষা দিলেও। সবারই তো আইফোন এবং ম্যাকবুক নেই। ওপেন বুক এক্সাম ছাড়া বাকি যেকোনো পরীক্ষা পদ্ধতি হবে চূড়ান্ত হাস্যকর পদ্ধতি।’

করোনা ভাইরাস মহামারি শুরু হওয়ার পর গত বছরের ১৮ মার্চ থেকে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস বন্ধ ঘোষণা করে। প্রথম দিকে অনলাইন ক্লাসে অনীহা দেখালেও জুলাইয়ের প্রথম সপ্তাহ থেকে পুরো দমে অনলাইন ক্লাস শুরু করে কর্তৃপক্ষ। তবে প্রশাসনের এমন সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে শিক্ষার্থীরা। অনলাইন ক্লাসের মাধ্যমে বৈষম্য তৈরি হয় এমন অভিযোগ এনে অনীহা দেখায় শিক্ষার্থীরা। তবে দীর্ঘ সেশনজটে পড়ার আশঙ্কায় এখন অনলাইন পরীক্ষায় বসতে রাজি হচ্ছে তারা।

ইত্তেফাক/এএএম

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
আরও
আরও
x