শিক্ষকদের গুলি করার হুমকি ছাত্রলীগ নেতার!

শিক্ষকদের গুলি করার হুমকি ছাত্রলীগ নেতার!
রাবিতে প্রক্টরের সঙ্গে ভিসিবিরোধী শিক্ষক ও ছাত্রদের হট্টগোল। ছবি: আজাহার উদ্দিন

শিক্ষকদের একাংশের বাধায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) পূর্বনির্ধারিত সিন্ডিকেট সভা পণ্ড হয়ে গেছে। গতকাল মঙ্গলবার সকাল ১০টায় উপাচার্যের বাসভবনস্থ লাউঞ্জে সিন্ডিকেটের এই সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল।

সিন্ডিকেট সভাকে ঘিরে উপাচার্য ভবনের সামনে ছাত্রলীগের সাবেক ও বর্তমান কমিটির নেতৃবৃন্দ এবং প্রগতিশীল শিক্ষকদের একাংশের মধ্যে ধাক্কাধাক্কির ঘটনাও ঘটে। এ সময় এক জন ছাত্রলীগ নেতা শিক্ষকদের গুলি করার হুমকি দেন বলে অভিযোগ করেছেন দুর্নীতিবিরোধী শিক্ষকদের নেতা অধ্যাপক সফিকুন্নবী সামাদী।

এদিকে দুপুরে শহীদুল্লাহ কলাভবনের সামনে এক সংবাদ সম্মেলনে দুর্নীতিবিরোধী শিক্ষকদের আহ্বায়ক অধ্যাপক সুলতানুল ইসলাম টিপু বলেন, গত সোমবার রাত ১০টার পর অবৈধভাবে নিয়োগ প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখতে উপাচার্য অধ্যাপক এম আব্দুস সোবহানের জামাতা ও আইবিএর প্রভাষক এ টি এম শাহেদ পারভেজ বহিরাগত সন্ত্রাসীদের নিয়ে রাতের আঁধারে সিনেট ভবনের তালা ভেঙে নিয়োগসংক্রান্ত কাগজপত্র চুরি করেন। এরপর মঙ্গলবার সকালে বহিরাগত সন্ত্রাসীদের সঙ্গে নিয়ে উপাচার্য ভবনের সামনে অবস্থান নেন। দুর্নীতিবিরোধী শিক্ষকরা ভিসির বাসায় গিয়ে শেষ সময়ের সিন্ডিকেট শান্তিপূর্ণভাবে বন্ধ করার চেষ্টা করলে প্রক্টর অধ্যাপক লুত্ফর রহমানের নেতৃত্বে শিক্ষকদের লাঞ্ছিত করা হয়। শিক্ষকরা ভিসির জামাতার শাস্তি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরের বিরুদ্ধে দায়িত্বহীনতার অভিযোগ তুলে পদত্যাগের দাবি জানান। এ সময় দুর্নীতিবিরোধী শিক্ষক নেতা বাংলা বিভাগের অধ্যাপক সফিকুন্নবী সামাদী, অধ্যাপক আলী রেজা অপু, জাহাঙ্গীর আলম সাউদ, তারিকুল হাসান, অধ্যাপক প্রদীপ কুমার পান্ডে, অধ্যাপক এস এম একরাম উল্লাহ, আবদুল্লাহ আল মামুন, আসাদুল হক প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

এ বিষয়ে মতামতের জন্য অভিযুক্ত প্রভাষক এ টি এম শাহেদ পারভেজের মোবাইলে ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি। তবে প্রক্টর অধ্যাপক লুত্ফর রহমান বলেন, ‘আমি পুলিশের মাধ্যমে জানতে পেরেছি গত সোমবার রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক জন শিক্ষক সিনেট ভবনের তালা ভেঙে সেখান থেকে কিছু ফাইল ও নথিপত্র নিয়ে আসেন।’

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রাবি উপাচার্যের শেষ সিন্ডিকেট সভাকে ঘিরে মঙ্গলবার সকাল থেকেই উপাচার্য ভবনের গেটে তালা লাগিয়ে সেখানে অবস্থান নিয়েছিল বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের বর্তমান ও সাবেক নেতাকর্মীরা। যারা দীর্ঘদিন থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকরির প্রত্যাশায় রয়েছে। এরপর উপাচার্য বিরোধী হিসেবে পরিচিত দুর্নীতিবিরোধী শিক্ষক সমাজের সদস্যরা সিন্ডিকেটের সভা বন্ধ করার জন্য সেখানে আসেন এবং তারা উপাচার্যের বাসভবনের ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা করেন। প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজের সদস্যরা বলেন, তারা যে কোনো মূল্যেই হোক আজকের সিন্ডিকেট অনুষ্ঠিত হতে দিবেন না।

আজকের সিন্ডিকেটের মাধ্যমে উপাচার্য অন্যায়ভাবে ‘গণনিয়োগ’ দিতে পারেন। এ সময় নিয়োগপ্রত্যাশী ছাত্রলীগ নেতাদের সঙ্গে শিক্ষকদের বাকবিতণ্ডা ও ধাক্কাধাক্কির ঘটনাও ঘটে। বিপুলসংখ্যক পুলিশ ও প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যদের সামনেই শিক্ষকদের সঙ্গে ধাক্কাধাক্কিতে জড়িয়ে পড়েন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষক ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের দ্বারা লাঞ্ছিত হন। এ সময় প্রক্টরও লাঞ্ছিত হন। এরপর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষে সিন্ডিকেট সভা স্থগিতের কথা জানানো হয়।

এ সময় দুর্নীতিবিরোধী শিক্ষকদের নেতা অধ্যাপক সফিকুন্নবী সামাদী অভিযোগ করে বলেন, ‘শিক্ষকদের উপাচার্য ভবনে ঢুকতে বাধা দেওয়া হয়েছে। এমনকি শিক্ষকদের গুলি করারও হুমকি দেওয়া হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের এভাবে হুমকি দেওয়ার দুঃসাহস কেউ রাখে না। এটি শিক্ষকদের নিরাপত্তার বিষয়। এর জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক আব্দুস সোবহানই দায়ী।’

ক্যাম্পাস ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গুলি করার হুমকি দেওয়া ঐ ছাত্রলীগ নেতার নাম আকাশ। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন মেহেরচন্ডী এলাকার বাসিন্দা। তবে আকাশ রাবি ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত নয় বলে দাবি করেছেন বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি গোলাম কিবরিয়া। তিনি বলেন, ‘আকাশ চাকরিপ্রত্যাশী ও স্থানীয় ছাত্রলীগের রাজনীতি করে।’

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে রাবি মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজের আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. হাবিবুর রহমান বলেন, পণ্ড হয়ে যাওয়া সিন্ডিকেট সভার সঙ্গে এডহক নিয়োগের কোনো সম্পর্ক নেই। অতীতে বিশ্ববিদ্যালয়ে এমন কোনো নজিরও নেই। এটা খারাপ দৃষ্টান্ত হয়ে গেল।

ইত্তেফাক/এএএম

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
আরও
আরও
x