নীলফামারীতে ঝরে পড়া শিশুদের জন্য হবে ২৮০টি স্কুল

নীলফামারীতে ঝরে পড়া শিশুদের জন্য হবে ২৮০টি স্কুল
[সংগৃহীত প্রতীকী ছবি]

প্রাক প্রাথমিক থেকে প্রাথমিক পর্যায়ে ৮ থেকে ১৪ বছর বয়সের ১৮ দশমিক ২ ভাগ শিক্ষার্থী ঝরে পড়ে। এখনও ২ ভাগ শিশু স্কুলে ভর্তি হয় না। সে হিসেবে দেশের ৩০ লাখ শিশু এখনও শিক্ষার বাইরে। তাদের শিক্ষার আওতায় আনতে ছয় মাসে শিক্ষা বর্ষে সারা দেশে ৩৪৫টি উপজেলায় ‘আউট অব স্কুল চিলড্রেন এডুকেশন’ (বিদ্যালয় বহির্ভূত ও ঝড়ে পড়া) প্রকল্প হাতে নিয়েছে সরকার।

এর মধ্যে নীলফামারীর ৪টি উপজেলায় প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে ওই কর্মসূচি জেলায় বাস্তবায়ন করবে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা গণ উন্নয়ন কেন্দ্র (জিইউকে)। উপজেলা গুলো হলো, নীলফামারী সদর, ডোমার, ডিমলা ও কিশোরগঞ্জ। প্রতিটি উপজেলায় ৭০টি করে উপানুষ্ঠানিক প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপন করা হবে। এভাবে জেলায় ২৮০টি বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা হবে। প্রত্যেকটি বিদ্যালয়ে ২৫ থেকে ৩০ জন ঝরে পড়া শিশু ভর্তি হতে পারবে।

No description available.

এছাড়াও প্রতিটি বিদ্যালয়ে একজন করে শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হবে। নিয়োগ কমিটি কমপক্ষে শতকরা ৫০ ভাগ নারী শিক্ষক নিয়োগ নিশ্চিত করবে। বিদ্যালয়টি দুই শিফটে পরিচালিত হবে। সকাল ৯টা থেকে বেলা ১২ টা ও বেলা ২টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত চলবে। শিক্ষার্থীরা প্রতি মাসে ১২০ টাকা করে উপবৃত্তি ও প্রতি বছর একসেট পোশাক, একটি করে স্কুলব্যাগ পাবেন।

উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর সহকারী পরিচালক মো. সাইদুর রহমান জানান, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন চতুর্থ প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচির (পিইডিপি-৪) আওতায় আউট অব স্কুল চিলড্রেন এডুকেশন এর লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। সে অনুযায়ী উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরো কর্তৃক ২০২৩ সালের জুন পর্যন্ত সময়সীমার মধ্যে বিদ্যালয় বহির্ভূত ১০ লাখ শিশুকে (৮-১৪ বছর বয়সী) উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা পদ্ধতির প্রাথমিক শিক্ষা প্রদান এবং তাদেরকে শিক্ষার মূলধারায় সংযুক্ত করার কার্যক্রম বাস্তবায়ন করবে।

নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী ১০ লাখ শিশুর মধ্যে এক লাখ শিশু এর আগে শেষ হওয়া পিইডিপি-৩ এর অধীনে ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০১৮ সালের জুন পর্যন্ত কর্মসূচির অন্তর্ভুক্ত ছিলো। এবার পিইডিপি-৪ এর প্রকল্প শুরু হচ্ছে। এবারের কর্মসূচির আওতাধীন চারটি মডালিটি হলো, এবিএল মডেল- ৪৫ মাস ব্যাপী কোর্স। প্রতিদিন ২ ঘণ্টা ৪০ মিনিট বিরতিসহ সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত পাঠদান। মাল্টিগ্রেড মডেল- ৪২ মাস মেয়াদী কোর্স, প্রতিদিন ২ ঘণ্টা বিরতিসহ সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত দুই শিফটে পাঠদান।

কোর্ট মডেল- ৪৮ মাস মেয়াদী কোর্স, প্রতিদিন ১ম ও ২য় শ্রেণির জন্য ৩ ঘণ্টা, ৩য় শ্রেণীর জন্য ৩ ঘণ্টা ৩০ মিনিট, ৪র্থ শ্রেণি ও ৫ম শ্রেণির জন্য ৪ ঘণ্টা পাঠদান করা হবে। শিখন মডেল-৪৮ মাস মেয়াদী কোর্স। প্রতিটি মডেলে ২৫-৩০ জন শিক্ষার্থীকে একটি শ্রেণীকক্ষে ন্যুনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা (এসএসসি) সম্পন্ন একজন শিক্ষক এনসিটিবির কারিকুলাম ও টেক্সট বই অনুসরণ করে পাঠদান করানো হবে। প্রত্যেক শিক্ষক প্রতিমাসে বেতন পাবে ৫ হাজার করে টাকা।

জিইউকের সমন্বয়কারী মো. আফতাব হোসাইন বলেন, এই প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ৬ কোটি ৬০ লাখ টাকা। এরমধ্যে বছরের বরাদ্দ ধরা হয়েছে ১ কোটি ৩২ লাখ টাকা। এটি ২০১৮ সালের জুলাই মাসে শুরু হয়েছে , আর শেষ হওয়ার কথা ছিল ২০২৩ সালের জুন মাসে। তবে করোনায় প্রকল্পটির কাজ বিলম্বিত হওয়ায় এর মুল কার্যক্রম শুরু হয় ২০২০ সালের মার্চ থেকে। এটি চলবে তিন বছরের জন্য।

জিইউকের জেলা প্রোগ্রাম ম্যানেজার আব্দুর রাজ্জাক জানান, প্রকল্পটি বাস্তবায়নে ওই চার উপজেলার উপজেলা চেয়ারম্যান, নির্বাহী কর্মকর্তা, মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা, প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও সাংবাদিকদের নিয়ে অবহিতকরন সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

এ ব্যাপারে, নীলফামারী সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোছা. এলিনা আকতার জানান,‘আউট অব স্কুল চিলড্রেন এডুকেশন’এই প্রকল্পটি সরকারের একটি নবদিগন্ত কর্মসূচি। আমরা আশা করছি, নতুন ডিজাইনের এই শিক্ষা ব্যবস্থা শিক্ষার্থীদের ঝড়ে পড়া রোধ করবে।

ইত্তেফাক/এমআর

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
আরও
আরও
x