ল্যাবের যন্ত্রপাতি নষ্টের আশঙ্কা

করোনায় বন্ধ জাবি
ল্যাবের যন্ত্রপাতি নষ্টের আশঙ্কা
দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা বিশ্ববিদ্যালয় খোলার দাবিতে গতকাল প্রতীকী ক্লাস নেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক মানস চৌধুরী—ইত্তেফাক

করোনা ভাইরাসের কারণে গত বছরের মার্চ মাস থেকে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) বন্ধ রয়েছে। এ সময়ে অনলাইনে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কার্যক্রম পরিচালিত হলেও ল্যাব ও বৈজ্ঞানিক যন্ত্রপাতির সঠিক ব্যবহার হচ্ছে না। ফলে দীর্ঘদিন অব্যবহৃত থাকায় ল্যাবের যন্ত্রপাতিগুলো নষ্টের আশঙ্কা করছেন বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্টরা। তবে যন্ত্রপাতি ঠিক রাখতে মাঝেমধ্যেই সচল ও যথাযথ পরিচর্যা করা হয় বলে জানিয়েছে ল্যাব কর্তৃপক্ষ।

সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগে কয়েকটি কম্পিউটারের সমন্বয়ে একটি করে কম্পিউটার ল্যাব রয়েছে। এর মধ্যে, কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগেই ২০০-র বেশি কম্পিউটার ও ইনস্টিটিউিট অব ইনফরমেশন টেকনোলজিতে (আইআইটি) ১০০-র বেশি কম্পিউটার রয়েছে। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভাগগুলোর ক্লাসরুমে দামি ইলেকট্রনিক প্রজেক্টরও রয়েছে। তবে দীর্ঘদিন বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকায় কম্পিউটার ও প্রজেক্টরগুলো অব্যবহৃত রয়েছে।

জাবির ভর্তি পরীক্ষার আবেদন শুরু ১ জুন

এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকটি বিভাগ ও ইনস্টিটিউটের বিশেষায়িত ল্যাবরেটরি, ওয়াটার রিসার্চ সেন্টার ও ওয়াজেদ মিয়া বিজ্ঞান গবেষণা কেন্দ্রে কোটি টাকা মূল্যের বৈজ্ঞানিক যন্ত্রপাতি রয়েছে। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকায় সেগুলোর সঠিক ব্যবহার হচ্ছে না। এতে কম্পিউটার ও প্রজেক্টরের পাশাপাশি ইউভি-ভিস স্পেকট্রোমিটার, ল্যাবরেটরি থার্মোমিটার, ক্রোমাটোগ্রাফিক ইন্সট্রুমেন্টস, পিএইচ মিটার, ডিজোল্যুশন অ্যাপারেটাস, ডিজিটাল ওয়েট মেশিন ও আল্ট্রাসনিক সনিকেটরের মতো মূল্যবান যন্ত্রপাতিগুলো নষ্ট হওয়ার ও রেফ্রিজারেটরে রাখা কেমিক্যালগুলোর কার্যক্ষমতা কমে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় খোলার পরে নতুন করে বিদেশ থেকে এসব কেমিক্যাল রি-এজেন্ট আনা সময়সাপক্ষ ও ব্যয়বহুল।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধের প্রাথমিক পর্যায়ে রসায়ন বিভাগের ল্যাবের রেফ্রিজারেটরসহ কিছু যন্ত্র নষ্ট হয়। তবে দ্রুত সেগুলো পরিবর্তন করা হয়। এছাড়া কিছু বিস্ফোরক বিপজ্জনক পর্যায়ে উন্নীত হলেও শেষ পর্যায়ে রক্ষণাবেক্ষণের কারণে বড় ধরনের বিপদ হয়নি। অন্যদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়াজেদ মিয়া বিজ্ঞান গবেষণাকেন্দ্রের একটি আইপিএস নষ্ট হয়। এতে বিদ্যুত্ চলে গেলে রেফ্রিজারেটরগুলো বন্ধ হয়ে কেমিক্যাল নষ্টের শঙ্কা তৈরি হয়। পরে দ্রুত বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলে গবেষণাকেন্দ্রের জন্য নতুন একটি আইপিএস কেনা হয়।

সুবর্ণজয়ন্তীতে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান কারখানার সিনিয়র নির্বাহী প্রকৌশলী (যন্ত্র) গোলাম মোস্তফা বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান কারখানার যন্ত্রপাতি নষ্টের সম্ভাবনা কম। কিন্তু বিভিন্ন বিভাগের ল্যাবের যন্ত্রপাতির ব্যাপক ক্ষতি হবে। যন্ত্রপাতিগুলোর যথাযথ পরিচর্যা ও রক্ষাণাবেক্ষণ করলে ক্ষতির পরিমাণ কিছুটা কম হবে। তবে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে যন্ত্রপাতিগুলোর যথাযথ পরিচর্যা ও রক্ষাণাবেক্ষণের জন্য একটি দল থাকলেও আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে নেই।

কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক লিটন জুড রোজারিও বলেন, দীর্ঘদিন কম্পিউটারগুলো অচল থাকলে নষ্ট হওয়ার শঙ্কা দেখা দেয়। তাই কম্পিউটারগুলো সচল করতে বিভাগের কর্মচারীদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তারা কিছুদিন পর পর কম্পিউটারগুলো চালু করেন। তাই আশা করি, আমাদের বিভাগের কম্পিউটারগুলো খুব বেশি সমস্যা হবে না।

ইত্তেফাক/কেকে

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
আরও
আরও
x