রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৪ ছাত্রের চুল কেটে দিলেন শিক্ষক

রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৪ ছাত্রের চুল কেটে দিলেন শিক্ষক
রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় [ছবি: সংগৃহীত]

সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৪জন ছাত্রের মাথার চুল কাঁচি দিয়ে কেটে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ উঠেছে এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে।

রবিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) পরীক্ষার হলে ঢোকার আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর ফারহানা ইয়াসমিন জোর করে কাঁচি দিয়ে ওই শিক্ষার্থীদের চুল কেটে লাঞ্ছিত করেন বলে অভিযোগ উঠে।

ঘটনার প্রতিবাদে সোমবার (২৭ সেপ্টেম্বর) শিক্ষার্থীরা পরীক্ষা বর্জন করে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করার জন্য বিসিক বাসস্ট্যান্ড এলাকায় রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের অস্থায়ী ক্যাম্পাস-১-এর গেটে জড়ো হন। এ সময় অভিযুক্ত শিক্ষক ও তার ভাড়াটিয়া গুণ্ডা বাহিনী তাদের পরীক্ষায় ফেল করিয়ে দেওয়ার ভয়ভীতি দেখিয়ে ও অকথ্য ভাষায় গালাগালি করে পরীক্ষার হলে যেতে বাধ্য করে। এ ঘটনার পর থেকে ওই বিভাগের শিক্ষার্থীরা আবারও হুমকি-ধমকির আশঙ্কায় আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে। অনেকেই এ বিষয়ে মুখ খুলতে ভয় পাচ্ছে।

এ ঘটনায় লাঞ্ছিত একাধিক শিক্ষার্থী জানিয়েছেন, কয়েকদিন আগে ক্লাস চলাকালে ওই শিক্ষক চুল বড় রাখার বিষয়ে ছাত্রদের বকাঝকা করেন। তার ভয়ে সবাই পরদিনই চুল ছোট করেন।

তারা আরও জানায়, পরীক্ষার হলে ঢোকার সময় আগে থেকেই দরজার সামনে ওই শিক্ষক কাঁচি হাতে দাঁড়িয়ে ছিলেন। যাতের চুল মুঠোর মধ্যে ধরা গেছে, তাদের মাথার সামনের বেশ খানিকটা চুল তিনি কাঁচি দিয়ে কেটে দিয়েছেন। তারা আরও জানায়, সবার সামনে এ ভাবে তাদের লাঞ্ছিত করার পর ওই শিক্ষক জোর করে তাদের পরীক্ষা দিতে বাধ্য করেছেন। এই অপমান সহ্য করতে না পেরে তাদের অনেকে নাওয়া খাওয়া ছেড়ে দিয়েছে। অনেকে পড়ালেখার পাঠ চুকিয়ে বাড়ি চলে যাওয়ার চিন্তাভাবনা করছে। ফলে লাঞ্ছিত এ ১৪জন শিক্ষার্থীর শিক্ষা জীবন অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও বাংলাদেশ অধ্যয়ন বিভাগের চেয়ারম্যান সহকারী প্রক্টর ফারহানা ইয়াসমিন বাতেন অত্যন্ত বদরাগী ব্যক্তি কথায় কথায় শিক্ষার্থীদের বকাঝকা করে থাকেন।

এদিকে এ ঘটনাটি রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট দিলে তা মুহূর্তে ভাইরাল হয়ে যায়।

এ বিষয়ে জান্নাতুল ফেরদৌস মুনি বলেন, ‘এটা তার একান্ত ব্যক্তিগত ব্যাপার। এখানে আমরা হস্তক্ষেপ করতে পারি না। তা ছাড়া বিষয়টি ওই সময়ই মিমাংসা হয়ে গেছে। এটা নিয়ে আর ঘষামাজা করার কিছু নেই।’

এ বিষয়ে সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও বাংলাদেশ অধ্যায়ন বিভাগের চেয়ারম্যান সহকারী প্রক্টর ফারহানা ইয়াসমিন বাতেন বলেন, ‘এ ধরনের কোন বিষয় আমার জানা নেই। এ ধরণের ঘটনা ঘটেনি তাও বলছি না। তবে কয়েকদিন আগে কিছু ছাত্র আমার কাছে এসে পরীক্ষা পিছিয়ে দিতে বলেছিল। আমি এতে রাজি হয়নি। হয়তো সেই রাগে তারা এ ধরণের অপপ্রচার চালিয়েছে।’

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘অন্য বিভাগের ছাত্ররা মিথ্যা গুজব ছড়াতে ফেসবুকে এসব দিয়েছে। আমার বিভাগের কোন ছাত্র দেয়নি। এটা একটা গুজব। আমার একটু রাগ বেশি ঠিক আছে। কিন্তু আমি কখনও কাউকে বকাঝকা করি না।’

রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসির অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত ও ট্রেজারার আব্দুল লতিফ বলেন, ‘বিষয়টি আমার জানা নেই। এই প্রথম শুনলাম। কোন লিখিত অভিযোগও পাইনি। ভুক্তভোগীরা এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ দিলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ইত্তেফাক/এমআর

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
আরও
আরও
x