ঢাকা মঙ্গলবার, ২১ মে ২০১৯, ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬
৩৫ °সে


‘আমাদের কুকুরের মতো রাস্তায় ফেলে মারলে আমরা কোথায় দাবি জানাবো?’ চবি শিক্ষার্থীরা

‘আমাদের কুকুরের মতো রাস্তায় ফেলে মারলে আমরা কোথায় দাবি জানাবো?’ চবি শিক্ষার্থীরা
মানববন্ধনে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। ছবিঃ ইত্তেফাক।

বিক্ষোভ মিছিলে সাধারণ শিক্ষার্থীরা বলেন, ‘আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা কোথায় গেলে নিরাপদ? আমাদের অভিভাবক বিশ্ববিদ্যালয় প্রসাশনের অনুপস্থিতিতে আমাদের ক্যাম্পাসে ঢুকে আমাদের কুকুরের মতো রাস্তায় ফেলে মারে তাহলে আমরা কোথায় গিয়ে আমাদের দাবিগুলো জানাবো? আমাদের অধিকারগুলো নিশ্চিত করবে কে?’

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ১ নং গেইটের সামনে চট্টগ্রাম-রাঙ্গামাটি-খাগড়াছড়ি মহাসড়কে ফুট ওভার ব্রিজ, স্পিড ব্রেকার, গতিসীমা নির্ধারণের দাবিতে এবং সাধারণ শিক্ষার্থীর ওপর পুলিশের গণপিটুনির প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন করেছে। মানববন্ধনে তারা ওপরের কথাগুলি বলে।

বৃহস্পতিবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সামনে এ বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন পালন করে তারা। এ সময় হাটহাজারী থানার ওসি বেলাল উদ্দিন জাহাঙ্গীর ও এস আই হাবিবের পদত্যাগের দাবি জানায়। পরে বিশ্ববিদ্যালযের প্রক্টরের আশ্বাসে তারা বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন থেকে সরে আসে।

জানা যায়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান বিভাগের ২০১৫-১৬ সেশনের এম.এম.এইচ. হৃদয় নামে এক শিক্ষার্থীকে চট্টগ্রাম-রাঙ্গামাটি-খাগড়াছড়ি মহাসড়কে গত বুধবার রাত ১০টার দিকে একটি পিকআপ ধাক্কা মারে। এতে মারাত্মকভাবে আহত হয় হৃদয়। পরবর্তীতে তাকে স্থানীয়রা মদনহাট নামক জায়গায় গ্রীন হেলথ ক্লিনিকে নিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হয়। আহতের অবস্থার অবনতি হলে তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করে।

তাৎক্ষণিকভাবে সড়ক দুর্ঘটনার প্রতিকার চেয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীরা চট্টগ্রাম-রাঙ্গামাটি-খাগড়াছড়ি মহাসড়কে অবস্থান নেয়। এ সময় হাটহাজারী থানার পুলিশ বাহিনী সিভিল ড্রেসে ঘটনাস্থলে এসে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কোন ধরনের কথা না বলে বেধড়ক পেটাতে থাকে এবং অকথ্য ভাষায় গালাগালি করে। সে সময় বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হয়। পরবর্তীতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের হস্তক্ষেপের আসায় আবার সাধারণ শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের জিরো পয়েন্টের মূল গেটে অবস্থান নেয়। সে সময় প্রায় ১ ঘন্টা গেইট অবরোধ করে রাখে শিক্ষার্থীরা। পরে সেখানে পুনরায় পুলিশ শিক্ষার্থীদের ওপর লাঠিচার্জ করে। সে সময় বেশ কয়েকজন আহত হয়। তার প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সামনে এ বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন করে সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

সাধারণ শিক্ষার্থীর ব্যানারে চবি ছাত্রলীগের সাবেক উপ আপ্যায়ন বিষয়ক সম্পাদক মিজানুর রহমান বিপুল বলেন, ‘চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ১ নং গেইটের সামনে ব্রিজ, স্পিড ব্রেকার, গতিসীমা নির্ধারণ করতে হবে। গতকাল রাতে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশ যে হামলা করেছে তার দায় নিয়ে ওসি বেলাল ও এস আই হাবিবকে পদত্যাগ করতে হবে।’

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর মোহাম্মদ আলী আজগর চৌধুরী বলেন, ‘রাতের ঘটনার জন্য আমি দুঃখ প্রকাশ করছি, নিন্দা জানাচ্ছি। আমাকে না জানিয়ে আমাদের শিক্ষার্থীর ওপর পুলিশ এ হামলা চালিয়েছে। যারা এর সঙ্গে জড়িত তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য আমরা চেষ্টা করবো।’

আরও পড়ুনঃ পাসপোর্ট ভেরিফিকেশনে বিচারপতির বাসায় গিয়ে ঘুষ দাবি, কারাগারে এএসআই

তিনি আরো বলেন, ‘আমাদের শিক্ষার্থীরা সব সময় ন্যায্য দাবির জন্য আন্দোলন করবে এটা স্বাভাবিক। আমরা সে বিষয়ে দেখবো। এছাড়াও আগামীকাল থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ১ নং গেইটের সামনে স্পিড ব্রেকারের কাজ শুরু হবে। ফুট ওভার ব্রিজ করার জন্য আমরা সিদ্ধান্ত নিব। তবে তোমাদের আন্দোলন নিয়ে যেন কেউ স্বার্থ হাসিল করতে না পারে সে দিকে খেয়াল রাখার অনুরোধ জানাই।’

ইত্তেফাক/নূহু

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
২১ মে, ২০১৯
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন