ঢাকা সোমবার, ২২ এপ্রিল ২০১৯, ৯ বৈশাখ ১৪২৬
৩৪ °সে

বাংলাদেশের গণহত্যাকে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি দিতে হবে: অধ্যাপক আনিসুজ্জামান

বাংলাদেশের গণহত্যাকে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি দিতে হবে: অধ্যাপক আনিসুজ্জামান
জাতীয় অধ্যাপক আনিসুজ্জামান। ফাইল ছবি।

বাংলাদেশের গণহত্যাকে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন জাতীয় অধ্যাপক আনিসুজ্জামান। সোমবার বাংলা একাডেমির রবীন্দ্র চত্বরে ‘গণহত্যা: হাড়ের এই ঘরখানি’ শীর্ষক আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ দাবি করেন।

মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উদযাপন উপলক্ষ্যে এ আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। এতে স্বাগত ভাষণ রাখেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক কবি হাবীবুল্লাহ সিরাজী। প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন শহীদ সন্তান সাংবাদিক জাহিদ রেজা নূর। এছাড়া অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটির সভাপতি ও ডাকসুর সাবেক ভিপি মাহফুজা খানম প্রমুখ।

এ সময় অধ্যাপক আনিসুজ্জামান ২৫ মার্চ এবং মুক্তিযুদ্ধের প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করে বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের নয় মাসে অনেক গণহত্যার পর আমরা এই দেশটি পেয়েছি। আজকে একটা চেষ্টা হচ্ছে আর্ন্তজাতিকভাব এই গণহত্যাকে স্বীকৃতি দেওয়ার। আমি কোনো গণহত্যাকে ছোট করে দেখতে চাই না। কিন্তু একথা বলতে পারি আমাদের চাইতে কম সংখ্যক লোক মারা গেছে এরকম গণহত্যাকেও আর্ন্তজাতিভাবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। সে কারণে আমাদের গণহত্যাকেও স্বীকৃতি দেয়ার দাবি জানাই। আশা করি বাংলাদেশ সরকার যে প্রচেষ্টা চালাচ্ছে সেটা শেষ পর্যন্ত সুফল বয়ে আনবে।’

আলোচকের বক্তব্যে আরেক শহীদ সন্তান এবং প্রজন্ম একাত্তরের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি সাইদুর রহমান বলেন, ‘আজকের দিনটি আমার জন্য খুবই কষ্টের। কারণ এই দিন ৫৬ হাজার বর্গ মাইলের এই দেশটির জন্য প্রথমে হারিয়েছি আমার বাবাকে। পরে মাসহ আমার তিন ভাইকে। বাবাকে ২৫ মার্চে হত্যার করা হয়, একই সঙ্গে সেদিন মাকেও বেয়োনেট দিয়ে আঘাত করা হয়। কিন্তু মা তখন মরেনি, তিনি বেঁচে ছিলেন। আর যখন পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীরা বুঝতে পেরেছিল যে তিনি বেঁচে আছেন তখন তাকে জীবন্ত গর্তের মধ্য পুঁতে ফেলা হয়েছে।’

আরও পড়ুনঃ ঢাবিতে ‘গণহত্যা দিবস’ পালিত

বাংলাদেশে মুক্তিযোদ্ধাদের বর্তমানে মানবেতর জীবনের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এইদেশে মুক্তিযোদ্ধাদের বিশেষ কোনো অনুষ্ঠান বা দিনে সম্মান করা হচ্ছে না। মুক্তিযোদ্ধাদের কেউ রিক্সা চালাচ্ছেন, ভিক্ষা করছেন। তাদের সম্মান না করা হলে নতুন প্রজন্মও তাদের সম্মান করতে শিখবে না। তখন তাদের মধ্যে দেশপ্রেম জাগ্রত হবে। মুক্তিযুদ্ধে এই দেশের ৯৫ শতাংশ মানুষের অর্জন রয়েছে। আজকাল তাদের অর্জন আর ত্যাগ পাঁচ শতাংশের কাছে উৎসব হয়ে গেছে।’

ইত্তেফাক/নূহু

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
২২ এপ্রিল, ২০১৯
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন