ঢাকা সোমবার, ১৪ অক্টোবর ২০১৯, ২৯ আশ্বিন ১৪২৬
২৬ °সে


শিক্ষার্থীদের দাবি মেনে নিল প্রশাসন, অনশন প্রত্যাহার

শিক্ষার্থীদের দাবি মেনে নিল প্রশাসন, অনশন প্রত্যাহার
বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার অধ্যাপক ড. সেলিম ভূইয়া আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদেরকে ফলের জুস পান করিয়ে অনশন ভাঙান। ছবি-সংগৃহীত

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) সাধারণ শিক্ষার্থীদের সাত দফা দাবি মেনে নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। সোমবার বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ, তথ্য ও প্রকাশনা দপ্তর থেকে রেজিস্ট্রার প্রকৌশলী মো. ওহিদুজ্জামান স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়। কর্তৃপক্ষ দাবি মেনে নেয়ায় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা অনশন কর্মসূচি প্রত্যাহার করেছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আগামী ৪৫ (পয়ঁতাল্লিশ) কার্যদিবেসের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় আইন সংশোধনের জন্য সুপারিশ প্রদান ও ‘জকসু’ গঠণতন্ত্র প্রণয়ন করা হবে। কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী ‘জকসু’ গঠনতন্ত্র প্রণয়ন করে বিশ্ববিদ্যালয়ের আসন্ন প্রথম সমাবর্তন শেষে নির্বাচনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। আগামী আগস্ট, ২০১৯-এর মধ্যে ১০টি একতলা ও ১টি ১তলা বাস সরবরাহ করা হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন পুলে বাসগুলির অন্তরর্ভূক্তিতে পরিবহন সমস্যার সমাধান হবে। উপরোক্ত ১১টি বাস পরিবহন পুলে যুক্ত হলে প্রতিটি রুটে বাসের সংখ্যা দ্বিগুণ করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা করা হবে। ফলশ্রুতিতে ছাত্র-ছাত্রীদের বিদ্যমান পরিবহন সমস্যার সমাধান হবে।

আগামী ৩০ ডিসেম্বর, ২০১৯ এর মধ্যে ছাত্রী হলের নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের নিকট হস্তান্তর করবে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে সরকারের পক্ষ থেকে জানিয়ে দেয়া হয়েছে যে, হল হস্তান্তরের সময়সীমা আর কোনভাবেই বৃদ্ধি করা হবে না। শিক্ষক নিয়োগে এবার থেকে এই জবি শিক্ষার্থীদের হার বৃদ্ধি করা হবে। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যান্টিকে অত্যাধুনিক রুপে গড়ে তুলতে ইতোমধ্যে কাজ শুরু করা হয়েছে। আগামী এক মাসের মধ্যেই ক্যান্টিনের সকল সমস্যার সমাধান করা হবে।

এ বছর গবেষণা খাতে বাজেট বরাদ্দ রয়েছে ১ কোটি ৭০ লক্ষ টাকা। যা অন্য যে কোন বছরের চাইতে অনেক বেশি। শিক্ষার্থীদের আগ্রহ থাকলে এই খাতে বরাদ্দ আরও বৃদ্ধি করা হবে। বর্তমানে অত্র বিশ্ববিদ্যালয়ের শতাধিক শিক্ষক বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থায়নে গবেষণায় নিয়োজিত রয়েছেন।

গত ১ জুলাই থেকে সাধারণ শিক্ষার্থীরা সাত দফা দাবি নিয়ে আন্দোলন করে আসছিল। আন্দোলনের এক পর্যায়ে গত রবিবার কয়েকজন শিক্ষার্থী আমরণ অনশনে বসেন। সোমবার সন্ধ্যা ৬টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার অধ্যাপক ড. সেলিম ভূইয়া আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদেরকে ফলের জুস পান করিয়ে তাদের অনশন ভাঙেন। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়র রেজিস্ট্রার প্রকৌশলী মো. ওহিদুজ্জামান, প্রক্টর ড. মো.নূর মোহাম্মদসহ সহকারী প্রক্টররা উপস্থিত ছিলেন।

উপাচার্য অধ্যাপক ড. মীজানুর রহমান বলেছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে অনশনরত শিক্ষার্থীদের দাবীর বিষয়ে কর্তৃপক্ষ যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

এমতাবস্থায় শিক্ষার্থীদের অনশন প্রত্যাহার করে নিয়মিত ক্লাস ও পরীক্ষায় অংশগ্রহণ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশ বিঘ্নিত হয় বা বাঁধাগ্রস্ত হয় এমন সকল কার্যক্রম থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান তিনি।

ইত্তেফাক/কেআই

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
১৪ অক্টোবর, ২০১৯
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন