ঢাকা সোমবার, ২১ অক্টোবর ২০১৯, ৫ কার্তিক ১৪২৬
২৬ °সে


বশেমুরবিপ্রবিতে উপাচার্যের পতনের দাবিতে আন্দোলন চলছে

বশেমুরবিপ্রবিতে উপাচার্যের পতনের দাবিতে আন্দোলন চলছে
বশেমুরবিপ্রবি ভিসি অধ্যাপক ড. খোন্দকার নাসিরউদ্দিনের পদত্যাগের দাবিতে চতুর্থ দিনের মতো চলছে আন্দোলন। ছবি-ইত্তেফাক

গোপালগঞ্জ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বশেমুরবিপ্রবি) ভিসি অধ্যাপক ড. খোন্দকার নাসিরউদ্দিনের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন অব্যাহত রেখেছে শিক্ষার্থীরা। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের উপর বহিরাগতদের হামলার পর উদ্বেগ, উৎকন্ঠা সত্ত্বেও আজ রবিবার চতুর্থ দিনের মতো এই আন্দোলন চলছে। এদিন ভিসির পদত্যাগের দাবিতে শিক্ষার্থীরা গণস্বাক্ষর অভিযানও শুরু করে।

এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভুত পরিস্থিতিতে করণীয় নিয়ে জেলা প্রশাসন, আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের সাথে বৈঠক করেছে।

রবিবার দুপুরে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান চৌধুরী এমদাদুল হক, সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব আলী খান বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়ে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে আন্দোলনে সংহতি প্রকাশ করেন। মাহাবুব আলী খান বলেন, আমাদের এমপি সাহেব ও আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম ও হাইকমান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য আমাদের নির্দেশ দিয়ে পাঠিয়েছেন। আমরা অনুরোধ রাখবো তোমরা একটি আল্টিমেটাম দিয়ে আন্দোলন প্রত্যাহার করবে।

এ সময় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে তাদের আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেয়। এ সময় আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

গত বৃহস্পতিবার সকাল থেকে শিক্ষার্থীরা ভিসির পদত্যাগ না করা পর্যন্ত আমরণ অনশনের ঘোষণা দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে অনশন শুরু করে। আন্দোলন থামাতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ শনিবার এক বিজ্ঞপ্তি জারি করে ২২ সেপ্টেম্বর থেকে ৩ অক্টোবর বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করে। বিজ্ঞপ্তিতে শিক্ষার্থীদের সকাল ১০ টার মধ্যে হল ত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হয়। এসময় হলের খাবার ও পানি সরবরাহ বন্ধ করে দেয়া হয়।

আরও পড়ুন : মিন্নিকে পাশে বসিয়ে ব্রিফ করলেন তার আইনজীবী

ওইদিন দুপুরেই ভিসি সমর্থক বহিরাগতরা আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের উপর হামলা করে। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত তিন সাংবাদিকসহ অন্তত ২০ শিক্ষার্থী আহত হয়। তারপরও সাধারণ শিক্ষার্থীরা পিছু না হটে ৪র্থ দিনের মতো ভিসির পতন আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন তারা।

শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, ভিসি সমর্থিত শিক্ষকরা তাদের ব্যক্তিগতভাবে ডেকে নিয়ে আন্দোলন থেকে সরে দাড়ানোর কথা বলছে। তা না হলে তাদের সার্টিফিকেট আটকে রাখা, ক্লাস ও পরীক্ষার সময় দেখে নেয়ার হুমকি দিচ্ছে। বহিরাগতদের হামলার পর উদ্বেগ, উৎকণ্ঠা, অজানা আতঙ্ক আর হুমকির মুখে শিক্ষার্থীরা আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে বলে জানান তারা।

বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিস্কৃত সাবেক শিক্ষার্থী সম্রাট বিশ্বাস বলেন, ২০১৬ সালে আমি সহ ৪ জনকে প্রথম ৩ বছরের জন্য বহিস্কার করা হয়। এ নিয়ে ভিসি আমার পিতার সাথে চরম দুর্ব্যবহার ও অপমান করেন। পরে আমরা হাইকোর্টে রিট করে ছাত্রত্ব ফিরে পাই।

আইন বিভাগের শিক্ষার্থী সোহাগ হোসেন বলেন, স্বৈরাচারী এ ভিসি বিশ্বিবিদ্যালয়টিকে দুর্নীতি, অনিয়ম, অন্যায়, অত্যাচার, নির্যাতন ও লুটপাটের কারখানায় পরিণত করেছেন। তিনি কথায় কথায় শিক্ষার্থীদের বহিষ্কার করেন। জৈষ্ঠ্যতা লংঘন করে নিজের পছন্দের শিক্ষকদের বিভাগীয় চেয়ারম্যান নিয়োগ দিয়ে আসছেন। এ ছাড়া ভিসি বিরোধী প্রায়ই শিক্ষকদের শোকজ করে মানসিক নির্যাতন করা হয়।

তিনি আরও বলেন, এ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভিসির ছত্রছায়ায় শিক্ষার্থীদের ওপর এর আগেও হামলার ঘটনা ঘটেছে। এবার হমলার পর শিক্ষার্থীরা ফুঁসে উঠেছে। আগে তারা ভয়ে কথা বলত না। এখন মুখ খুলতে শুরু করেছে। ভিসির পতন না হওয়া পর্যন্ত তারা আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার বলে ঘোষণা দিয়েছে। সরকার তদন্ত কমিটি গঠন করে তদন্ত করলে আমাদের কাছে যে, তথ্য-উপাত্ত আছে তাতেই ভিসি ফেঁসে যাবেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক শামস্ আরা খান বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা আন্দোলন করছে। তাদের ওপর বহিরাগরা যাতে হামলা করতে না পরে সে বিষয়টি আমরা পর্যবেক্ষণ করছি।’ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর খোন্দকার নাসির উদ্দিন বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগতভাবে ডেকে নিয়ে শিক্ষকরা আন্দোলন থেকে সরে যেতে হুমকি দিচ্ছে না। এমনটি হওয়ার সুযোগ নেই। আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিস্থিতি নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, এমপি মহোদয়, শিক্ষামন্ত্রী, শিক্ষা মন্ত্রণালয়, জেলা প্রশাসন, জেলা আওয়ামী লীগ , যুবলীগ, ছাত্রলীগকে জানিয়েছি। এছাড়া এ সমস্যার শান্তিপূর্ণ সমাধানের চেষ্টা আমরা চালিয়ে যাচ্ছি।

গত ১১ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ও দ্য ডেইলি সানের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি ফাতেমা-তুজ-জিনিয়াকে অন্যায়ভাবে বহিষ্কার করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এর প্রতিবাদে বাংলাদেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত সাংবাদিকরা আন্দোলন শুরু করেন। আন্দোলনের মুখে বুধবার ১৮ সেপ্টেম্বর জিনিয়ার বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। ওইদিন রাতেই শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ২০টি কারণ উল্লেখ করে ভিসি পতনের আন্দোলন শুরু করে।

ইত্তেফাক/কেআই

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
২১ অক্টোবর, ২০১৯
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন