বশেমুরবিপ্রবির শিক্ষার্থীদের উপর হামলার প্রতিবাদে জবিতে বিক্ষোভ

প্রকাশ : ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১৮:১০ | অনলাইন সংস্করণ

  জবি সংবাদদাতা

বশেমুরবিপ্রবিতে শিক্ষার্থীদের উপর হামলার প্রতিবাদে জবিতে প্রগতিশীল ছাত্র জোটের মানববন্ধন। ছবি-ইত্তেফাক

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বশেমুরবিপ্রবি) শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে সন্ত্রাসী হামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) শিক্ষার্থীরা। হামলার ঘটনায় বিচার দাবিতে প্রগতিশীল ছাত্রজোট, বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র সংরক্ষণ পরিষদ এবং জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া গোপালগঞ্জ জেলার সাধারণ শিক্ষার্থীরা দফায় দফায় মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছেন।

রবিবার জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শান্ত চত্বরে দুপুর ১২টায় প্রগতিশীল ছাত্রজোট, দুপুর ১টায় গোপালগঞ্জ জেলার সাধারণ শিক্ষার্থীরা এবং দুপুর দেড়টায় বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র সংরক্ষণ পরিষদ মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেন।

মানববন্ধনে বক্তারা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (বশেমুরবিপ্রবি)-এর শিক্ষার্থীদের উপর হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান এবং জড়িতদের বিচার দাবি করেন। উপাচার্যের নানা অপকর্ম উল্লেখপূর্বক তার অপসারণের দাবিও জানান তারা।

আরও পড়ুন : মতিঝিলে চার ক্লাবে অভিযান, মিলেছে জুয়া খেলার সরঞ্জাম

এসময় বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র সংরক্ষণ পরিষদ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখার আহবায়ক রাইসুল ইসলাম নয়ন বলেন, যে উপাচার্য প্রাইমারি স্কুলের প্রধান শিক্ষক হওয়ার যোগ্যতা রাখে না, তাকে বশেমুরবিপ্রবির উপাচার্য বানানো হয়েছে। আমরা তার অপসারণ দাবি করছি। এছাড়াও বশেমুরবিপ্রবিতে শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক আন্দোলনকে সমর্থন জানাচ্ছি।

বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় সংসদের দপ্তর সম্পাদক খায়রুল হাসান জাহিন বলেন, সকল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের চরিত্র একই রকম। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদ নির্বাচন (জকসু) এর গঠনতন্ত্র ৪৫ কার্যদিবসের মধ্যে প্রণয়ন করার কথা থাকলেও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ব্যর্থ হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩য়, ৪র্থ শ্রেণির কর্মকর্তাদের নির্বাচন হলেও ছাত্র সংসদ নির্বাচন হয় না। সকল বিশ্ববিদ্যালয় গুলোর প্রশাসনের চরিত্র স্বৈরতান্ত্রিক রূপধারণ করেছে। অনিয়ম, উন্নয়ন প্রকল্পের টাকা ভাগাভাগিসহ বিভিন্ন অপকর্ম সংগঠিত হয় যা যেকোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্যে ন্যাক্কারজনক ঘটনা। 

এসময় তিনি ঢাবি উপাচার্যকে চিরকুট ভিসি, বশেমুরবিপ্রবি উপাচার্যকে বহিষ্কার ভিসি, জাবি উপাচার্যকে সেলামি ভিসি নামে আখ্যায়িত করে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের দুর্নীতি, অনিয়মের বিরুদ্ধে আন্দোলনকে সমর্থন জানান।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় গোপালগঞ্জ জেলার শিক্ষার্থী রেজোয়ান সীমান্ত বলেন, উপাচার্য খন্দকার নাসির উদ্দিন এর বিরুদ্ধে দুর্নীতি অভিযোগসহ নারী কেলেংকারীর অভিযোগ রয়েছে। তিনি আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের উপর হামলা চালিয়েছেন। আমরা দ্রুত বিচারের দাবি জানাচ্ছি। উক্ত হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।

উল্লেখ্য, গত ২১ সেপ্টেম্বর বশেমুরবিপ্রবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের উপর আতর্কিত হামলা চালায় বহিরাগত সন্ত্রাসীরা। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, উপাচার্যের মদদেই এই হামলা চালানো হয়। বশেমুরবিপ্রবি প্রশাসনের তুচ্ছ কারণে বহিষ্কার এবং উপাচার্যের স্বৈরাচারী আচরণ, দুর্নীতি, শিক্ষার্থীদের গালিগালাজ ইত্যাদি কারণে উপাচার্যের অপসারণ চেয়ে আন্দোলন করছে শিক্ষার্থীরা।

ইত্তেফাক/কেআই