ঢাকা মঙ্গলবার, ১৯ নভেম্বর ২০১৯, ৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৬
২২ °সে


জবি প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে ‘মূল আকর্ষণ’ সাংবাদিক মারধর

জবি প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে ‘মূল আকর্ষণ’ সাংবাদিক মারধর
ছবি: সংগৃহীত

সাদামাটা আয়োজনের মধ্য দিয়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) ১৪তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উদযাপিত হয়েছে। কিন্তু সাংবাদিক মারধরের ঘটনা বিশ্ববিদ্যালয় দিবসে ছিল ‘মূল আকর্ষণ’। রবিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে দিবসটি উদযাপন করা হয়। এছাড়া দিনব্যাপী অনুষ্ঠানসমূহের মধ্যে ছিল শোভাযাত্রা, বার্ষিক চারুকলা প্রদর্শনী, আলোচনা সভা, নাটক পরিবেশনা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও প্রকাশনা উৎসব। কিন্তু কেক কাটার কোন অনুষ্ঠান ছিল না। এছাড়া অনুষ্ঠানের ব্যানারে বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘স্লোগান’ না থাকলেও রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র ও মেট্রোরেলের প্রতিচ্ছবি ছিল।

জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাষা শহিদ রফিক ভবনের সামনে শিক্ষার্থীদের নাচানাচি অনুষ্ঠান হয়। সেখানে গায়ে ধাক্কা লাগার কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের ১২ ব্যাচের শিক্ষার্থী ও একুশে টেলিভিশন অনলাইনের জবি প্রতিনিধি মো. সাগর হোসাইনকে প্রাণিবিদ্যা বিভাগের ১৪ ব্যাচের শিক্ষার্থী ও পল্টন থানা ছাত্রলীগের সহ-সম্পাদক সোহানুর রহমান সোহান, ফিন্যান্স বিভাগ ১৪ ব্যাচের শিক্ষার্থী মঈনসহ ১০-১২ জন মিলে মারধর করে। পরে সাগরকে উদ্ধার করে পাশের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ও পরে ঢাকা গুরুতর অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল (ঢামেক) কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

সার্বিক বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মীজানুর রহমান বলেন, আমরা কেক কাটিনি, তাই কেক কাটা হয়নি। আর বিশ্ববিদ্যালয়ের কোন স্লোগান নেই। ‘শিক্ষা-ঈমান-শৃঙ্খলা’ কলেজ সময়কার স্লোগান। বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য কোন স্লোগান তৈরি করা হয়নি। তবে নতুন করে স্লোগান তৈরি করা হবে। আর লোগোও নতুন করে বানানো হবে।

আরও পড়ুন: কাঁচপুরে ট্রাক চাপায় পুলিশ কনস্টেবল নিহত

এদিন সকাল ৯ টা ১০ মিনিটে অনুষ্ঠান শুরু করার কথা থাকলেও যথাসময়ে শুরু হয়নি। এমনকি বিশ্ববিদ্যালয়ের শোভাযাত্রাটি পূর্বঘোষিত রায়সাহেব বাজার ঘুরে আসার কথা থাকলেও ভিক্টোরিয়া পার্ক ঘুরে এসেই দায়সারাভাবে শেষ হয়। এছাড়া শোভাযাত্রাটিতে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি খুবই কম ছিল। এমনকি কয়েকটি বিভাগের ৫-১০ জন শিক্ষার্থী শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণ করে।

শহীদ মিনার চত্বরে জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পতাকা উত্তোলন করা হয়। বেলুন ও পায়রা উড়িয়ে বিশ্ববিদ্যালয় দিবসের শুভ উদ্বোধন করেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. মীজানুর রহমান। শোভাযাত্রাটি শহীদ মিনার চত্ত্বর থেকে শুরু হয়ে ভিক্টোরিয়া পার্ক প্রদক্ষিণ করে এসে দ্বিতীয় গেট দিয়ে প্রবেশ করে শেষ হয়।

এদিকে বিশ্ববিদ্যালয় দিবসের আলোচনা সভায় উপাচার্য অধ্যাপক ড. মীজানুর রহমান বলেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় আজ প্রতিষ্ঠিত। একাডেমিকভাবে সেশনজট মুক্ত, কারিকুলামের আধুনিকায়ন ও মেধাবী শিক্ষকবৃন্দের প্রয়াসে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় সকল অভিভাবক ও শিক্ষার্থীবৃন্দের ভর্তির জন্য মূল আকর্ষণ। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ই বাংলাদেশে একমাত্র প্রতিষ্ঠান যেখানে ১০৪ জন অধ্যাপকের মধ্যে ১০১ জন অধ্যাপক পিএইচডি ডিগ্রিধারী বাকি ৩ জনের ডিগ্রি প্রক্রিয়াধীন। আর এই বিশ্ববিদ্যালয়ে আগামী ২০২০ সালের জুন মাসের পর কোন শিক্ষক পিএইচডি ডিগ্রি ছাড়া অধ্যাপক পদে প্রমোশন পাবে না।

এদিকে নাট্যকলা বিভাগের তাদারকিতে শুন্যন নাট্যদলের উদ্যোগে ‘লাল জমিন’ নাটক পরিবেশিত হয়। এছাড়াও ভাষা শহীদ রফিক ভবনের নিচতলায় দিনব্যাপী প্রকাশনা প্রদর্শনীর আয়োজিত হয়। পরে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় রোভার স্কাউটস কর্তৃক উপাচার্যকে গার্ড অব অর্নার প্রদান করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয় বাঁধনের উদ্যোগে বিনামূল্যে রক্তের গ্রুপ নির্ণয় কর্মসূচি পালিত হয়।

ইত্তেফাক/এএএম

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
১৯ নভেম্বর, ২০১৯
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন