ইভিএমেও আস্থা ফেরেনি

পাঁচ বছরে ভোটার উপস্থিতি কমেছে ১৬ শতাংশ
ইভিএমেও আস্থা ফেরেনি
ফাইল ছবি

ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনেও (ইভিএম) ভোটারের আস্থা ফেরেনি। নির্বাচন ব্যবস্থপনায় আস্থা ফেরাতে ইভিএমে ভোট নেওয়া হলেও ভোটারদের মন জয় করতে ব্যর্থ হয়েছে যন্ত্রটি। ব্যালটের চেয়ে বরং ইভিএমে তাদের অনীহা দেখা গেছে বেশি। অন্যদিকে এই যন্ত্রে ভোট শেষ হওয়ার ঘণ্টাখানেকের মধ্যে ফল প্রকাশের আশা দেখিয়েছিল নির্বাচন কমিশন। অথচ এবার চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশ করতে সময় লেগেছে ১১ ঘণ্টা।

এদিকে ভোটারদের অনাগ্রহে ইভিএমে উত্তর ও দক্ষিণ সিটিতে ভোট পড়েছে মাত্র ২৭ দশমিক ১৫ শতাংশ। অথচ কাগজের ব্যালটে ২০১৫ সালের ২৮ এপ্রিল অনুষ্ঠিত দুই সিটিতে ভোট পড়েছিল ৪৩ শতাংশ। মাত্র পাঁচ বছরের ব্যবধানে ১৬ শতাংশ ভোটার নির্বাচনব্যবস্থা থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। ভোট পড়ার হার নিয়ে সন্তুষ্ট নয় স্বয়ং নির্বাচন কমিশনও।

এ বিষয়ে ইসির সিনিয়র সচিব মো. আলমগীর বলেছেন, ধারণা ছিল, ৫০ শতাংশ ভোট পড়বে। কিন্তু সেটা হলো না। ভোটারদের আস্থাহীনতার কারণে এত কম ভোট পড়েছে কি না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘অনাস্থার কারণে ভোট দিতে যায়নি, এটা আমার কাছে মনে হয়নি। অনেকে ছুটি ভোগ করেছে। অনেকে ফেসবুক নিয়ে ব্যস্ত ছিল।’

গত বছরের ৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ইভিএমের ছয় আসনে ভোটের হার ছিল ৫১ দশমিক ৪১ শতাংশ। সেই ভোটাররাই এবার কেন্দ্রে গেলেন না। দুই সিটির ৩৯ লাখ ৯০ হাজার ৪৩০ জন ভোটার ভোট দেননি।

ফল প্রকাশে ১১ ঘণ্টা :ইভিএমে ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার ঘণ্টাখানেকের মধ্যে ফল প্রকাশের কথা থাকলেও এবার ১১ ঘণ্টা সময় নিয়েছে কমিশন। যদিও এই ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করে ঢাকা উত্তর সিটির রিটার্নিং কর্মকর্তা আবুল কাসেম বলেছেন, ‘যান্ত্রিক ত্রুটিই এই দেরির কারণ। ট্যাবের মাধ্যমে আমরা যে ফলাফল নিয়েছি, ওইখানে নেটওয়ার্কে বা আমাদের কিছু টেকনিক্যাল ত্রুটির কারণে ফলাফল দিতে বিলম্ব হয়েছে।’ দক্ষিণ সিটির রিটার্নিং কর্মকর্তা আব্দুল বাতেন শনিবার রাতে ফল ঘোষণার সময়ই বলেছিলেন, প্রিজাইডিং কর্মকর্তাদের ভুলের কারণে ফল প্রকাশে দেরি হয়। দেরির কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, ‘প্রিজাইডিং অফিসাররা ট্যাবে রেজাল্ট পাঠাতে ভুল করেছেন, অনেকে ম্যানুয়ালি পাঠিয়েছেন। যারা ভুল করেছেন, তাদের আলাদা আলাদাভাবে কল করে আমরা ম্যানুয়ালি রেজাল্ট নিয়েছি।’

রাত পৌন ১২টায় দক্ষিণের ফল প্রকাশের তিন ঘণ্টার বেশি সময় পর উত্তরের ১ হাজার ৩১৮টি কেন্দ্রের ফল ঘোষণা করা হয়। অর্থাত্, বিকাল ৪টায় ভোট শেষ হওয়ার ১১ ঘণ্টা পর ইভিএমের এই নির্বাচনের ফল আসে। কাগুজে ব্যালটের ক্ষেত্রেও একই সময় লেগেছিল এর আগের নির্বাচনে।

ইভিএমে ৩ হাজার বাতিল ভোট : উত্তর সিটিতে মোট ভোট পড়েছে ৭ লাখ ৬২ হাজার ১৮৮টি। এর মধ্যে বাতিলকৃত বা অবৈধ ভোট হচ্ছে ১ হাজার ৫৩০টি। ঢাকা দক্ষিণ সিটিতে মোট ভোট পড়েছে ৭ লাখ ১৩ হাজার ৫০টি। এর মধ্যে বাতিল ভোট ছিল ১ হাজার ৫৬২টি। এই ৩ হাজার ৯২ জন ভোটার ইভিএমের ব্যালট ইউনিটে ‘লাল’ বাটন টিপে ভোট শেষ করেছিলেন। ফলে ভোট বাতিল হয়ে যায়।

ভোটার উপস্থিতি কম হওয়ার কারণ সম্পর্কে সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, নিকট অতীতে ভোট ছাড়া জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হওয়ার ঘটনা, বর্তমান কমিশনের ওপর ভোটারদের আস্থাহীনতা, প্রচারে বড়ো দুই রাজনৈতিক দলের কেন্দ্র দখলের পালটাপালটি হুমকি ইত্যাদি নির্বাচনের কেন্দ্রবিমুখ হওয়ার অন্যতম কারণ। তিনি বলেন, ভোটাররা মনে করছেন, তাদের ভোটে কোনো ফল হবে না; যা হওয়ার তাই হবে। এসব কারণে মানুষ ভোটকেন্দ্রে যেতে আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছে।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদা মনে করেন, কেন্দ্রে ভোটার আনার দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের নয়। কেবল সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ ভোটের পরিবেশ সৃষ্টি করার দায়িত্ব তাদের। ভোটারদের কেন্দ্রে আনার কাজ রাজনৈতিক দলগুলোর।

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
আরও
আরও
x