ঢাকা বুধবার, ১১ ডিসেম্বর ২০১৯, ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬
১৯ °সে


সিনেমার সংখ্যা কমেছে এ বছরেও

সিনেমার সংখ্যা কমেছে এ বছরেও
এ বছরের উল্লেখযোগ্য সিনেমাগুলো হলো ‘পাসওয়ার্ড’, ‘ফাগুন হাওয়ায়’, ‘নোলক’, ‘সাপলুডু’ ও ‘ইতি তোমারই ঢাকা’

ঢাকাই সিনেমায় বর্তমানে যে সঙ্কটের জায়গা তৈরি হয়েছে তার মধ্যে অন্যতম সিনেমার সংখ্যা। গত কয়েক বছরে ধারাবাহিকভাবে কমছে সিনেমার সংখ্যা। এই বছরের বাকি রয়েছে আর ১ মাস। আগামী মাসে মুক্তির প্রতীক্ষিত সিনেমার সংখ্যাও উল্লেখযোগ্য নয়। গতবছর দেশের প্রোডাকশন থেকে সিনেমা মুক্তির সংখ্যা ছিল প্রায় ৪০টি । এর সঙ্গে কয়েকটি যোগ রয়েছে কয়েকটি আমদানি করা সিনেমা। এ বছর এখন পর্যন্ত যে সিনেমা মুক্তি পেয়েছে ও সামনে যেগুলো মুক্তি পাবে সেই সংখ্যা গতবারের চেয়েও কম। সিনেমাকে কেন্দ্র করে যাদের পেশাদার জীবন চলে তাদের অবস্থা তাই খুব একটা ভালো না।

সিনেমার সংখ্যার অবস্থা এখন পর্যন্ত যা রয়েছে সেগুলোও খুব বেশি আলোচিত হচ্ছে না ও ব্যবসাও করতে পারছে না। যেহেতু এখন হলের সংখ্যা অনেক কমে এসেছে তাই সিনেমার লগ্নি ওঠানোর জন্য নির্মাতা ও প্রযোজকরা বিকল্প ব্যবস্থা নিচ্ছেন। সম্প্রতি মুক্তি পায় ‘সাপলুডু’ সিনেমাটি।

এই সিনমার নির্মাতা গোলাম সোহরাব দোদুল বলেন, ‘বর্তমানে আমাদের দেশের হলে যে অবস্থা রয়েছে সেখানে হল নির্ভর করে সিনেমা নির্মাণ করা সম্ভব নয়। কারণ এতে প্রযোজক যেমন দিনশেষে তার লগ্নি ফেরত পায় না তেমনি একজন নির্মাতাকে শেষ পর্যন্ত হতাশ হতে হয়। গ্লোবাল ভিলেজের এই সময়ে তাই আমাদের বিকল্প ব্যবস্থায় যেতে হচ্ছে।’

এই বছর এখন পর্যন্ত মুক্তি পাওয়া সিনেমাগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো ‘পাসওয়ার্ড’, ‘ফাগুন হাওয়ায়’, ‘নোলক’, ‘আবার বসন্ত, ‘যদি একদিন’, ‘ইতি, তোমারই ঢাকা’। এরমধ্যে সম্প্রতি মুক্তি পায় ‘ইতি, তোমারই ঢাকা’ সিনেমাটি। ১১ জন নির্মাতা মিলে নির্মাণ করেন এই সিনেমাটি। ঢাকাই সিনেমা ইন্ডাস্ট্রিতে এখন পর্যন্ত অন্যতম ভরসার নাম ‘শাকিব খান’। শুধুমাত্র হলে মুক্তি দিয়েই তার সিনেমার প্রযোজকরা শেষ পর্যন্ত লাভের মুখ দেখেন। যদিও কোরবানির ঈদে মুক্তি পাওয়া তার ‘মনের মতো মানুষ পাইলাম না’ সিনেমটি আশানুরূপ ব্যবসা করতে পারেনি। এর কারণ হিসেবে শাকিব প্রচারণাকে দায়ী করেন। প্রচারণাও একটি সিনেমার জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের পার্শ্ববর্তী টালিউড ইন্ডাস্ট্রিও তাদের সিনেমার বাজেটের সঙ্গে প্রচারণাও যোগ রাখেন। আমাদের দেশেও সেই চর্চা শুরু হলেও এখন পর্যন্ত কয়েকটি সিনেমা ছাড়া এই উদাহরণ নেই। শুধুমাত্র ডিজিটাল প্রচারণা করেই শেষ করছেন চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্টরা।

আরো পড়ুন: মানবজীবনে যা কিছু প্রথম

সিনেমার সংখ্যা না বাড়ার কারণ হিসেবে সিনেমা সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই সময়ে যে বাজেটে সিনেমা নির্মাণ করা হয় তা দিয়ে হল থেকে টাকা ওঠানো সম্ভব হচ্ছে না। বাজেট কমে যাওয়ার এই প্রভাব পড়ছে সিনেমার গল্পে ও কাজে। কারণ একটি সিনেমা নির্মাণ শুরুর আগে প্রি-প্রোডাকশনে যতটুকু সময় একজন নির্মাতা ও অভিনয়শিল্পীদের দিতে হয় সেটা বাজেট স্বল্পতার কারণে হচ্ছে না।

আবার হল মালিকরা বলছেন, ভালো সিনেমা নির্মাণ না হওয়ার জন্য হল ব্যবসার এখন মন্দা অবস্থা। তাই ইদানিং হল বন্ধের খবর পাওয়া যাচ্ছে নিয়মিত। কিছুদিন আগেই বন্ধ হয়ে গেল রাজধানীর ‘রাজমণি’ সিনেমা হল। এক সময় সিনেমাপ্রেমীদের হৈচৈ-এ যেখানে মুখোরিত থাকতো এই হল প্রাঙ্গণ। সেই হল বন্ধ হয়ে গেল। তবে এই প্রতিকূলতার মধ্য দিয়েই সবাই চেষ্টা করছেন দেশের ইন্ডাস্ট্রিকে ভালোর দিকে নিতে। তবে তেমন আলোচনা বা উদ্যোগ নেওয়ার খবর নেই গণমাধ্যমে। তাই প্রতিনিয়ত পাওয়া যাচ্ছে হল ভেঙে ফেলার সংবাদ। অন্যদিকে গত কয়েক বছরের মতো আগামীতেও হয়তো সিনেমার সংখ্যাটা আরো কমতে থাকবে।

দীর্ঘদিন পর এই বছর অনুষ্ঠিত হয় চলচ্চিত্র প্রযোজক সংস্থার নির্বাচন এবং গঠন হয় নতুন কমিটি। কিন্তু নতুন কমিটি গঠনের পর দেশের সিনেমার এই বাজেট সঙ্কট ও সিনেমা প্রযোজনা নিয়ে নির্বাচিত কেউই কোনো কথা বলেননি। অথচ যারা সংগঠনের রয়েছেন তারা বছরে একটি করে সিনেমা প্রযোজনা করলে সিনেমার সংখ্যা অনেকটা বেড়ে যাবে।

ইত্তেফাক/বিএএফ

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
১১ ডিসেম্বর, ২০১৯
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন