বেটা ভার্সন
আজকের পত্রিকাই-পেপার ঢাকা মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট ২০২০, ২৭ শ্রাবণ ১৪২৭
৩২ °সে

দাদা শুধু বলে গেলেন আমি শুনলাম

দাদা শুধু বলে গেলেন আমি শুনলাম
এন্ড্রু কিশোর ও কুমার বিশ্বজিৎ। ফাইল ছবি

এন্ড্রু কিশোর আর নেই। এত তাড়াহুড়ো করে এই খবরটা কানে আসবে বুঝিনি। সেদিনও দাদার জন্য আমরা সবাই প্রার্থনা করলাম। আশায় ছিলাম আবারও একসঙ্গে হবো। সবকিছু এমনভাবে ঘটে যায় বোঝা যায় না। এক কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে আমরা যাচ্ছি। চারদিকে সুনসান। এমন নীরব সময়ে তিনি নীরবেই চলে গেলেন দীর্ঘদিন ধরে তিনি ক্যান্সারের সঙ্গে লড়ছিলেন।

যখন সিঙ্গাপুরে গেলেন চিকিৎসার জন্য, ভেবেছিলাম ক্যান্সার জয় করে আবারও ফিরে আসবেন তিনি। সবসময় সৃষ্টিকর্তার কাছে প্রার্থনা করতাম এন্ড্রু দাকে আমাদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য। কিন্তু তিনি আর ফিরলেন না। তার এই চলে যাওয়ায় ভয়ঙ্কর এক শূন্যতা তৈরি হলো। আসলে কিছু মানুষের শূন্যতা চিন্তা করতে ভয় লাগে। হাহাকার সৃষ্টি হয় মনে। মেধাবী মানুষকে এত তাড়াতাড়ি কেন চলে যেতে হয়! তার তো আরো অনেক দেওয়ার ছিল। আমি আর ভাবতে পারছি না। গলা কেঁপে আসছে। এক-দুই বছর তো নয়, অনেকগুলো বছর এই মানুষটাকে আমি কাছে থেকে দেখেছি। গান করেছি। তার কণ্ঠের যে জাদু তা শুনে মুগ্ধ হয়েছি। এখনো হই। আজীবন হবো। তিনি আসলে থাকবেন। এখন এমন এক পরিস্থিতির মধ্যে আছি চাইলেও ছুটে যেতে পারছি না। গত সপ্তাহে দীর্ঘসময় টেলিফোনে কথা বলেছি দাদার সঙ্গে। আমাদের কত কথা, কত স্মৃতি। কথা বললেও শেষ হয় না। অনেকদিন দাদার সঙ্গে দেখা হয় না। অনেক কথা জমে ছিল। ভাবছিলাম দেখা হলে দীর্ঘ সময় আড্ডা দেবো। ফোনে কথা বলেও তৃপ্তি যেন মেটে না। দোয়া করছিলাম দাদা সুস্থ হয়ে আবারও ফিরবেন। ফোনে অনেক সময় কথা হলে। তিনিই সব বলে গেছেন, আমি শুধু কাতর হয়েছি। দাদা শুধু বলে গেলেন, আমি শুনলাম। এমনও অনেক স্মৃতি তুলে এনেছেন, যা নিজেও ভুলে গেছি। এখন দোয়া করা ছাড়া আর কিছু করার নেই।

ইত্তেফাক এসি

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত