হানিফ সংকেতের ঈদের নাটক অনেকের জন্যই বড় একটা মেসেজ!

হানিফ সংকেতের ঈদের নাটক অনেকের জন্যই বড় একটা মেসেজ!
একটি নাটকের দৃশ্য।

করোনাকালে এ যাবত্ যতগুলো নাটক বা ওয়েব ফিল্ম তৈরি হয়েছে তার অধিকাংশই সামাজিক দূরত্বে প্রেম ও সম্পর্ক না তৈরি হওয়া নিয়ে। এসব নাটক দেখে মনে হতো করোনাকালে বোধহয় প্রেমটা করতে না পারার বেদনা ছাড়া আর কোনো ভয়াবহ সঙ্কট নেই। অথচ করোনার এই সঙ্কটে কত রকম গল্প, অসঙ্গতি চোখের সামনে হেঁটে বেড়ায়। সেখানে একেবারেই অন্যখাতে ভাবলেন বরেণ্য নির্মাতা হানিফ সংকেত। ঈদ উপলক্ষে তার নাটকের নাম ‘মনের মতি মনের গতি’। নাটকের গল্পে সমসাময়িক দারুণ এক অসঙ্গতির কথা তুলে ধরেছেন। অবশ্য নির্মাতা হানিফ সংকেত বরাবরই তার ইত্যাদি থেকে শুরু করে নিয়মিত কলাম, গ্রন্থ বা দুর্লভ বক্তা হয়ে যা বলেন, সেখানে তার এই অবস্থান স্পষ্ট করেন। করোনাকালে বেশকিছু ক্ষেত্রে সঠিক জায়গায় ত্রাণ পৌঁছাচ্ছে না। এমনকি বিভিন্ন সামাজিক দুর্নীতির খবরও আমাদের চোখ এড়ায় না। অথচ শুধু নাটক-সিনেমাতেই দেখি এসবের কোনো চিহ্ন নেই! তাই হানিফ সংকেতের মতো নির্মাতাদের কাজ ভীষণভাবে নজরকাড়ে বারবার। নাটকীয়তার মাধ্যমে বোধের জাগরণ ঘটে। আমরা যে সমাজে বাস করি, সামগ্রিক যে ভাবনা, যে স্বভাব চ্যুতি হয়, তার বাইরে যায়নি হানিফ সংকেতের মনের মতি মনের গতি। নির্মল সংলাপ, আঞ্চলিকতার প্রয়োজনে তার সঠিক ব্যবহার, অথচ কোথাও ভাষা বিকৃতি নেই। ইদানিং গুটিকতক নির্মাতার মুখে আমরা যখন ‘চরিত্রের প্রয়োজনে বা গল্পের প্রয়োজনে বা র-রিয়েলিজম শব্দের বরাত দিয়ে নাটকের দৃশ্যায়ণে নানা সুড়সুড়ি, অশ্লীলতা ও অশ্রাব্য ভাষার ব্যবহারের যুক্তি শুনি তখন এ ধরনের কাজ অনেক শক্ত এক দৃষ্টান্ত। শঠ নির্মাতাদের জন্য বড় একটা শিক্ষা। কারণ হানিফ সংকেতের মনের মতি মনের গতি নাটকের দৃশ্যায়ণে তার কোথাও এসব শঠতার আশ্রয় নিতে হয়নি। প্রকৃত মেধাবী নির্মাতাদের এসব আশ্রয়ের প্রয়োজন পড়ে না।

তাই একজন দর্শক হিসেবে নাটকের বিভিন্ন হিউমার টার্মে আনন্দবোধ হয়েছে তেমনি চেয়ারম্যানের করোনার উপসর্গে তার স্ত্রীও তাকে দূর দূর করে, সেসময় নিজের ভাই হিসেবে মীর সাব্বিরের মানবিক আচরণেও দারুণ এক ক্লাইমেক্স তৈরি হয়েছে। আর অভিনয়ের ক্ষেত্রে কিছুই বলার নেই। কারণ নির্মাতা একেবারেই পরীক্ষিত ও সুপরিচিত শিল্পীদের রেখেছেন। চঞ্চল চৌধুরী ও মীর সাব্বিরের মতো সুপ্রতিষ্ঠিত অভিনেতাদের সঙ্গে সাঈদ বাবুর দারুণ অভিনয় সত্যিকার অর্থেই আলাদাভাবে নজরকাড়ে। তবে চেয়ারম্যান চরিত্রে চঞ্চল চৌধুরীর করোনার আশঙ্কার পর খুব দ্রুতই কিছু বিচ্ছিন্ন সামাজিক সচেতনতার ক্যাম্পেইন দেখিয়ে আবার সুস্থভাবে ফেরানোটা খানিকটা মুগ্ধতার বিচ্যুতি বলবো। এখানে আরও খানিকটা দৃশ্যের ব্যাখ্যা চাতক দর্শক হিসেবে প্রত্যাশিত ছিল। হয়তো করোনা সঙ্কটের এই সময়ের জন্যই তার সংযুক্তি করেননি বা করা সম্ভব হয়নি নির্মাতার পক্ষে। এছাড়া এই অনবদ্য নাটকটি আমাদের এই সময়ের নাট্যতর্কের জন্য অন্যতম মেসেজ। আমাদের সুস্থ সমাজকে দারুণ রুচিশীলতার ভেতরে উপস্থাপন করেও দর্শকদের বিনোদন, মেসেজ দেওয়া যায়। জনপ্রিয়তাও অর্জন করা যায়। যারা ‘গল্পের প্রয়োজন’ নামের বাহানায় শঠতার আশ্রয় নেন তাদের বেলায় বরং আমাদের বলা উচিত ‘আপনাদের মেধা প্রয়োজন’। এসব নাটক দেখে শিক্ষা প্রয়োজন।

কারণ ইউটিউব বা ডিজিটাল প্লাটফর্মের মাধ্যমে তো এখন জনপ্রিয়তা গোনা যায়। সেদিক দিয়েও শীর্ষে তার কাজ। নানা দর্শকের দারুণ সব প্রতিক্রিয়াও চোখে পড়ে। নাটকটির ইউটিউব পোস্ট থেকেই এক দর্শকের প্রতিক্রিয়া দিয়ে লেখাটি শেষ করি। আতিকুর রহমান নামের একজন দর্শক লিখেছেন—‘এই নাটক থেকে আমাদের অনেককিছু শিক্ষার দরকার, যা অনেকের মাঝেই নেই। অনেক অনেক ধন্যবাদ নাটকটি প্রচার করার জন্য।’

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত