‘আমি সবসময় দর্শকের ভালোবাসার মধ্যেই রয়েছি’

‘আমি সবসময় দর্শকের ভালোবাসার মধ্যেই রয়েছি’
রুমানা রশিদ ঈশিতা

একটা সময় বিটিভি খুললেই টিভি পর্দায় দেখা যেত রুমানা রশিদ ঈশিতাকে। নব্বইয়ের দশকে যার অভিনয় দেখে মুগ্ধ হয়েছিল বহু তরুণ-তরুণী। অনেকটা সময় পেরিয়ে গেলেও অভিনয়ে এখনও মুগ্ধতা ছড়াচ্ছেন এক সময়ের নন্দিত এই অভিনেত্রী। তবে এখন আর আগের মতো টিভি পর্দায় নিয়মিত পাওয়া যায় না তাকে। বিশেষ দিবস উপলক্ষে মাঝেমধ্যে দেখা মেলে। স্বামী, সংসার, সন্তান সামলে সময় করতে পারলে ক্যামেরার সামনে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেন।

ঈদের আনন্দ এরইমধ্যে শেষ হয়ে গেলেও এখনও মনের মধ্যে সেই আমেজ রয়ে গেছে এই অভিনেত্রীর। এর কারণ এবার ঈদে প্রচারিত হওয়া সেরা নাটকের তালিকায় রয়েছে ঈশিতার দুটি নাটক; যেগুলো ইতিমধ্যেই সর্বমহলে ব্যাপক প্রশংসিত। মাহমুদুর রহমান হিমির ‘কেন’ ও আশফাক নিপুণ পরিচালিত ‘ইতি, মা’ টেলিছবি দুটিতে ঈশিতার অভিনয়ে মুগ্ধ দর্শকমহল। মুঠোফোনে, ক্ষুদে বার্তাসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রশংসায় ভাসছেন নতুন কুঁড়ি তারকা ঈশিতা।

এবার ঈদে প্রচারিত হওয়া দুটি টেলিছবিতে অভিনয়ের প্রশংসায় বেশ উচ্ছ্বসিত ঈশিতা বলেন, এককথায় বলতে গেলে দারুণ সাড়া পাচ্ছি। সহকর্মী থেকে শুরু করে অনেক অচেনা, অজানা মানুষজনেরও শুভেচ্ছা পাচ্ছি। সবার কাছে কাজগুলো ভালো লেগেছে, এটাই আমার বড় পাওয়া। আমি সবসময় দর্শকের ভালোবাসার মধ্যেই রয়েছি। এখনও দর্শকরা আমার কাজ দেখেন; ভালো ভালো মন্তব্য করেন, প্রশংসা করেন; এটাই তো অনেক। একজন অভিনয়শিল্পী হিসেবে এটা আমি বেশ উপভোগ করি।

কাজের অভিজ্ঞতা জানাতে গিয়ে তিনি বলেন, কাজের অভিজ্ঞতাও বেশ ভালো। দুজনই বেশ অভিজ্ঞ, আমি বলব। একজন স্ক্রিপ্ট ধরে কাজ করেন, আরেকজন স্ক্রিপ্ট ধরে প্রথমে প্র্যাক্টিস ও রিহার্সেল করে কাজ করেন। দুজনের একটা মিল, সেটা হলো— তারা কাজ নিয়ে ভাবেন, বেশ গুছিয়ে কাজ করেন।

শুটিংয়ে ফিরছেন কবে আবার? ঈশিতার জবাব, যে কাজগুলো করেছি দুটোই লকডাউনের আগের কাজ। কিন্তু এখন এই করোনা পরিস্থিতিতে কাজ করার সাহস পাচ্ছি না। কারণ আমার বাসায় যেমন বাচ্চা আছে তেমনি বয়স্ক মানুষও আছে। নিজের জন্য না হলেও এদের কথা ভেবে এখন কোনো কাজই করছি না। ঈদের আগেও বেশ কিছু স্ক্রিপ্ট এসেছে, কিন্তু ফিরিয়ে দিয়েছি। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে কাজ শুরু করব না।

যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে সবকিছুই পরিবর্তন হচ্ছে। একটা সময় শুধু বিটিভিতেই নাটক দেখা যেত। এখন অনেক অনেক চ্যানেল হয়েছে। সময় এগিয়ে এখন বিভিন্ন অনলাইন প্লাটফর্মের দিকে ঝুঁকছে সবাই।

এতে করে টেলিভিশনের যে জনপ্রিয়তা; সেটা কমছে বলে মনে করছেন কি? ঈশিতা জানান, আমাদের সবাইকেই সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে হবে। একটা সময় বিনোদনের একটাই মাধ্যম ছিল—বিটিভি। কিন্তু এখন অনেক অনেক মাধ্যম তৈরি হয়েছে। প্রযুক্তিগত দিক দিয়ে আমরা অনেকটা এগিয়েছি। এখন সবার হাতেই মুঠোফোন, ইন্টারনেট। যার যখন যেটা ভালো লাগছে সেটাই দেখছে নিজের পছন্দমত। এখানে জোর করারও কিছু নেই। আর এই কারণে টেলিভিশনের জনপ্রিয়তা কমছে—এমনটি আমি বলব না। এটাকে আধুনিকায়ন বলব।

অভিনেত্রীর বাইরেও ঈশিতা একজন শিক্ষিকা ও গায়িকা। এরইমধ্যে প্রকাশ করেছেন বেশ কিছু গান, যেগুলো শ্রোতা-দর্শকমহলে প্রশংসিতও হয়েছে।

নতুন গান কবে পাবে শ্রোতারা? এই প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, আমি সবসময় ঘরকুনো স্বভাবের মানুষ। কাজ না থাকলে তেমন বাইরে যাই না। বাসায় পরিবার সামলে সময় পেলে গানের চর্চা করি। এখনও গান নিয়ে নতুন করে কিছু ভাবিনি। নতুন করে পরিকল্পনা করলে অবশ্যই সেটা সবাইকে জানাব।

ইত্তেফাক/বিএএফ

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত