নিরুপায় বিষাদের গল্প অণিমেষ আইচের ‘টু-লেট’

নিরুপায় বিষাদের গল্প অণিমেষ আইচের ‘টু-লেট’
ছবি: সংগৃহীত

অনেক স্বাধের নাটাইয়ে একটু একটু করে শক্ত করে তবেই ঘুড়ি ওড়াতে চায় মানুষ। সে ঘুড়ির হঠাত্ ছিঁড়ে যাওয়া মানুষের দেখা অভ্যেস। এসব চিরায়ত বেদনা মানুষের সয়ে গেছে। কিন্তু করোনাকালে অগনিত বিষাদ মানুষকে থমকে দিয়েছে। আটকে দিয়েছে।

অনিমেষ আইচের ‘টু-লেট’ নাটকটি তেমনই। এ শহরের শেকড় ছিঁড়ে যাওয়া মানুষের গল্প। নিরুপায় মানুষদের গল্প। এ গল্প একটি বা দুটি পরিবারের গল্প না। পরিসংখ্যানের যোগ বিয়োগে লাখ পেরুনো পরিবারের গল্প ‘টু-লেট’। করোনাকালে মানুষের সংকটের রূপ আমরা নানান ভাবে দেখেছি। গ্রাম বা মফস্বল থেকে এক ঘুম স্বপ্ন নিয়ে যে মানুষ এসে বীজ বোনে আরেকটু ভাল করে বেঁচে থাকার। তার নাম দেয়া হয় শহুরে সংসার। আরো সহজভাবে বললে এর আভিধানিক নাম ‘ভাড়াটিয়া’। সেই স্বপ্ন ও স্বপ্নভঙ্গের বেদনাঘোর কী দারুণভাবে দেখালেন নির্মাতা। করোনার আঘাতে হঠাত্ বেকার হওয়া মানুষকে তার প্রিয় শেকড় ছিঁড়তে হয়! ঘরে বোবা মেয়ে তার প্রিয় সহপাঠি ছেড়ে যেতে চায় না। স্ত্রী বারবার ফিরে তাকায় সংসার নামের ইট কাঠের চারদেয়াল। আর নিরুপায় বাবা হারতে থাকে প্রতি মিনিটে মিনিটে।

বাড়িওয়ালার কাছে ভাড়া দিতেও ১ হাজার টাকার টান পড়ে। যে বাহনে শেকড় ছেঁড়া সংসারের ডাল পাতা নিয়ে যাবে সে, সেখানে তার ভাড়া মেটাতেও বিয়ের আংটি বিক্রি করতে হয়। গল্পের বর্ণনায় সবচেয়ে ভালো লেগেছে - নির্মাতা এখানে নিয়তিকেই ভিলেন হিসেবে দেখিয়েছেন। যা প্রকট সত্য। কারণ বাড়িওয়ালাও নিরুপায়। পারিবারিক ভাগাভাগিতে দুটো ফ্ল্যাটের একটিতে সে থাকে অন্যটির ভাড়া দিয়েই চলে জীবন-জীবিকা। এই যে একটি পরিবারের কাছে হেরে যায় শহর। নাকি শহরের কাছে হারে মানুষ। সে দৃশ্যায়নে সবগুলো চরিত্র এতটাই সাবলীল। মাঝে মাঝে ঘোর লাগে ডকুফিল্ম না কোনো নাটকের সিকোয়েন্স! কোনো বাড়তি ক্যামেরা কারুকাজের প্রলেপ নেই। খুব একদাগে দেখিয়েছেন অণিমেষ তার গল্প। যা দেখতে দেখতে বুকের ভেতরে বেদম বিষাদ জন্মে।

অণিমেষ আইচের রচনা ও পরিচালনায় আশনা হাবিব ভাবনা, শিল্পী সরকার অপু, সৈয়দ মোশাররফ, জয়রাজ, রিজভী সাখাওয়াত্ হেসেন প্রত্যেকে অনবদ্য অভিনয় করেছেন। ২৫ মিনিটের এই নাটকটি দেখার পর কিছুক্ষণ চারপাশের কোলাহলের অনুভব বন্ধ হয়ে যায়। মনে হয় দূরে বাজছে কোথাও বিরহী এসরাজ!

ইত্তেফাক/বিএএফ

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত