নিজের ভেতরে সততা আর সাহস থাকাটা সবচেয়ে জরুরি :তানিয়া আহমেদ

নিজের ভেতরে সততা আর সাহস থাকাটা সবচেয়ে জরুরি :তানিয়া আহমেদ
মডেল অভিনেত্রী নির্মাতা তানিয়া আহমেদ। ছবি: সংগৃহীত

মডেল অভিনেত্রী নির্মাতা তানিয়া আহমেদ। মডেলিংয়ে ক্যারিয়ার শুরু হলেও নাটক ও চলচ্চিত্রে দারুণ এক স্বচ্ছন্দ সফল পদচারণা তার। বর্তমান গণমাধ্যম, চলচ্চিত্রসহ শিল্পীদের পারস্পরিক সম্পর্ক নিয়ে কথা বলেছেন তিনি। সাক্ষাত্কার নিয়েছেন তানভীর তারেক

কেমন আছেন? চলচ্চিত্রের দুই প্রখ্যাত তারকা আপনার নিকটাত্মীয়। আজ বিভিন্ন দেশেই স্বজনপোষণের কথা যখন চলছে। ঠিক সেসময় জানতে চাই- চিত্রনায়ক প্রযোজক সোহেল রানা, রুবেলের ভাগ্নি হিসেবে কী বিশেষ সুবিধা পেয়েছেন?

প্রথমত, বলি আমি ভালো আছি। আর স্বজনপোষণের বিষয়ে আমি বলবো আমার মামা যে চিত্রনায়ক মাসুদ পারভেজ [সোহেল রানা] এবং রুবেল এই কথা কিন্তু আমার কাছের বন্ধুরাও অনেকদিন পরে জেনেছে। গনমাধ্যমে তো অনেকেই জানতো না। তাই এই অভিযোগ মোটেই ঠিক নয়। আর স্বজনপোষনে মূলত কিছু হয়না। কারো ভেতরে মেধা, যোগ্যতা না থাকলে তাকে কেউই কোনো অবস্থানে নিয়ে যেতে পারে না।

এখনকার মিডিয়ায় নানান কথা ওঠে। কাজের পরিবেশের প্রসঙ্গও শোনা যায়। এদেশে র্যাম্প মডেলিং, কোরিওগ্রাফিতে পথিকৃতজন আপনি। সেদিক দিয়ে মডেলদের নিয়ে নানান বিতর্ক ওঠে। উঠতি মডেল অভিনেত্রীদের সামাজিক নিরাপত্তা নিয়েও কথা উঠছে। এসব বিবেচনায় আপনার মতামত কী?

আমি যদি আমার নিজের কথা বলি তাহলে প্রথমে বলবো, আমি প্রথমে নতুন কোনো মেয়ের সাথে কাজ করতে গেলে তার পরিবারের সাথে কথা বলতাম। তাদের সাথে নিয়ে যেতে চাইতাম। এখন তো আবার পরিবারের কেউ গেলে সেটাকে সেকেলে হিসেবে আখ্যা দেবার চেষ্টা হয়। এখানে সেকেলে হবার কিছু নাই! আর ব্যক্তিগতভাবে আমি কী বাজে অফার পাইনি? আমিও পেয়েছি। কিন্তু যখনই বলেছি, জানেন আমার ব্যাকগ্রাউন্ড কী? আমার পারিবারিক পরিচয় কী? হয়তো এসব ক্ষেত্রে আমি অনেকটাই সৌভাগ্যবান। কিন্তু সবার ক্ষেত্রেই আমি বলবো। নিজের ভেতরে সততা আর সাহস থাকাটা সবচেয়ে জরুরি। এটা থাকলে কোনো অসুবিধা হয়না। কারণ সমাজে খারাপ মানুষের সংখ্যা সবসময় কম থাকে। সমাজে ভাল মানুষ আছে বলেই সমাজ চলমান। তাই কাকে বন্ধু হিসেবে বাছাই করা হচ্ছে। সেটাই মূখ্য হয়ে যায় জীবনে।

আপনাদের সময় আফজাল হোসেনের আবিষ্কার হিসেবে তানিয়া আহমেদ, মৌ, সুইটিসহ একঝাঁক তারকার জন্ম হলো। পারস্পরিক প্রতিযোগিতাগুলো কেমন ছিল?

প্রতিযোগিতা/প্রতিদ্বন্দ্বিতা কিছুই ছিল না। আমরা ছিলাম সহযোদ্ধা। আফজাল ভাই আমাদের খুঁজে খুঁজে বের করেছেন। তার জহুরী চোখ। আমি এ পৃথিবীতে দুইজন মানুষকে বস ডাকি। একজন চলে গেছেন আইয়ুব বাচ্চু। আরেকজন আফজাল হোসেন। যেমন কোনো কোনো সেটে এমনও হয়েছে যে, আমার সেটে মৌ আমার চুল ঠিক করে দিচ্ছে। বা মৌ এর শুট চলছে। আমরা দলবেঁধে ওখানে চলে গিয়েছি। আমাদের কখনও মনে হয়নি এইসব প্রতিযোগিতার বিষয়গুলো।

কিন্তু এরপরও কি মনে হয় না যে, মূল্যায়নের দিক দিয়ে গণমাধ্যম একজন তানিয়া আহমেদকে সেভাবে উপস্থাপন করতে পারেনি।

এটাতো আমি বলতে পারব না। বরং তোমাদের কাছে আমার উল্টো এই প্রশ্ন করাটাই শ্রেয়। কিন্তু আমার এসবে আক্ষেপ নেই। আমি যখন থাকবো না, তখন গত তিন জেনারেশনের ছেলেমেয়েরা অন্তত আমাকে অনুভব করবে নিজের একজন বোন হিসেবে, নিকটাত্মীয় হিসেবে। আমি সেই ভালবাসা রেখে যেতে চাই পথিবীতে। সবার ভাগ্যে কিন্তু এমনটা হয়না। আমার সারাদেশজুড়ে একটা বিশাল পারিবারিক শিষ্য রয়েছে। যারা আমার ভীষণ আপন।

জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার প্রাপ্তির পর নিজের নির্মানে বা অভিনয়ে নতুন ছবির আরো আপডেট পেতে চাই—

নতুন ছবির কাজে হাত দেব। স্ক্রীপ্ট এর কাজ করছি। আশা করছি দেশে ফিরেই নতুন কাজে হাত দেব। আমি সবসময় এডভান্স ভেবেছি। এবারেও তাই। একেবারে তরুনদের জীবন নিয়ে কাজ করতে চাই। দারুণ একটা ছবির প্লট মাথায় ঘুরছে। দেখা যাক ।

ইত্তেফাক/বিএএফ

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত