‘সবাই তো আর ইত্তেফাক না’

‘সবাই তো আর ইত্তেফাক না’
কিংবদন্তী অভিনেতা চিত্রনায়ক ফারুক। ফাইল ছবি

গণমাধ্যম দ্রুত গতকালকে ভুলে যেতে ভালোবাসে। আর তারকাজীবনের উদয়-অস্ত নিয়ে তো কত সিনেমা- হয়ে গেল। এর বাইরে অনলাইন গণমাধ্যমের যথেচ্ছাচার ব্যবহার ইদানিং অনেককেই চিন্তিত করে তুলেছে। দৈনিক ইত্তেফাকে নায়করাজ রাজ্জাক একটি ইন্টারভিউতে স্বয়ং বলেছিলেনমৃত্যুর আগেই আমি আমার ১৮ বার মরে যাবার সংবাদ পড়ে গেলাম। এই সৌভাগ্য কজনার জোটে!’ অভিনেতা এটিএম শামসুজ্জামানকেও আমরা মেরে ফেলি প্রতিমাসে দু একবার। দায়িত্বহীন এই ব্রেকিং দেবার স্থুল প্রতিযোগিতায় আমরা দেশবরেণ্য মানুষদের মরার আগেই দ্রুত মেরে ফেলার চেষ্টা করি!

সম্প্রতি অসুস্থ রয়েছেন আরেক কিংবদন্তী অভিনেতা চিত্রনায়ক ফারুক। তিনি বাংলাদেশের দুটি হাসপাতালে চিকিৎসা নেবার পর উচ্চ চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুর মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। গত ১৩ সেপ্টেম্বর থেকে তিনি সেখানে চিকিৎসা নিচ্ছেন। মুঠোফোনে তার সাথে যোগাযোগ করা হলে চিত্রনায়ক ফারুক বলেন, ‘খুবই খুশি হয়েছি যে তোমরা খোঁজ নিয়েছ। নয়তো বেশ কিছু পোর্টালে দেখলাম আমাকে মৃত বা মৃতপ্রায় হিসেবে ঘোষণা দিয়েছে। এজন্য অনেককেই আমি বলি, সবাই তো আর ইত্তেফাক না। কেউ আমার খোঁজ না নিলেও তোমরা নিয়েছ।

তিনি বলেন, ‘আমাদের প্রিয় মঞ্জু [আনোয়ার হোসেন মঞ্জু, এমপি] ভাই কেমন আছেন? তাকে আমার সালাম জানিও। উনি আমাকে ভীষণ ভালবাসেন।নিজের শারীরিক পরিস্থিতির কথা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আসলে এই করোনাসংকটকালে চিকিৎসা পদ্ধতিতে একেবারে আমূল পরিবর্তন হয়ে গেছে! চিকিৎসার খরচ বেড়ে গেছে কয়েকগুন। যা আগে - লাখে হয়ে যেত তা এখন ঠেকেছে কোটিতে। তবে আল্লাহর রহমতে শরীর এখনও স্থিতিশীল আছে। সবার দোয়া পাচ্ছি। অনেকেই ফোন দিয়ে কুশলাদি জানতে চাইছে। ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির বাইরেও গণমানুষের ভালোবাসা আমি পাই সবসময়।

আরো কিছু টেস্ট শেষ করে খুব জলদিই দেশে ফিরবেন বলে জানান তিনি। উল্লেখ্য, সিঙ্গাপুরের মাউন্ড এলিজাবেথ হাসপাতালে চিত্রনায়ক ফারুক মূলত গত বছর ধরেই নিয়মিত চেক আপ করে আসছেন। সেখানে বর্তমানে . লাইচোর অধীনে বর্তমানে চিকিৎসা নিচ্ছেন। শরীরে হঠাৎ হঠাৎ জ্বর অনুভব হওয়ার কারণটাই খুঁজছেন চিকিৎসকেরা। চিকিৎসকদের ধারণা তিনি টিবি রোগে ভুগছেন।

ফারুক বলেন, ‘জীবনেও এত টেস্ট করাইনি। করোনা থেকে শুরু করে টাইফয়েড, ব্রংকাইটিস সব টেস্টই করিয়েছি। তবে চিকিৎসকেরা প্যানেল বসিয়ে নিরীক্ষা করছেন। তেমন আশংকার খবর এখনও মেলেনি। দেশবাসীর কাছে দোয়া চাই শুধু।চলচ্চিত্রের অনুজ সহকর্মীরা কেমন খোঁজ নিচ্ছেন জানতে চাইলে বলেন, ‘নিচ্ছে অনেকেই। ওরা আসলে সবাই আমাকে ভীষণ ভালোবাসে। দেশে ফিরে সবাইকে নিয়েই একসাথে একটা বিকেল কাটাতে চাই। ওরাই তো আমার সন্তান।

কিভাবে সারাদিন কাটছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এখানে আমি আর তোমাদের ভাবী দুজনেই এসকোর্ট নামের একটি হোটেলে থাকছি। প্রায় রেগুলার এখান থেকে হাসপাতালে যেতে হচ্ছে চেকআপের জন্য। এরবাইরে অনলাইনে দেশের খবর নেওয়া। আমার কর্মীদের সাথে যোগাযোগ। টিভি দেখা, বই পড়ে সময় কাটাই। ফিল্মের সহকর্মীদের সাথে নিয়মিত আলাপ সবই চলছে। বাইরের খোঁজ খবরও নিচ্ছি। যেমন ওপারের সৌমিত্রের শারীরিক খবর শুনেও খুব খারাপ লাগলো। আমাদের দুজনার পরিচয় আছে।

হঠাৎ অসুস্থতায় দেশের বাইরে এভাবে থাকতে মন চাইছে না তার। তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন আর কিছু টেস্ট শেষ করে খুব জলদি দেশে ফেরার অনুমতি পাবেন তিনি। সবার প্রতি শেষে একটা অনুরোধ জানিয়ে বললেন, ‘হায়াত মউত পুরোটাই আল্লাহর হাতে। তাই তার নির্দেশের আগে প্লিজ কোনো কোনো গণমাধ্যম আমাকে মেরে ফেলো না ভাই দয়া করে!’

ইত্তেফাক/এসি

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত