মাধ্যম খুঁজবে দর্শকরা আমরা খুঁজবো গল্প :পলাশ

মাধ্যম খুঁজবে দর্শকরা আমরা খুঁজবো গল্প :পলাশ
জিয়াউল হক পলাশ

এ সময়ের টিভি নাটকের অন্যতম জনপ্রিয় তারকার নাম জিয়াউল হক পলাশ। খুব অল্প সময়েই নিজের সাবলীল অভিনয় দিয়ে সহকর্মীদের কাছে ঈর্ষার নাম হয়েছেন তিনি। তাই পলাশ যে নাটকে থাকেন সে নাটকে তার চরিত্রটিই হয়ে যায় কেন্দ্রীয়! এই অদ্ভুত সমীকরণ তৈরি হয়েছে পলাশের মেধাগুণে। বিনোদন প্রতিদিনে সাম্প্রতিক সময়ের কাজ নিয়ে কথা বলেছেন তিনি। সাক্ষাত্কার নিয়েছেন তানভীর তারেক

কেমন আছেন?

এই সময়ে নিজের ও পরিবারের যত্ন নিয়ে যতটুকু সুস্থ থাকা যায় তেমনটাই আছি। নিজের অভিনয়, নির্মাণ এসব নিয়েই ব্যস্ত সময় যাচ্ছে।

একটা বিষয় এখন খুবই আশঙ্কার। তা হলো শুটিং ফ্লোর থেকেই একাধিক তারকা করোনায় আক্রান্ত হচ্ছেন। যেমন তাহসান, অপূর্ব থেকে অনেকেই। সেক্ষেত্রে নিজের ক্ষেত্রে ভয় কাজ করে কি-না? আপনারাই বা কতটা সচেতন হচ্ছেন এখন?

এখন পর্যন্ত আমাদের ইউনিটটাই সবচেয়ে সুরক্ষাই আছি এটুকু বলতে পারি। আসলে এই অদৃশ্য ভাইরাসের বিষয়ে তো আমরা কেউই বাজি লাগতে পারবো না। তবে সাবধানতার ক্ষেত্রে আমি বলি, আমরা যথাসাধ্য চেষ্টা করছি। আমাদের প্রতিটি প্রডাকশনে মাস্ক, স্যানিটাইজের জন্য আলাদা করে প্রতিদিন ৫/৬ হাজার এক্সট্রা খরচ হচ্ছে। নিজেরাও নিজেদের ইউনিটের প্রত্যেক সদস্যদের শরীর ও পরিবারের খোঁজ নিচ্ছি এবং আমাদের টিমে এখন হুট করে নতুন কাউকে নেওয়ার ব্যাপারেও সচেতন থাকছি। উপরওয়ালার রহমতে এখন সুরক্ষা ও সচেতনতা নিয়ে কাজ করে যাওয়াটাই মূল বিষয়। কারণ কাজ থামিয়ে দিলে একসঙ্গে অনেকগুলো পরিবার সংকটে পড়বে। তাই সেটাও কোনো সমাধান না।

নিজের পরিচালনায় কতটুকু সময় দিচ্ছেন বা দিতে পারছেন?

অভিনয় ও নির্মাণ আমার সমান্তরালে চলছে। এর কখনো ব্যত্যয় ঘটবে না। কারণ দুটোকেই আমি ভীষণ ভালোবাসি। দুটোই আমি। এরইমধ্যে দুটো নাটকের কাজ শেষ করলাম। খুব শিগগিরই তা দেখতে পারবেন।

এখন তো টিভি নাটকও দর্শকরা ইউটিউবে দেখে। ওয়েব সিরিজেও আগ্রহ বাড়ছে। সেক্ষেত্রে টিভি চ্যানেলের কাজের অফারে কতটা আগ্রহ থাকে পলাশের?

দেখুন, মাধ্যম খুঁজবে দর্শকরা, আমরা খুঁজবো গল্প। এটাই মূল অঙ্ক। আপনি আজকেও জানেন না। আগামী ১০ বছর পর ইউটিউবও থাকবে কি-না। নতুন আরেক প্রযুক্তি হয়তো তখন আমাদের গ্রাস করবে! কিন্তু নাটক, এই গল্প বলা থেকে যাবে। তাই যেখান থেকেই কাজের অফার আসুক না কেন, গল্পটা আগে দেখি। আমার চরিত্রের গুরুত্বটা আগে দেখি। এর বাইরে কে কোন মাধ্যমে কিভাবে দেখাবে এটা প্রযোজকদের ব্যাপার। একজন অভিনেতা পলাশের ব্যাখ্যাটা এ রকম। আবার নির্মাতা পলাশের ব্যাখ্যা কিন্তু অন্য।

সেটা কী রকম?

দেখুন, আমি যদি ইন্ডাস্ট্রির নতুন নির্মাতা হই। ধরুণ আমি ভালো গল্প বলতে পারি। এখন আমার জন্য একটা বড় প্লাটফর্ম দরকার। সেই কাজটি কিন্তু টিভি চ্যানেল সাপোর্ট দিতে পারে। আবার টিজি গ্রুপ ভেদে যদি আমি কাজ করি তাহলে ওটিটি বা ইউটিউব ভালো একটা প্লাটফর্ম।

এবারে বলুন ফ্যামিলি ক্রাইসিস থেকে আপনার হঠাত্ চলে যাওয়ার কারণ কী?

এটা তো নির্মাতার ব্যাপার। নির্মাতা চেয়েছে সেভাবে গল্পটা ঘুরিয়ে নেবে। তাই গল্প থেকে আমি বাদ পড়েছি। এটা একেবারেই ডিরেক্টরের বিষয়। এই প্রশ্নের জবাব তার কাছে।

ব্যাচেলর পয়েন্ট নাটক নিয়ে আপনারা যাচ্ছেন নোয়াখালি। বিশেষ কোনো কারণ?

গল্পের প্রয়োজনেই। ধারাবাহিকগুলো অনেক ক্ষেত্রেই দর্শকদের মোটিভের ওপর নির্ভর করে। সেই হিসেবে নোয়াখালিতে।

সেক্ষেত্রে নতুন আরো কোনো সিজনে অন্য কোনো বিভাগে যাওয়ার কোনো পরিকল্পনা আছে কী?

না, সেটা আপাতত নেই। নোয়াখালি যাওয়াটা খুবই প্রাসঙ্গিক। সেকারণেই সেখানে পুরো টিম নিয়ে শুটিং করা।

ইত্তেফাক/এএএএম

Nogod
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত