রাজ্জাক-কবরীকে নিয়ে যে দাবি করলেন মিশা

রাজ্জাক-কবরীকে নিয়ে যে দাবি করলেন মিশা
ছবি: সংগৃহীত

টানা ১২ দিন করোনা ভাইরাসের সঙ্গে লড়াই করে হেরে গেছেন কিংবদন্তি অভিনেত্রী সারাহ বেগম কবরী। চলে গেছেন পরপারে। শুক্রবার রাত ১২টার দিকে রাজধানীর শেখ রাসেল গ্যাস্ট্রোলিভার হাসপাতালে তিনি মারা যান। শনিবার যোহরবাদ ‘মিষ্টি মেয়ে’ খ্যাত এই অভিনেত্রীর দাফন সম্পন্ন হয়েছে। দাফনের আগে সাংবাদিকদের সাথে কথা বলেন অভিনেতা ও চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সভাপতি মিশা সওদাগর।

এসময় মিশা সওদাগার বলেন, ‘আমাদের দেশের স্থপতি যেমন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তেমনি বাংলা চলচ্চিত্রের স্থপতি নায়ক রাজ রাজ্জাক ও সারাহ বেগম কবরী। তারা যে পথ আমাদের দেখিয়ে গেছেন সেই পথে হাঁটছি। তাদের পথ অনুসরণ করে আজ আমাদের বাড়ি-গাড়ি হয়েছে। এমন গুণীদের চলে যাওয়াটা আসলেই মেনে নেওয়া যায় না।’

মিশার কথায়, ‘বিশেষ করে কবরী ম্যাডাম মৃত্যুর আগ পর্যন্ত কাজ করে গেছেন। তিনি আমাদের অভিভাবক ছিলেন। আমি আজ আপনাদের মাধ্যমে সরকারকে একটি অনুরোধ করতে চাই, আমাদের যে ফিল্ম আর্কাইভ রয়েছে সেটির নাম রাজ্জাক-কবরী করা উচিৎ। আমি শিল্পী সমিতির পক্ষ থেকে এই দাবি জানাচ্ছি।’

মিশার ভাষ্য, ‘রাজ্জাক-কবরীর যে অবদান আমরা তা প্রত্যেকেই জানি। আমাদের মনসপটে আমরা যদি একটা জিনিস দেখি তাহলে এই দুজনের স্মৃতি জ্বলজ্বল করে ভাসবে। আমার মনে হয় এই আর্কাইভটি যদি তাদের নামে উৎসর্গ করা হয় তাহলে তাদের সন্মান করা হবে। চলচ্চিত্র সমিতি অফিসিয়ালি একটি দরখাস্ত দেবে আশাকরি সরকার বিষয়টি বিবেচনা করবে।’

পুরোনো দিনের সেই চলচ্চিত্রই যদি খুঁজে না পাওয়া যায় তাহলে পুরোনো দিনের সংস্কৃতিকেও খুঁজে পাওয়া যাবে না। ফলে সংস্কৃতির স্বার্থেই চলচ্চিত্র সংরক্ষণ করা জরুরি। সেই লক্ষ্যেই ১৯৭৮ সালের ১৭ মে যাত্রা শুরু করে বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভ।

১৯৭৮ সালের ১৭ মে একেএম আব্দুর রউফ-এর নেতৃত্বে ধানমন্ডির শংকরের একটি ভাড়া বাড়িতে কার্যক্রম শুরু হয় ফিল্ম আর্কাইভের। কিন্তু স্থান স্বল্পতার কারণে সেখানে বেশি দিন কার্যক্রম চালানো সম্ভব হয়নি। এরপর ১৯৮৫ সালে আর্কাইভ স্থানান্তরিত হয় গণভবনে। এখানের ৩ নম্বর ব্লকে দুটি ফ্লোর নিয়ে কার্যক্রম চালায় ফিল্ম আর্কাইভ। কিন্তু এখানেও স্থায়ীভাবে থাকতে পারেনি এটি। ১৯৯৮ সালে আবার স্থান পরিবর্তন করে চলে যায় কলেজগেটের একটি ভাড়া বাড়িতে। এখানেও দুটি ফ্লোর বরাদ্দ পায় আর্কাইভ। ২০০৮ সালে তৃতীয়বারের মতো ফিল্ম আর্কাইভ স্থানান্তরিত হয় শাহবাগের বেতার ভবনে। নতুন ভবন নির্মাণের পূর্ব পর্যন্ত বেতার ভবনেরই একটি ফ্লোরে আর্কাইভের কার্যক্রম চলে। অবশেষে ২০১৭ সালের জুলাই মাসে নিজস্ব ভবনে স্থানান্তরিত হয় আর্কাইভ। এখন আগারগাঁওয়ে ১.১২ একর জমির ওপর নির্মিত সাততলা বিশিষ্ট এ ভবনটিতে সর্বাধুনিক প্রযুক্তি নিয়ে নতুন করে পথ চলছে আর্কাইভ।

ইত্তেফাক/বিএএফ

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
আরও
আরও
x