কবরী কেনো কানাডার নাগরিকত্ব নেননি

কবরী কেনো কানাডার নাগরিকত্ব নেননি
সারাহ বেগম কবরী। ছবি: সংগৃহীত

সদ্য প্রয়াত কিংবদন্তীতুল্য অভিনেত্রী কবরী। ২০০৭ সালে ইমিগ্রেশন নিয়ে কানাডায় এসেছিলেন তিনি। বেশ কয়েক মাস ছিলেন টরন্টোস্থ থ্রি ম্যাসিতে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তিনি ইমিগ্রশন না নিয়েই সেই বছরই ফিরে যান বাংলাদেশে।

কানাডায় অভিবাসী হবার অন্যতম প্রধান কারণ ছিলো- তার ছোট ছেলে সামান্য প্রতিবন্ধী ছিলো। সেই অসুস্থ ছেলেটি যাতে সুস্থভাবে সুন্দর জীবন-যাপন করতে পারে। কানাডায় আসার পর তিনি প্রবাস জীবনের কঠিন বাস্তবতার চালচিত্র দেখে হতাশ হয়ে পড়েন এবং দ্রুত ফিরে যারার সিদ্ধান্ত নেন।

কানাডা থাকার অফুরন্ত সময়ে তিনি তার আত্মজীবনী অর্থাৎ স্মৃতিকথা অনুলিখন শুরু করেন। সেই সাথে অভিবাসীদের নিয়ে দ্বিতীয় ছবি বানানোর পরিকল্পনা করেন। তিনি স্বদেশে ফিরে যাবার প্রেক্ষিতে আত্মজীবনী লেখা আর ছবি নির্মাণের বিষয় বাতিল হয়ে যায়।

পরবর্তী কালে কবরী এই প্রতিবেদককে জানান, তিনি রাজনীতিতে নামবেন; ইলেকশন করবেন নারায়ণগঞ্জ-৪ থেকে। সেই জন্য কানাডার পি আর কার্ড সারেন্ডার করেন। কারণ, সাংসদ-মন্ত্রিদের দ্বৈত নাগরিক বিধি সম্মত নয়। তাই তিনি আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল ছিলেন। ফলে তা গোপন করেন নি।

দ্বিতীয়ত: বাংলাদেশ, দেশের মানুষ, শিল্প-সংস্কৃতির সঙ্গে এতো নিবিড়ভাবে জড়িয়ে ছিলেন যে সেই নাড়ির বন্ধন থেকে নিজেকে বিচ্ছিন্ন করা তার পক্ষে কঠিন ছিলো।

তৃতীয়ত: সেই সময়টা ছিলো তার জীবনের আরেক কঠিন সময়। বিবাহবিচ্ছেদ, সংসারে ভাঙ্গন বিষয়টি তাকে অনেক কিছু থেকেই অনাগ্রহ করে তুলেছিলো। তার মধ্যে কানাডার নাগরিকত্বের সোনার হরিণ ধরেও ছেড়ে দেয়া!

রাজধানীর বনানী কবরস্থানে চিরনিদ্রায় শায়িত হয়েছেন অভিনেত্রী সারাহ বেগম কবরীকে। শনিবার (১৭ এপ্রিল) দুপুর ২টার দিকে বনানী কবরস্থানে জানাজা ও গার্ড অব অনার প্রদান শেষে তাকে সমাহিত করা হয়। এর আগে দুপুর ১২টার দিকে বাসায় নেওয়া হয় সারাহ বেগম কবরীকে। সেখানে কিছুক্ষণ রাখা হয় তাকে। পরে বাদ জোহর তার মরদেহ নেওয়া হয় বনানী কবরস্থানে। সেখানে গার্ড অব অনার প্রদানের পর তার নামাজে জানাজা সম্পন্ন হয়। এ সময় সেখানে উপস্থিত হন তার দীর্ঘদিনের সহকর্মী, আত্মীয়-স্বজন, পরিবারের সদস্য ও শুভানুধ্যায়ীরা। এরপর সমাহিত করা হয় দেশের চলচ্চিত্রের এই উজ্জ্বল নক্ষত্রকে।

গত ৫ এপ্রিল পরীক্ষায় কবরীর করোনা শনাক্ত হয়। সেদিন রাতেই তাকে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে আইসিইউ শয্যা খালি না থাকায় পরে তাকে শেখ রাসেল গ্যাস্ট্রোলিভার হাসপাতালে নেওয়া হয়। বৃহস্পতিবার তাকে লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হয়। শুক্রবার রাত ১২টা ২০ মিনিটে লাইফ সাপোর্টে থাকা অবস্থায় চলচ্চিত্রের ‘মিষ্টি মেয়ে’খ্যাত কবরী শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

ইত্তেফাক/বিএএফ

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
আরও
আরও
x