বুদ্ধদেব দাশগুপ্তের মৃত্যুতে বিমর্ষ তারকারা

বুদ্ধদেব দাশগুপ্তের মৃত্যুতে বিমর্ষ তারকারা
ছবি: সংগৃহীত

ভারতের বিখ্যাত চলচ্চিত্র পরিচালক বুদ্ধদেব দাশগুপ্ত মারা গেছেন। বৃহস্পতিবার (১০ জুন) সকাল আনুমানিক ছয়টায় দক্ষিণ কলকাতার নিজের বাসভবনে মৃত্যু হয় তার। গুণী নির্মাতাকে হারিয়ে কাঁদছেন সাধারণ ভক্ত অনুরাগী থেকে শুরু করে সিনেমাপ্রেমী বাঙালি নির্মাতা, অভিনেতারাও। স্মৃতিচারণ করছেন এই নির্মাতার সাথে ব্যক্তিগত কোনো মুহূর্ত বা তার কাজ নিয়ে। সামাজিক মোযাযোগ মাধ্যমে তারা শোক প্রকাশ করেছেন।

শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়

কবিতা কোথায় থামে, কোন ফ্রেমে ফুরোয় আখ্যান। ইতিহাস সাক্ষী আছে। বুদ্ধদেব নীরবেই যান।

শ্রীলেখা মিত্র

সাল ২০০২। ছবির দুনিয়ায় তখনও আমি নতুন। হঠাৎ বুদ্ধদেব দাশগুপ্তের ফোন। নিজেই জানালেন, ‘‘যৌন কর্মীদের নিয়ে একটি ছবি বানাব। ‘মন্দ মেয়ের উপাখ্যান’। তোমাকে একজন যৌন কর্মীর ভূমিকায় অভিনয় করতে হবে। তুমি করবে?’’ জাতীয় পুরস্কারজয়ী পরিচালক নিজে যোগাযোগ করে অভিনয়ের জন্য ডাকছেন! সেই ডাক কী করে উপেক্ষা করি? খুশি মনেই রাজি হয়েছিলাম। সেই প্রথম তার ছবিতে আমার কাজ। ভীষণ অল্প কথার মানুষ ছিলেন বুদ্ধদেব দাশগুপ্ত। একমাত্র কাজ নিয়ে নায়িকা, অভিনেতাদের সঙ্গে তিনি কথা বলতেন। বাকি সময় নিজের মতো চুপচাপ থাকতেন। অনেক পরিচালক শুটের আড্ডা দেন অভিনেতা, অভিনেত্রীদের সঙ্গে। বুদ্ধদেব বাবু তেমন ছিলেন না। ফলে, ভয়ে ভয়ে একটু দূরত্ব বজায় রেখেই চলতাম তার থেকে। কিন্তু শিক্ষক হিসেবে ভীষণ ভাল ছিলেন। কাজের বিষয়ে ভীষণ খুঁতখুঁতেও ছিলেন বুদ্ধদেব দাশগুপ্ত। যেটা স্বাভাবিক সেটাই ক্যামেরাবন্দি করতে ভালবাসতেন। ভোরের প্রথম আলো ধরার জন্য রাত আড়াটের সময় কল টাইম দিতেন।

গুলশান আরা আক্তার চম্পা

‘দুই দিন আগেও বুদ্ধদেব দাশগুপ্তের সঙ্গে কথা বলতে চেয়েছিলেন তিনি, তা আর হল না। উনি আমাকে ‘দিদি’ ডাকতেন। ছোট বোনের মত আদর করতেন, ভালোবাসতেন। ‘লাল দরজা’ করতে গিয়ে তার পরিবারের সঙ্গে আমাদের পরিবারের ভালো সম্পর্ক তৈরি হয়েছিল।

মোস্তফা সরয়ার ফারুকী

আমি বিভিন্নভাবে তাঁর কাছে ঋণী। তিনি একজন চলচ্চিত্র নির্মাতা হিসাবে তিনি অবশ্যই আমাদের মাস্টার ছিলেন। প্রজন্মকে অনেক অনুপ্রাণিত করেছিলেন! সিনেমার জগতে তাঁর অবদান সম্পর্কে আমার সম্ভবত কিছু লেখার দরকার নেই। তার উদার সহায়তার জন্য আমি কতোটা কৃতজ্ঞ তা বলে বোঝাতে পারবো না! আমি আশা করি আমার কৃতজ্ঞতা এখন আপনার কাছে পৌঁছেছে, বুধদেব দা!

সোহম চক্রবর্তী

বাংলা ছবির ইন্দ্রপতন। প্রয়াত পরিচালক, কবি বুদ্ধদেব দাশগুপ্ত। তাঁর আত্মার শান্তি কামনা করি। সিনেপ্রেমী বাঙালীর মনে আপনি চিরকাল থেকে যাবেন।

ইত্তেফাক/বিএএফ

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
আরও
আরও
x