নতুন গানের জন্য সৈয়দ আব্দুল হাদীর ১ মাস চর্চা

নতুন গানের জন্য সৈয়দ আব্দুল হাদীর ১ মাস চর্চা
সৈয়দ আব্দুল হাদী। ছবি: সংগৃহীত

সৈয়দ আব্দুল হাদী। দেশীয় মিউজিক ইন্ডাস্ট্রির জীবন্ত কিংবদন্তি সঙ্গীতশিল্পী তিনি। ‘আছেন আমার মোক্তার’, ‘এমনও তো প্রেম হয়’, ‘যে মাটির বুকে ঘুমিয়ে আছে’, ‘চোখ বুঝিলে দুনিয়া আন্ধার’, ‘যেও না সাথী’, ‘চক্ষের নজর এমনি কইরা’, ‘একবার যদি কেউ ভালোবাসতো’, ‘চলে যায় যদি কেউ বাঁধন ছিঁড়ে’, ‘জন্ম থেকে জ্বলছি মাগো’ গানের মতো অসখ্য কালজয়ী গান উপহার দিয়েছেন তিনি। এবার ‘ঐশ্বর্য’ শিরোনামে নতুন একটি গানে কণ্ঠ দিলেন সৈয়দ আব্দুল হাদী। এই গানটি গাইতে নাকি তিনি সময় নিয়েছেন এক মাস। অর্থাৎ এতো বড় মাপের একজন শিল্পী একটি গান গাইতে একমাস রেওয়াজ করার সময় নিলেন! এতে অবাক তার সহকর্মীরা।

‘কোথায় বাহির কোথায় যে অন্দর, কোথায় আপন কোথায় থাকে পর, আমি ঘরের মাঝে খুঁজি মনের ঘর, মনের মাঝে প্রশ্ন জাগে পাই না উত্তর, আমি পাই না উত্তর’ এমন কথার গানটি দরদভরে গেয়েছেন এই গুণী শিল্পী। গানটির সুর করেছেন কিশোর। এই প্রথমবার কিশোরের সুরে গাইলেন দেশের সৈয়দ আব্দুল হাদী।

সম্প্রতি ‘ঐশ্বর্য’ গানের পেছনের গল্প বলেছেন গীতিকবি আসিফ ইকবাল। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তিনি লিখেছেন, ‘গানটা কিশোর সুর করার পরই আমার আর কিশোরের মনে হলো এ গান হাদী ভাইয়ের জন্যই যেনো বানানো। তিনি গাইলে নিশ্চিত এ গানটি প্রাণ পাবে। যেই ভাবা সেই কাজ। হাদী ভাই থেকে অনুমতি নিতে ফোন করলো। হাদী ভাই বললেন, গান পছন্দ হলে গাইবেন, নয়তো না। গান পাঠাও। কিশোর পাঠালো। হাদী ভাই গান শুনে পছন্দ করলেন। বললেন, গাইতে সময় লাগবে। এর মধ্যে তিনি গানটা প্রাকটিস করবেন। বলেন কি তিনি! যার দরাজ কণ্ঠে যে কোনো গান জীবন্ত হয়ে ওঠে তার কেনো সময় নিয়ে গান করতে হবে? তিনি তো এসেই স্টুডিওতে গেয়ে দিয়ে যাবেন। কিন্তু না, তিনি ঠিক এক মাস সময় নিয়ে প্রাক্টিস করেই গানটায় কণ্ঠ দিলেন। গত পরশু (বুধবার) ছিলো সেই কাঙ্ক্ষিত দিন। হাদী ভাইয়ের রেকর্ডিং ছিলো চ্যানেল আইয়ের স্টুডিওতে। গানের রেকর্ডিস্ট আজম বাবু ভাইয়ের ওপর হাদী ভাই- এর অগাধ আস্থা। গান গাইলেন আমাদের মোহিত করে।’

সৈয়দ আব্দুল হাদী। এক কালজয়ী কণ্ঠশিল্পীর নাম। আমাদের সকলের কাছে তিনি একজন জীবন্ত কিংবদন্তি। সেই অসাধারণ শিল্পী গাইলেন...

Posted by Asif Iqbal on Friday, June 18, 2021

তিনি আরও লিখেছেন, ‘আশির ওপরে বয়স কিন্তু এখনো কি দরাজ কণ্ঠ। শুনলেই প্রাণ জুড়িয়ে যায়। শেষে লিরিকে আমার একটা ভুল হয়েছিলো। শুধরে সেটাও দুইবার তিনি গেয়ে দিলেন। তারপর মগ্ন হয়ে তার সঙ্গে আমরাও শুনলাম। না, কোনো কারেকশন নেই। মাত্র এক ঘণ্টার ভয়েস ডাবিং শেষ। অকল্পনীয়! গান শুনতে শুনতে গল্প হলো অনেক। সে গল্পে করোনার শঙ্কা থেকে তার সমসাময়িক কণ্ঠশিল্পীদের হারিয়ে ফেলার বেদনা যেমন ছিলো, অনেকদিন পর গান গাওয়ার তৃপ্তিও ছিলো। শ্রদ্ধা আর ভালোবাসা প্রিয় হাদী ভাই আমাদের এ গান গাওয়ার জন্যে। আমরা আপনার কাছে কৃতজ্ঞ। ঐশ্বর্য। প্রাণের গান। মনের টান।’

ইত্তেফাক/বিএএফ

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
আরও
আরও
x