পুরস্কার পায়নি ‘রেহানা মরিয়ম নূর’

আশা ভঙ্গ বাংলাদেশের

আশা ভঙ্গ বাংলাদেশের
সাল দুবুসি থিয়েটারে ‘রেহানা মরিয়ম নূর’ ছবির কলাকুশলীরা। ছবি: সংগৃহীত

আশা ভঙ্গ হলো বাংলাদেশের। প্রত্যাশা জাগানোর পরও শেষ পর্যন্ত খালি হাতে ফিরলো ‘রেহানা মরিয়ম নূর’। পুরস্কার জয়ের আনন্দে ভাসা হলো না আবদুল্লাহ মোহাম্মদ সাদ ও আজমেরী হক বাঁধনের। কান চলচ্চিত্র উৎসবের ৭৪তম আসরে আঁ সার্তে রিগা বিভাগে দেওয়া ছয়টি পুরস্কারের একটিও আসেনি তাদের হাতে। গতকাল রাতে পালে দে ফেস্টিভাল ভবনের সাল দুবুসি প্রেক্ষাগৃহে বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করা হয়। এখানে সাদ ও বাঁধনের পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন ছবিটির প্রযোজক জেরেমি চুয়া ও কারিগরি বিভাগে কাজ করা শিল্পীরা।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম থেকে শুরু করে চলচ্চিত্র বোদ্ধা, সংবাদকর্মী ও দর্শকরা কানসৈকতে ছবিটির ভূয়সী প্রশংসা করেছিলো। কানের অফিসিয়াল সিলেকশনের ইতিহাসে ‘রেহানা মরিয়ম নূর’ বাংলাদেশের প্রথম ছবি। মিটু আন্দোলনের বার্তা রয়েছে এতে। ছবিটির নীল রঙ, চিত্রগ্রহণ, শব্দ, নতুন ঢঙের পরিচালনা এবং বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজের শিক্ষক ও মায়ের চরিত্রে বাঁধনের দারুণ অভিনয় মিলিয়ে পুরস্কারপ্রাপ্তির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিলো। সবার চোখ ছিলো কানে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আশা পূরণ হলো না।

আঁ সার্তে রিগা বিভাগে সেরা চলচ্চিত্র হয়েছে রাশিয়ার নারী নির্মাতা কিরা কোভালেনকার ‘আনক্লেনসিং দ্য ফিস্টস’। ছবিটির গল্প এক তরুণীকে ঘিরে। নিজের পরিবারকে সে খুব ভালোবাসে। কিন্তু এই পরিবারেই তার দমবন্ধ হয়ে ওঠে। তাই পরিবার থেকে মুক্ত হওয়ার লড়াই করে মেয়েটি।

আঁ সার্তে রিগা বিভাগের বিচারকদের সঙ্গে বিজয়ীরা। ছবি: ইত্তেফাক

এবারের আঁ সার্তে রিগা’য় বিচারকদের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন ব্রিটিশ নারী নির্মাতা আন্দ্রেয়া আর্নল্ড। সেজন্যই হয়তো ছয়টি পুরস্কারের চারটিই জিতেছে নারী পরিচালকের ছবি। এর মধ্যে ফরাসি অভিনেত্রী-নির্মাতা আফসিয়া আর্জির ‘গুড মাদার’ ছবিটি সম্মিলিত অভিনয়ের পুরস্কার জিতেছে। স্পেশাল মেনশন পেয়েছে মেক্সিকোর তাতিয়ানা হয়েসো পরিচালিত ‘প্রেয়ারস ফর দ্য স্টোলেন’।

প্রাইজ ফর কারেজ পেয়েছে রোমানিয়ার‌ তেওদোরা আনা মিহাই পরিচালিত প্রথম ছবি ‘লা সিভিল’। আইসল্যান্ডের ভালদিমার ইওহানসনের প্রথম ছবি ‘ল্যাম্ব’ জিতেছে প্রাইজ ফর অরিজিনালিটি সম্মান। জুরি প্রাইজ পেয়েছে অস্ট্রিয়ার সেবাস্টিয়ান মায়েসের ‘গ্রেট ফ্রিডম’। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন কান উৎসবের পরিচালক থিয়েরি ফ্রেমো। শুরুতে আঁ সার্তে রিগায় নির্বাচিত ২০টি ছবির অংশবিশেষ দেখানো হয়। এর মধ্যে স্বাভাবিকভাবেই ছিলো ‘রেহানা মরিয়ম নূর’।

আগামীকাল বিকালে ফিপ্রেসকি (ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন অব ফিল্ম ক্রিটিকস) পুরস্কার দেওয়া হবে। এতে বাংলাদেশের ছবিটির স্বীকৃতি পাওয়ার সুযোগ আছে। ২০০২ সালে তারেক মাসুদের ‘মাটির ময়না’ প্যারালাল বিভাগ ডিরেক্টর’স ফোর্টনাইট থেকে এই পুরস্কার পেয়েছিলো। কানে বাংলাদেশের একমাত্র পুরস্কার এটাই। তবে অফিসিয়াল সিলেকশনে ‘রেহানা মরিয়ম নূর’ ছবির স্থান পাওয়া বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি।

শনিবার (১৭ জুলাই) সম্মানজনক কান উৎসবের পর্দা নামবে। আজ রাতে ঘোষণা করা হবে এই আয়োজনের সর্বোচ্চ পুরস্কার স্বর্ণ পাম বিজয়ী ছবির নাম। তামাম দুনিয়া এখন সেদিকে তাকিয়ে।

ইত্তেফাক/বিএএফ

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
আরও
আরও
x