চলচ্চিত্র পরিচালক ২০১৯

ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির সফল ক্যাপ্টেন যারা

প্রকাশ : ১৬ জুলাই ২০১৯, ০৯:১৩ | অনলাইন সংস্করণ

  তানভীর তারেক

ছবি-সংগৃহীত

ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির স্বর্ণালী যুগ পেরিয়ে এখন কোন তাম্র যুগ চলছে তা বলা মুশকিল। এক সময় শহীদুল ইসলাম খোকন তার ছবিতে সবার চেয়ে বেশি পারিশ্রমিক নিতেন। আজ তা স্বপ্নের মতো। আজকের দিনে শাকিব খানের অর্ধেক পারিশ্রমিকও পাননা নির্মাতা। সেটেও নির্মাতাদের সেই দাপট আর নেই। এফডিসির পুরনো নির্মাতারা এখন অধিকাংশই পরিচালক সমিতির আড্ডার টেবিলেই পাওয়া যায়। তবুও যে কজন ব্র্যান্ড নির্মাতার নামে চলচ্চিত্র দর্শকদের নতুন আগ্রহ তৈরি করে। যাদের ছবিতে পাত্র-পাত্র মুখ্য নয়। সেভাবেই সাজানো আজকের প্রতিবেদন —

বদিউল আলম খোকন

গত দুই দশকের বিবেচনায় সবচেয়ে ব্যবসাসফল ছবির নির্মাতা তিনি। তার ছবির গল্প বা মেকিং এসব নিয়ে বিস্তর গবেষণা , আলোচনা সমালোচনা হতেই পাওে, কিন্তু ফ্যান্টাসি মুভি আর শাকিব খানকে সার্বজনীন জনপ্রিয়তা দিয়েছেন এই নির্মাতাই। মাঝে শাকিব খান-বদিউল আলম খোকন জুটির বিচ্ছেদ পর্ব চলছিল। তবে আবারও এই জুটি ছবি করছেন। এটাই আশার খবর। একই সাথে শাকিব-অপু জুটিকেও দর্শক মনে স্থায়িত্ব দিয়েছেন তিনি। আজকের নতুন শাকিবকে নিয়ে নির্মান করছেন আগুন। পরিচালক সমিতির নেতা হিসেবে তার দায়িত্ব নিষ্ঠার সাথে পালন করে চলেছেন। তবে এ সময়ের জনপ্রিয় ফিল্ম মেকারদের জরিপ করলে বদিউল আলম খোকনকে রাখতেই হবে সফল ক্যাপ্টেনের কাতারে। যার ধ্যান জ্ঞান শুধুই চলচ্চিত্র।

মালেক আফসারী

চলচ্চিত্রে রাজত্ব করেছেন একচেটিয়া সেই স্বর্নালী যুগে। মাঝে বিরতি। তবে বিরতির পর যে কজন সিনিয়র নির্মাতা আবারও সগৌরবে কামব্যাক করেছেন তাদের ভেতরে মালেক আফসারী অন্যতম নাম। সর্বশেষ ‘পাসওয়ার্ড’ ছবির সাফল্য দিয়ে নিজের আত্মগৌরব আরো সুপ্রতিষ্ঠিত করেছেন। তবে গণমাধ্যমে নিজের ছবির নির্মান, গল্পের মৌলিকত্ব নিয়ে নানান সময়ে নানান কথাবার্তায় সমালোচিতও হয়েছেন। চলচ্চিত্রে দেশের সাধারণ দর্শকদের নার্ভ বোঝেন এই নির্মাতা। তা তার ছবির গল্প-নির্মানে বিতর্ক থাকুক বা না থাকুক।

তৌকির আহমেদ

বাংলাদেশি চলচ্চিত্র নির্মাতা হিসেবে এক দারুণ গৌরবময় ক্যানভাসের নাম তৌকির আহমেদ। নিখুঁত নির্মাণ। নিজেকে বারবার ভাঙার প্রবণতা। এক দারুণ মুগ্ধতার নাম তৌকির আহমেদ। বাংলাদেশি চলচ্চিত্রের বিশ্বায়নে সবচেয়ে বড় ভুমিকা পালনের প্রত্যাশা হয়তো তার হাত ধরেই পূর্ণতা পাবে। জয়যাত্রা, অজ্ঞাতনামা, হালদা, ফাগুন হাওয়া এসব চলচ্চিত্র বাংলাদেশের প্রশংসিত চলচ্চিত্র হিসেবে যে কোনো তালিকার শীর্ষে থাকবে। থিয়েটারকর্মী- অতঃপর ছোটপর্দার সুপারস্টার থেকে শীর্ষ চলচ্চিত্র নির্মাতা হিসেবে তার এই ক্যারিয়ারের অন্তর্যাত্রা যেন তৌকির আহমেদের ছবির মতোই সুচিন্তিত ও গোছানো।

মোস্তফা সরয়ার ফারুকী

তাকে চলচ্চিত্রকার হিসেবে স্বীকার ও অস্বীকারের একটা লড়াই চলে দর্শদের ভেতরে। কিন্তু একদল নতুন দর্শককে হলে এনেছেন ফারুকীই। যারা মূলত বহির্বিশ্বের ছবি নিয়েই শুধু আলোচনা করতেন। তবে তারা আবার ফারুকীর ছবি এলেই ঘর থেকে বের হন সিনেমা হলের উদ্দেশ্যে। তার ছবির ব্যকরণ, ভাষারীতি এসব নিয়ে বিস্তর আলোচনা সমালোচনা হতেই পারে। বিতর্কও আছে প্রচুর। কিন্তু চলচ্চিত্রের ক্ষেত্রে এক নতুন বলয় তৈরি করেছেন মোস্তফা সরয়ার ফারুকী। শিল্প মাধ্যম যেমন সবচেয়ে স্বাধীন। তেমনি ফারুকীও তার স্বাধীন স্বত্বাতেই কাজ করছেন। সর্বশেষ ডুব চলচ্চিত্র নিয়ে যে বিতর্ক বাহাস তৈরি হয়েছে সেটিও আমাদের চলচ্চিত্রের বিরল উদাহরণ। বাংলাদেশী চলচ্চিত্রকার হিসেবে তাই এক মেধাবী জনপ্রিয় নির্মাতার নাম মোস্তফা সরয়ার ফারুকী।

অমিতাভ রেজা চৌধুরী

সফল বিজ্ঞাপন নির্মাতা। প্রথম ছবি আয়নাবাজি দিয়ে বাজিমাত। কিন্তু চলচ্চিত্র নির্মানে ব্যক্তিগত আর্থিক ক্ষতি হয় , এমনকি আয়নাবাজির লগ্নি ওঠেনি.. এমন স্পষ্ট কথা বলে নির্মাতা হিসেবে নিজের সততা প্রকাশ করেছেন। একই সাথে চলচ্চিত্র নির্মানের প্রতি তার যে অদম্য নেশা তা প্রমাণ করতেই নির্মান করছেন ‘রিকশাগার্ল’। এদেশে যে কজন নির্মাতার সাথে কাজ করার জন্য তারকারা মুখিয়ে থাকেন তাদের ভেতরে অমিতাভ রেজা চৌধুরী নামটি শীর্ষ অবস্থানে।

আরও পড়ুন: ভুয়া সনদ বিক্রি করে কোটি টাকার মালিক স্বামী-স্ত্রী

দীপংকর দীপন

ঢাকা অ্যাটাকের সাফল্য তাকে নির্ভরযোগ্য চলচ্চিত্রকার হিসেবে রূপান্তর করেছেন। অবাক করার মতো বিষয় হলো এটিই তার প্রথম ছবি। তাই মূল পরীক্ষা হবে মূলত দ্বিতীয় ছবিতে। তবে ডিস্ট্রিবিউশনদের সাথে লড়াই, রেগুলার প্রযোজকদের সামাল দেবার মতো কোনো বড় ক্রাইসিস ছিল না দীপনের প্রথম ছবিতে। বরং বাড়তি প্রচার ও সুবিধা পেয়েছেন ছবিটির বিপণনে। এর বাইরে ছবিটি রিলিজের পরই ঢাকা অ্যাটাকের জুটি দীপংকর দীপন ও সানী সানওয়ারের জুটিটা ভেঙে যায়। তবে একাধিক ছবির ঘোষণায় তিনি এখন আলোচিত। পাশাপাশি নতুন ছবির কাজেও হাত দিয়েছেন। দর্শকেরাও তার নতুন ছবিতে ঢাকা অ্যাটাকের সাথে তুলনা করার জন্যই হয়তো বসে থাকবে।

রায়হান রাফি

শাকিবের বাইরে নতুন একজন হিরোকে নিয়ে ছবি হিট করানোর মতো কঠিন সফলতা দেখিয়েছে এই তরুণ নির্মাতা। একই সাথে জাজ মাল্টিমিডিয়ার যত্নে এবং নির্মাতা তার সর্বোচ্চ মেধা ঢেলে নাচে গানে ভরপুর ফ্যান্টাসি মুভি ‘পোড়ামন টু’ অনেকের জন্য অনন্য উদাহরণ। পরবর্তী ছবি ‘দহন’ দিয়েও নিজের মুন্সিয়ানা দেখিয়েছেন। তবে জাজ এর বাইরে নতুন ছবি কেমন হয় সেটিই হবে তার নতুন পরীক্ষা। একই সাথে নির্মাতা-হিরো জুটিও ইন্ডাস্ট্রিতে নতুন। সেক্ষেত্রে সিয়াম-রাফীর এক সফল রসায়ন তৈরি হয়ে আছে দর্শকমনে।