জীবন বাঁচাতে দারোয়ানের চাকরি করছেন চিত্র পরিচালক!

প্রকাশ : ২৩ জুলাই ২০১৯, ১৮:৪০ | অনলাইন সংস্করণ

  অনলাইন ডেস্ক

সুব্রতরঞ্জন দত্ত। ছবি: সংগৃহীত

৬২ বছরের সুব্রতরঞ্জন দত্তকে টলিউড পাড়ার অনেকেই চেনেন। ঋত্বিক ঘটকের কাছে ‘যুক্তি তক্কো আর গপ্পো’ ছবিতে শিক্ষানবীশ হিসেবে কাজ শুরু করা সুব্রত আটের দশকে বহু ছবিতে সহকারী পরিচালক হিসেবে কাজ করেছেন। এমনকি মুম্বাইয়ে শশধর মুখোপাধ্যায়ের প্রোডাকশন হাউসেও কাজ করেছেন তিনি। তা সত্ত্বেও হাতে কাজ না থাকায় নিরাপত্তাকর্মীর চাকরি করছেন ওই চিত্র পরিচালক। একজন চিত্র পরিচালকের দিন কাটবে নিরাপত্তারক্ষীর কাজ করে— তা মানতে পারেন না অনেকেই। 

ভিআইপি রোডের একটি আবাসনে ১২ ঘণ্টার নিরাপত্তারক্ষীর কাজ করেই সময় চলে যায়। তা সত্ত্বেও নতুন কাজের আশায় সারারাত ডিউটির পরেও সকালে ছোটেন টলিপাড়ায়। ফিরে এসে আবারও আবাসনের গেটের সামনে রাত পাহারার কাজে যোগ দেন পলতার বাসিন্দা সুব্রত।

সুব্রতরঞ্জন দত্তর কথায়, ‘স্ত্রী, মেয়েকে নিয়ে সংসার। চলতে তো হবেই। বেশ কয়েক বছর বসে রয়েছি। শেষে সাড়ে ছয় হাজার টাকায় এই কাজেই ঢুকে গেলাম। কোনও কাজই ছোট নয়। এর মধ্যেই সময় পেলেই নতুন চিত্রনাট্যের খসড়া তৈরি করার চেষ্টা করি এখনও। তবে সময় বার করাটাই কঠিন।’

আরো পড়ুন: এক শিশুর বাবা দাবিতে হাসপাতালে তিন যুবক

ঋত্বিক ঘটকের সৃতিচারণ করে সুব্রত বলেন, ‘তখন উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করেছি। ঋত্বিকবাবুর ‘যুক্তি তক্কো আর গপ্পো’ সিনেমার সেটে দাঁড়িয়ে ওর কাজ দেখতাম আর শিখতাম। তারপরে চিত্র পরিচালক শঙ্কর ভট্টাচার্যের সঙ্গে সহকারী পরিচালকের কাজের সুযোগ পান। নয়ের দশকে মুম্বাই থেকে কলকাতায় ফেরার পরে সহকারী পরিচালক থেকে পরিচালক হতেই কেটে যায় দেড় দশক। প্রথম ছবি ‘প্রবাহিণী’ ছবি মুক্তি পায় ২০১৬ সালে।’

পরিচালক রাজা সেন বলেন, ‘সুব্রত নতুন ভাবনা নিয়ে কাজ করার চেষ্টা করেন। ওর নিরাপত্তারক্ষীর কাজ করাটা একেবারেই মানা যায় না।’

আরো পড়ুন: ডেঙ্গু-চিকুনগুনিয়ায় পরামর্শ নিতে ডিএনসিসির কল সেন্টার

ইস্টার্ন ইন্ডিয়া মোশন পিকচার্স ডিরেক্টর অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক বিমল দে বলেন, ‘এটা দুর্ভাগ্যের। সুব্রতবাবু টালিগঞ্জের পরিচিত মুখ। এখন যাদের হাতে ক্ষমতা, তাদের দলের লোকজনই শুধু কাজ পায়। সুব্রতবাবুর মতো অভিজ্ঞ মানুষেরা কাজ পান না। এতে বাংলা ইন্ডাস্ট্রির দৈন্য দশাই ফুটে উঠছে।’

তবে হাল ছাড়েননি সুব্রত। তার কথায়, ‘জীবন সিনেমার চিত্রনাট্যের মতোই গতিশীল। ভাল কাজের সুযোগ নিশ্চয়ই পাব। চেষ্টা তো চালাতেই হবে।’

ইত্তেফাক/বিএএফ