ঢাকা শনিবার, ১৬ নভেম্বর ২০১৯, ২ অগ্রহায়ণ ১৪২৬
২৪ °সে


রকরাজা বিহীন এক বছর

রকরাজা বিহীন এক বছর
আইয়ুব বাচ্চু। ছবি: সংগৃহীত

কোনো রকস্টারের মৃত্যুতে এত হাহাকার দেখেনি বাংলাদেশ! আজ তার চলে যাওয়ার ১ বছর! আমাদের সবার প্রিয় আইয়ুব বাচ্চুর কথাই বলছি। অগণিত শোক আর ব্যথাতুর ফেসবুক স্ট্যাটাসে আজ নিশ্চয়ই দিনব্যাপী স্মরণ করা হবে আইয়ুব বাচ্চুকে। এদিকে এবি ভক্ত পরিবার দেশের মিউজিশিয়ানরাও একাট্টা হয়ে মিলাদ মাহফিলসহ ছোটখাটো আয়োজনে স্মরণ করবে আজ তাদের প্রিয় আইয়ুব বাচ্চুকে।

কিন্তু আনুষ্ঠানিকভাবে তাকে ট্রিবিউট করে বড় কোনো কনসার্টের হচ্ছে না। এটা এবি ভক্ত-শ্রোতাদের জন্য স্বাভাবিক আক্ষেপ। এর কারণ একটিই—তার প্রয়াণের পর থেকে একটি প্রশ্নই ঘুরে ফিরে এসেছে, এলআরবি তুমি কার?

আইয়ুব বাচ্চু পরিবার মারফত জানা যায়, মৃত্যুর আগে ও এলআরবি নাম রেজিস্ট্রেশন থেকে শুরু করে সবকিছু আইয়ুব বাচ্চুর নামেই হয়েছিল। তাই এলআরবি স্বত্ব একান্তু এই পরিবারের। আর এলআরবি নিয়ে বারবার টানাপোড়েনের কারণে পরিবারও আপাতত এলআরবি নামে কোনো ব্যান্ডের কার্যক্রম হোক এটা চাইছে না। তবে ভবিষ্যতে আবারো নতুনভাবে এলআরবি কিভাবে ফর্ম হবে তা তখনই জানা যাবে। অন্যদিকে সর্বশেষ কণ্ঠশিল্পী মিজানকে নিয়ে এলআরবি নামের প্র্যাকটিস ভিডিও দেখা গিয়েছিল। এ পর্যায়ে এলআরবির প্রতিষ্ঠাতা সদস্য সাইদুল হাসা স্বপন বলেন, ‘আজন্ম এই মানুষটির সঙ্গেই কাটিয়েছি। মিউজকি ছাড়া তো কিছু করতে শিখিনি। তাই এলআরবি বা এবি এই স্বত্তার বাইরে আমি যেতে পারবো না।’

অন্যদিকে আইয়ুব বাচ্চু ও এলআরবির বেশকিছু অ্যালবাম নিয়ে তার অন্যতম প্রকাশক সাউন্ডটেকের সঙ্গে মামলাও চলছে বর্তমানে। সে প্রসঙ্গে সাউন্ডটেকের স্বত্তাধিকারী সুলতান মাহমুদ বাবুল বলেন, ‘আমাদের সঙ্গে আইনগতভাবে কিছু অ্যালবাম নিয়ে প্রসেস চললেও ব্যক্তিগতভাবে মৃত্যুর আগের দিন পর্যন্ত তার সঙ্গে আমার ভীষণ ভালো সম্পর্ক ছিল। বাচ্চু ভাই আর সাউন্ডটেক একটি পরিবারের মতো। এটা আলাদা হওয়ার না।’

আরো পড়ুন: ‘যারা আমাকে সম্রাট বানিয়েছেন তারা কোথায়?’

এদিকে আইয়ুব বাচ্চুর এলআরবি’র কী হবে সেটি নিয়ে একাধিক নাটকীয়তা দেখা গিয়েছে। আইয়ুব বাচ্চু মারা যাওয়ার পর বালামকে নিয়ে দুই দফা এলআরবি নামে ও পরবর্তীতে এলআরবি সদস্যদের নিয়ে ‘বালাম অ্যান্ড দ্য লিগেসি’ নামে একটি ব্যান্ড গড়ে তোলা হলেও তা আর টেকেনি। পরবর্তীতে দুই/তিন ভাগ হয়ে যায় ব্যান্ডদলটি।

এলআরবি নিয়ে তাই সহশিল্পীদের উত্কণ্ঠা স্বাভাবিক। আইয়ুব বাচ্চুর একাধিক মিক্সড প্রজেক্টে কাজ করেছেন দেশবরেণ্য সংগীত পরিচালক মাইলসের কি-বোর্ডিস্ট মানাম আহমেদ। তিনি বলেন, ‘বাচ্চু আসলে পুরোদস্তুর গান পাগল একজন ছিল। আজ এলআরবির এই সঙ্কটে আমরা নিজেরাও খানিকটা শঙ্কিত, যে মৃত্যুও পর সম্পর্কগুলো কেমন হবে।’

সোলসের তপন চৌধুরীর সঙ্গেই বাজাতেন আইয়ুব বাচ্চু। এরপর আলাদা হয়েই গড়েন এলআরবি। তাই অগ্রজ হিসেবে আইয়ুব বাচ্চুর তারকাজীবন চোখের সামনে দেখেছেন তপন চৌধুরী। মৃত্যুর ১ বছর পার হওয়া প্রসঙ্গে তপন চৌধুরী বলেন, ‘বড় ভাই হিসেবে ছোট ভাইয়ের এভাবে চলে যাওয়াটা যে কত কষ্টের তা বলে বোঝাতে পারবো না। তবে আইয়ুব বাচ্চুর প্রতি মানুষের যে ভালোবাসা, যে শোকবিহ্বলতা দেখেছি তা অবাক করে। রকগান আর গিটারকে নিয়ে জনপ্রিয়তার কোথায় নিয়ে গেলে এটা সম্ভব? একইসঙ্গে একটিই চাওয়া এলআরবি বা বাচ্চুর গানগুলোর মূল রেকর্ডগুলো যাতে সংরক্ষিত থাকে। কারণ এগুলো আগামী প্রজন্মকে অনুপ্রেরণা জোগাবে।’

এমন অজস্র স্মৃতিগাঁথা সবার মনে। কারণ আইয়ুব বাচ্চু এমন একজন মানুষ ছিলেন যার ঘর-সংসার ছিল সারাদেশের মিউজিশিয়ান। কোনোর রকস্টার পৃথিবীতে এত এত দেশীয় মিউজিশিয়ানের একাট্টা হয়েছেন, তার নজির নেই। আইয়ুব বাচ্চু মানুষটাই ছিলেন এমন।

মৃত্যু শোক বা স্মরণের বিরহ ক্ষত নাকি দিনদিন কমে যায় কারো প্রয়াণের পরপর। কিন্তু আইয়ুব বাচ্চুর বিষয়ে বারবারই বিরল উদাহরণ লিখবে ইতিহাস। কারণ সংগীত জগতকে তিনি যে সমৃদ্ধ করে রেখে গেছেন তা আগামী ১শ’ বছরেও বাংলা আধুনিক গানের অন্য কারোর পক্ষে সম্ভব নয়। প্রিয় এই মানুষটির আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি।

ইত্তেফাক/বিএএফ

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
১৬ নভেম্বর, ২০১৯
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন