জাতীয় পাখি

গায়ক দোয়েল

গায়ক দোয়েল
ছবি: রনি রায়, পাবনা

দোয়েলপাখি আমার উঠোনে রোজ আসে। দুটো দোয়েল এসে গল্প করে। ঝগড়াও করে। ওরা ঝগড়াটে পাখি; বিন্তি বলে, হ্যাঁ দাদু ওরা কিন্তু বেশ ঝগড়া করে। মজা লাগে।

দোয়েল বাংলাদেশের অন্যতম শ্রেষ্ঠ গায়ক পাখি।বাংলাদেশের জাতীয় পাখি। প্রতিদিনই দোয়েল গান গায়। কোনো গাছের ডালে বসে গান গায়। বিন্নি বলে, জানো দাদু দোয়েল কিন্তু খুব ভালো গান করে। বিন্দিও একমত। কিন্তু মজার ব্যাপার হলো, স্ত্রী দোয়েল গান গাইতে পারে না। বিপদের আভাস পেলে চিৎকার করে। কিছুটা কর্কশ স্বরে।

পুরুষ দোয়েল স্ত্রী দোয়েলের চিৎকার শুনে বিপদের আঁচ পায়। দৌড়ে আসে স্ত্রীর কাছে। ওরা সুন্দর বাসাও তৈরি করে। পুরুষ দোয়েল অন্য পাখির বাসা দখল করতে ওস্তাদ। চিকন ডাল শুকনো পাতা গরুর লেজের কিছু অংশ ওদের বাসা তৈরির প্রধান উপকরণ। পুরুষ দোয়েল অন্য পাখির বাসায় ঢুকে পড়ে। ডিম নষ্ট করে। অনেক বাচ্চা মেরেও ফেলে।

বিন্তি বলল, জানো দাদু দোয়েল পাখি দেখতে খুব সুন্দর।

বললাম, তা জানি তো। ১৪/১৫ দিনে ডিম থেকে বাচ্চা বের হয়। বাচ্চাগুলো একটু বড় হলে দোয়েল দম্পতি দূরে কোথাও চলে যায়। বাচ্চাদের জন্য ওদের একটুও চিন্তা হয় না। দুঃখ হয় না।

মাঝে মাঝে দোয়েল দম্পতি বাচ্চাদের দেখতে আসে। কিন্তু বাচ্চারা বাবা-মাকে চেনে না। দোয়েল দম্পতিও বাচ্চাদের চিনতে পারে না। কষ্টের ব্যাপার হলো বাচ্চারা বাবা-মাকে তাড়িয়ে দেয়। মানুষের সমাজ হলে এটা খুব অন্যায় হতো। দুর্নামের ব্যাপারও হতো। কিন্তু পাখির সমাজে এটা হয় না। খুব স্বাভাবিক ঘটনা ওদের কাছে।

বিন্নি-বিন্তি-বিন্দিকে বললাম, দোয়েল পাখি কী খায় বল তো?

ওরা বলল, জানি না তো।

বেশ আমি বলছি। ওরা ক্ষতিকর পোকামাকড় খায়। তাই দোয়েলপাখি পরিবেশবান্ধব পাখি, ওরা পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করে। আমাদের উচিত ওদের যত্ন করা। ওদের যাতে ক্ষতি না হয়, সেদিকে লক্ষ রাখা উচিত।

বিন্তি বলল, দোয়েল পাখি ভাতও খায়।

বললাম, হ্যাঁ হ্যাঁ ঠিক বলেছ। আমার মনে ছিল না।

ইত্তেফাক/কেকে

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
আরও
আরও
x