‘স্টিকলব্যাক’ মাছ

‘স্টিকলব্যাক’ মাছ
ছবি: সংগৃহীত

সারা পৃথিবীতে যে কয়েকটি প্রজাতির স্টিকলব্যাকের সন্ধান মেলে, তার মধ্যে তিন কাঁটাযুক্ত স্টিকলব্যাক একটি। মূলত পিঠে তিনটি কাঁটা থাকায় এই নামকরণ। এটি শত্রুকে ঘায়েলের কাজে ব্যবহূত হয়। এদের দেহের দৈর্ঘ্য প্রায় দশ সেন্টিমিটার।

কৃষ্ণসাগর, দক্ষিণ ইতালি, আইবেরিয়ান পেনিনস্যুলা, উত্তর আফ্রিকা, উত্তর আমেরিকা, গ্রিনল্যান্ড এবং জাপানের উত্তরাঞ্চলের জলাভূমিতে দেখতে পাওয়া যায়। অগভীর জলে মরা গাছের উচ্ছিষ্ট, ছোট ডালপালা দিয়ে এরা বাসা তৈরি করে।

অল্প বয়স্ক এই মাছের দেহ রৌপ্য বর্ণের হলেও পরিণত বয়সে তা পরিবর্তিত হয়ে রুপালি-ধূসর বর্ণ ধারণ করে। বছরের অধিকাংশ সময় এদের মাথার শীর্ষ এবং পশ্চাত্ভাগ নীল থাকলেও গ্রীষ্মকালে তা ধূসর হয়। আবার বসন্তে অর্থাত্ প্রজনন মৌসুমে পুরুষ স্টিকলব্যাকের দেহের আবরণ মোটা হয়ে যায়। এ সময় এদের পিছনের অংশ থাকে পান্না-সবুজ। চোখ উজ্জ্বল-নীল এবং মাথা ও পেটের নিচের অংশ উজ্জ্বল-লাল বর্ণ ধারণ করে। তিন-চার বছর পর্যন্ত এরা বেঁচে থাকে এবং সাধারণত এক বছর বয়সে বয়ঃসন্ধিপ্রাপ্ত হয়। এছাড়াও পুরুষ মাছ যখন প্রজননের জন্য বাসা তৈরি করে, তখন তার বর্ণ উল্লেখযোগ্যভাবে পরিবর্তিত হয়ে সবুজ বা বাদামি পিঠ নীল, নিচের চোয়াল ও পেট লাল এবং চোখ নীল বর্ণ হয়। এ সময় কেবল স্ত্রী মাছটিই নয়, শিকারিরাও আকর্ষণীয় উজ্জ্বল বর্ণের এ পুরুষ স্টিকলব্যাকের প্রতি আগ্রহী হয়ে ওঠে।

তানভীর তানিম

ইত্তফাক/এসসিএস

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
আরও
আরও
x