পাখি

বসন্ত-দূত কোকিল

বসন্ত-দূত কোকিল
কোকিল। আলোকচিত্রী: রনি রায়

‘কুহু কুহু’ ডাকে মুখর হয়ে ওঠে বসন্ত। এ যেন এক সুরেলা কণ্ঠের বিরহী ব্যঞ্জনার আবেগময়ী ডাক। কোকিলকে বলা হয় বসন্তের দূত। ফাগুনের উষ্ণ হাওয়ায় কোকিলের কুহু কুহু ডাকে বিরহী বেদনাকে আরো মধুর করে তোলে। সকাল-দুপুর-রাতে কোকিলের মধুর স্বর কানে বাজে সুর লহরীতে।

বাংলাদেশে ২০ প্রজাতির কোকিল রয়েছে বলে জানা যায়।

কোকিলের ঠোঁট সামান্য বাঁকানো, পুচ্ছ দীর্ঘ, ডানা চওড়া ও সূচালো। গড়ন লম্বাটে। এদের পায়ে দুটি করে অগ্র-পশ্চাত্মুখি আঙুল রয়েছে। দেহের দৈর্ঘ্য ৪০ সেন্টিমিটার থেকে ৪৩ সেন্টিমিটার পর্যন্ত হয়ে থাকে। ওজন প্রায় ১৭০ গ্রাম।

কোকিলেরা বৃক্ষবাসী এবং পরিযায়ী স্বভাবের কারণে এক জায়গায় নির্দিষ্টভাবে বাসা বাঁধে না। ঋতুভেদে এদের অবস্থান একেক জায়গায় দেখা যায়। নির্দিষ্ট বাসা না থাকায় এরা অন্যের বাসায় ডিম পাড়ে। বিশেষ করে কাকের বাসায় ডিম পেড়ে চলে যায়। ১২ দিনের মধ্যে ডিম ফুটে বাচ্চা বের হয়। আর পালক বাবা-মায়ের কাছে বড় হতে থাকে বাচ্চাটি। পরে যখন নিজের গোত্র সম্বন্ধে বুঝতে পারে, তখন চলে যায় বাসা ছেড়ে।

কোকিল সাধারণত শুঁয়োপোকা খায়। এটি হচ্ছে তাদের প্রধান খাবার। তাছাড়া ছোট ছোট কীটপতঙ্গ খেয়ে থাকে।

কোকিলকে ‘পাপিয়া’, ‘চোখ গেলো’ বলেও ডাকা হয়।

কোকিল উষ্ণ আবহাওয়া প্রধান ঋতুতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে। এরা উষ্ণতার পরশ পেতে পরিযায়ী পাখি হয়ে ওঠে। কোকিলের উপস্থিতি টের পাওয়া যায় তার ‘কুহু কুহু’ ডাকে। বাংলার মানুষ বুঝতে পারে বসন্ত এসে গেছে।

এম এস ফরিদ

ইত্তেফাক/এএএম

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
আরও
আরও
x