শিশুকে শিক্ষায় ফেরাতে মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে

ওয়ার্ল্ড ভিশন-এর পর্যবেক্ষণ
শিশুকে শিক্ষায় ফেরাতে মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে
ছবি: সংগৃহীত

প্রতি বছরের মতো ২২ জানুয়ারি ওয়ার্ল্ড ভিশন আন্তর্জাতিক শিক্ষা দিবস পালন করে। এ বছর আন্তর্জাতিক শিক্ষা দিবস উপলক্ষ্যে কোভিড-১৯ অবস্থার আলোকে শিক্ষা খাত সংস্কারের পক্ষে পর্যবেক্ষণ করেছে সংস্থাটি। এই পর্যবেক্ষণ থেকে প্রতিষ্ঠানটি শিশুকে শিক্ষায় ফিরিয়ে আনতে মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর গুরুত্বারোপ করেছে।

পরিস্থিতিটি আরো ভালোভাবে বুঝতে শিক্ষার্থীর শিক্ষার প্রয়োজনীয়তার ওপর মনোনিবেশ করে স্থানীয় স্কুল শিক্ষক, জাতীয় এবং স্থানীয় মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ এবং মিডিয়া বিশেষজ্ঞদের এ বিষয়ে পরামর্শ গ্রহণ করা হয়। গতকাল রবিবার এক অনলাইন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সমীক্ষা প্রকাশকালে মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

আরও পড়ুন: শিশুর মানসিক বিকাশ

সমীক্ষায় দেখা যায়, বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থা একটি অভূতপূর্ব সংকটের মুখোমুখি হয়েছে। কারণ বেশির ভাগ শিক্ষপ্রতিষ্ঠানকে শিক্ষার চাহিদা মেটাতে বিকল্প কৌশল (অনলাইনে শিক্ষা) অবলম্বন করতে হয়েছে। কোভিড-১৯ পিতামাতা এবং শিশুদের মধ্যে মানসিক চাপ সৃষ্টি করেছে। অর্ধেকেরও বেশি উত্তরদাতারা (৫৮ শতাংশ) ইঙ্গিত করেছে, তারা বিকল্প পদ্ধতি অনুসরণ করতে আংশিকভাবে সক্ষম ছিলেন, এক-তৃতীয়াংশ (৩৩ দশমিক ৭ শতাংশ) ক্ষমতাকে ইঙ্গিত করেছে।

ডা. মেহতাব খানম বলেন, ‘মানসিক স্বাস্থ্য ঠিক না থাকলে শেখা অত্যন্ত কঠিন। যখন কোনো শিশু সহিংসতার শিকার হয়, তখন অভ্যন্তরীণ জগত্ আহত হয় এবং শেখা আরো শক্ত হয়ে যায়। শিশুদের সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করার দায়িত্ব পালনকারী হিসেবে শিক্ষকদের মানসিক স্বাস্থ্যের প্রতি যত্নশীল হওয়া উচিত। শিক্ষানীতি ২০১০ অনুযায়ী, স্কুল কাউন্সিলর থাকা দরকার। শিশু/কিশোরদের সুস্থতা মানেই মানসিক সুস্থতা নয়। পিতামাতাকেও বিষয়টি বুঝতে হবে। এখনই শিক্ষক ও পিতামাতাকে শিশুদের মানসিকভাবে সহযোগিতা আর বিষয় গুরুত্ব দিতে শেখাতে হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

আরও পড়ুন: করোনায় শিশুদের সুরক্ষা

সানবিমস স্কুল শিক্ষক রাশিদা আহমেদ ইসলাম বলেন, সানবিমস বাংলাদেশের শীর্ষ বিদ্যালয়গুলোর মধ্যে একটি, তবে এখনো আমাদের শিক্ষকরা অনলাইনে শিক্ষকতার একটি উত্তরণের মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন। শিক্ষক এবং শিক্ষার্থীরা উভয়ই একটি কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন। কোভিড-পরবর্তী বিশ্বে, জাতীয় স্তরের শিক্ষকদের আরো শক্তিশালী ভূমিকা পালন করা দরকার।

স্থানীয় পর্যায় থেকে কথা বলেন দিনাজপুর জেলার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক লাড্ডি বেগম। তিনি বলেন, অনলাইনে শিক্ষা দিতে স্থানীয় স্তরের শিক্ষকদের জাতীয় স্তরের বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে সংযুক্ত করা উচিত। সাম্প্রতিক ধর্ষণ, মেয়েদের ওপর সহিংসতা বৃদ্ধি মেয়েদের জন্য সামাজিক নিরাপত্তাহীনতা তৈরি করেছে। যা মেয়েদের চলাফেরার স্বাধীনতাকে আরো সীমিত করেছে। আমাদের মেয়েদের চলাচলের স্বাধীনতায় বাধা না দিয়ে আত্ম-প্রতিরক্ষা শেখানো দরকার।

ইত্তেফাক/এএএম

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
আরও
আরও
x