এক্সরে ও আলট্রাসনোগ্রাম মেশিন বিকল, চিকিত্সা ব্যাহত

তৃণমূলে স্বাস্থ্যসেবা
এক্সরে ও আলট্রাসনোগ্রাম মেশিন বিকল, চিকিত্সা ব্যাহত
ফাইল ছবি

পীরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এক্স-রে মেশিন, ডেন্টাল চেয়ার ও আলট্রাসনোগ্রামের প্রিন্টারের অভাবে চিকিত্সা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ৫০ শয্যাবিশিষ্ট পীরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১৯৮৭ সালের ২৯ এপ্রিল একটি এক্স-রে মেশিন সরকারিভাবে সরবরাহ করা হয়। ঐ মেশিনটি ১৯৮৮ সালের ৯ জানুয়ারি চালু করা হয়। কিন্তু ২০ বছর চলার পর এক্স-রে মেশিনটি ২০০৮ সালের ১১ জুলাই থেকে অকেজো হয়ে পড়ে। দীর্ঘ নয় মাস পর ঢাকা থেকে টেকনিশিয়ান এসে মেশিনটি মেরামত যোগ্য নয় বলে মতামত দেন। ফলে প্রায় সাড়ে ১২ বছর ধরে হাসপাতালে এক্স-রে মেশিন নেই। তাই এক্স-রে টেকনিশিয়ানকে প্রেষণে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে বদলি করা হয়েছে।

এছাড়া এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১৯৯০ সালের ২৭ নভেম্বর একটি ডেন্টাল চেয়ার সরবরাহ পাওয়া যায়। ডেন্টাল চেয়ারখানা ১৯৯১ সালের ১৩ নভেম্বর চালু করা হয়। প্রায় ১৬ বছর পর ২০০৬ সালে সেটি অকেজো হয়ে পড়ে। ফলে পীরগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আগত রোগীরা প্রায় সাড়ে ১২ বছর ধরে এক্স-রে মেশিন এবং প্রায় সাড়ে ১৪ বছর ধরে ডেন্টাল চেয়ারের অভাবে সু-চিকিত্সা থেকে বঞ্চিত হয়ে আসছে।

এছাড়া পীরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে একটি আলট্রাসনোগ্রাম মেশিন থাকলেও প্রিন্টারের মাদার বক্স প্রায় সাড়ে তিন বছর ধরে বিকল হয়ে আছে। ফলে আগত রোগীরা আলট্রাসনোগ্রাম মেশিনের কোনো রিপোর্ট পাচ্ছে না। ফলে রোগীদের এক্স-রে ও আলট্রাসনোগ্রাম প্রয়োজন হলে প্রাইভেট ডায়াগনস্টিক সেন্টার এবং দাঁতের রোগীদের প্রাইভেট ডেন্টিস্ট চেম্বারে চিকিত্সা নিতে হচ্ছে। এছাড়া এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এম্বুলেন্সটি ২০১০ সালের দিকে ঠাকুরগাঁও সদর হাসপাতালকে দেওয়া হয়। পরে রাণীশংকৈল হাসপাতাল থেকে এমএনএইচ প্রকল্পের পুরাতন একটি এম্বুলেন্স পীরগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সরবরাহ করা হয়। দীর্ঘদিনের পুরোনো হওয়ায় মাঝেমধ্যেই এটি বিকল হয়ে পড়ে। জরুরি ভিত্তিতে নতুন এম্বুলেন্স সরবরাহের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ আবেদন জানিয়েছে।

এ ব্যাপারে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মো. আবদুল জব্বার জানান, এক্স-রে মেশিন, ডেন্টাল চেয়ার, আল্টাসনোগ্রাম প্রিন্টার এবং এম্বুলেন্সের জন্য নিয়মিত চাহিদাপত্র সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হচ্ছে। আশ্বাসও পাওয়া যাচ্ছে। কিন্তু সরবরাহ কবে পাওয়া যাবে তা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।

ইত্তেফাক/বিএএফ

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
আরও
আরও
x