স্বাস্থ্যবিধি মানতে কড়াকড়ি

সারা দেশে মোবাইল কোর্ট করোনায় আক্রান্ত হওয়ার চার থেকে ছয় সপ্তাহের মধ্যে টিকা নেওয়া যাবে: বিশেষজ্ঞদের অভিমত
স্বাস্থ্যবিধি মানতে কড়াকড়ি
করোনায় স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলছে গণপরিবহন। ছবি: সংগৃহীত

পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতসহ বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও করোনায় আক্রান্ত ও মৃত্যুর হার বেড়েই চলেছে। করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে দেশে গত এক দিনে আরো ২৬ জনের মৃত্যু হয়েছে, নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছে আরো ১ হাজার ৭১৯ জন। করোনা সংক্রমণের ঝুঁকির মধ্যেও স্বাস্থ্যবিধি মানার ক্ষেত্রে অনেকে উদাসিনতা দেখাচ্ছে। কক্সবাজার, কুয়াকাটাসহ সারা দেশের পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে যেমন ভিড় বাড়ছে, তেমনি কেউই মানছে না স্বাস্থ্যবিধি। কক্সবাজারের প্রায় সাড়ে ৪ শতাধিক হোটেল-মোটেল, রিসোর্ট ও কটেজে রয়েছে। কোথাও সিট খালি নেই। কুয়াকাটা ও সিলেটসহ বিভিন্ন বিনোদন কেন্দ্রে একই চিত্র। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা বলেন, স্বাস্থ্যবিধি না মেনে এভাবে ভিড় জমালে নিজে মরবে, পরিবারকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেওয়া হবে। এদিকে স্বাস্থ্যবিধি মানতে কড়াকড়ি আরোপ শুরু হয়েছে। সারা দেশে চলছে মোবাইল কোর্ট।

গতকাল ঢাকা জেলার পাঁচটি উপজেলা এবং মহানগরের শান্তিনগর, কমলাপুর রেলস্টেশন, বিমানবন্দর রেলস্টেশন, সদরঘাট, সচিবালয়, বেড়িবাঁধ, জেলা জজ আদালত এলাকা, বায়তুল মোকাররম, লালবাগ, নিউ মার্কেট, মিরপুরসহ মোট ১৫টি জনবহুল স্পটে ঢাকা জেলা প্রশাসনের ১৫ জন এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে মাস্ক ব্যবহারে উত্সাহিত করার জন্য জসচেতনতা বৃদ্ধি ও মাইকিং করা হয়। এ সময় গরিব/অভাবি লোকদের মধ্যে মোট ১ হাজার ২০০ মাস্ক বিনামূল্যে বিতরণ করা হয়। এছাড়া শাস্তিমূলক ব্যবস্থা হিসেবে মোবাইল কোর্টে ১৬৬টি মামলায় ১৬৬ জন ব্যক্তিকে মোট ২৬ হাজার ১০০ টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়। জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে জেলা প্রশাসন, ঢাকার মোবাইল কোর্টের অভিযান অব্যাহত থাকবে। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা বলেন, স্বাস্থ্যবিধি না মানার ধারা অব্যাহত থাকলে সামনে কঠিন দিন অপেক্ষা করছে।

ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত বৃহত্ দেশগুলো অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনকার টিকার ব্যবহার স্থগিত করছে। রক্ত জমাট বাঁধার আশঙ্কায় এসব দেশ অ্যাস্ট্রাজেনকার টিকা নেওয়া স্থগিতের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এদিকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিওএইচও) এবং ইউরোপের ওষুধ পর্যবেক্ষক সংস্থা জোর দিয়ে বলছে, এই টিকা নিরাপদ। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল বাসার মোহাম্মদ খুরশীদ আলম বলেন, আমরা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার গাইডলাইনের বাইরে যাব না। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনকার টিকাদান কার্যক্রম চালিয়ে যেতে বলেছে। তিনি বলেন, করোনায় আক্রান্ত হওয়ার পর চার থেকে ৬ সপ্তাহের মধ্যে টিকা নেওয়া যাবে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. এ বি এম আবদুল্লাহ বলেন, করোনার টিকা নিয়ে মার্কেট দখলের রাজনীতি চলছে। এক্ষেত্রে কে কাকে ঘায়েল করতে পারে, সেই অসুস্থ প্রতিযোগিতায় নেমেছে বিশ্ব। এই রাজনীতির অংশ হিসেবে অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা নিয়ে অপপ্রচার করা হচ্ছে। তবে এই তথ্যের সঠিক প্রমাণ কেউ দিতে পারেনি। নানা অভিযোগের প্রেক্ষিত্রে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা যাচাই-বাছাই করে অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা নিরাপদ হিসেবে ঘোষণা করেছে এবং টিকাদান কার্যক্রম চালিয়ে যেতে বলেছে। তিনি বলেন, মানুষ স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষা করে চলছে। এতে নিজে মরবে এবং পরিবারকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেবে। করোনা থেকে রক্ষা পেতে হলে স্বাস্থ্যবিধি মানতেই হবে। আইইডিসিআরের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ডা. এ এস এম আলমগীর বলেন, আমরা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার গাইডলাইনের বাইরে যেতে পারি না। ডব্লিউএইচও পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখেছে যে, এই টিকা নিরাপদ। আমাদের দেশে এই টিকার সামান্য (অল্প জ্বর ও ব্যথা) পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ছাড়া বড় কোনো সমস্যা নেই।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (রোগ নিয়ন্ত্রণ) অধ্যাপক ডা. নাজমুল হক বলেন, করোনায় আক্রান্ত হওয়ার পর চার থেকে ছয় সপ্তাহের মধ্যে করোনার টিকা নেওয়া যাবে। করোনা সংক্রমণ বাড়লেও স্বাস্থ্যবিধি মানার ক্ষেত্রে মানুষের উদাসিনতা দেখা দিয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, বিনোদন কেন্দ্র স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষা করে এভাবে চললে বিনোদন নয়, মৃত্যুর সার্টিফিকেট নিয়ে ফিরতে হবে। সবারই সতর্ক হওয়া উচিত।

ইত্তেফাক/কেকে

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
আরও
আরও
x