শিগগিরই যাচ্ছে না করোনা

প্রতিনিয়ত চরিত্র পালটাবে ভাইরাসটি আগামী দুই মাস হবে সবচেয়ে বিপজ্জনক
শিগগিরই যাচ্ছে না করোনা
ফাইল ছবি

করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ শিগগিরই যাচ্ছে না। প্রতিনিয়ত চরিত্র পালটাবে ভাইরাসটি। সংক্রমণের হার আরো বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকেরা বলেন, আগামী দুই মাস হবে সবচেয়ে বিপজ্জনক। তাই সবার স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে।

এদিকে দেশে দৈনিক শনাক্ত কোভিড-১৯ রোগীর সংখ্যা এক লাফে ৩ হাজার ৫৫৪ জনে দাঁড়িয়েছে, যা ৯ মাসের মধ্যে সবচেয়ে বেশি। এর আগে গত বছরের ১৬ জুলাই এর চেয়ে বেশি রোগী শনাক্তের খবর দিয়েছিল স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। সেদিন মোট ৩ হাজার ৭৩৩ জন নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছিল। এদিকে করোনা রোগীর সংখ্যা প্রতিদিনই বাড়ায় রাজধানীর সরকারি-বেসরকারি কোনো হাসপাতালে এখন সিট খালি নেই।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত চিকিত্সক অধ্যাপক ডা. এ বি এম আব্দুল্লাহ বলেন, করোনার সংক্রমণ বাড়ছে। এখন স্বাস্থ্যবিধি মানার ক্ষেত্রে ঢিলেঢালা ভাব দেখানো যাবে না। হাসপাতালে সিটের সংকট দেখা দিয়েছে। এটা আরো বাড়বে। তাই জনসমাগম নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার কোনো বিকল্প নেই।

আইসিডিডিআরবির ভাইরোলজি ল্যাবরেটরির প্রধান জ্যেষ্ঠ বিজ্ঞানী ড. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, দেশে প্রথম যখন করোনার সংক্রমণ হয়, সেটা স্তিমিত হয়ে গেছে। নতুন করে দ্রুতগতির করোনার সংক্রমণ শুরু হয়েছে। এটা হঠাত্ করে কমে যাবে না। ভাইরাসের চরিত্র এমন, শুরু হলে বাড়তে থাকবে। এটাই ভাইরাসের চরিত্র। দুই মাস ঊর্ধ্বমুখী থাকতে পারে। এরপর কমার সম্ভাবনা রয়েছে। সিজনাল অন্যান্য ভাইরাসের মতো করোনাও থেকে যেতে পারে। এটা চার থেকে পাঁচ বছর পর বলা যাবে। তিনি বলেন, এই মুহূর্তে অনেকে ভাবছেন টিকা নিলেই হবে। হ্যাঁ, সবারই সময়মতো টিকা নেওয়া উচিত। টিকা নিলে আক্রান্ত হলেও ক্ষতির সম্ভাবনা কম, তখন মানুষকে কাবু করতে পারে না ভাইরাসটি।

ড. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, গণসমাবেশ নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। সবার স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে।

মুগদা মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. আহমেদুল কবীর বলেন, এখন প্রচুর রোগী, সরকারি-বেসরকারি কোনো হাসপাতালে সিট খালি নেই। কোভিড রোগীদের জন্য আগে যেসব হাসপাতাল প্রস্তুত করা হয়েছিল, সেই ব্যবস্থা আবার চালু করতে হবে। কারণ সামনে আরো ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হবে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (রোগ নিয়ন্ত্রণ) অধ্যাপক ডা. নাজমুল হক বলেন, করোনা দ্রুতগতিতে ছড়াচ্ছে। এখন স্বাস্থ্যবিধি মানার বিষয়টি গুরুত্ব দিতে হবে। প্রশাসনকে এ ব্যাপারে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে। কারণ ইতিমধ্যে হাসপাতালে সিটের সংকট দেখা দিয়েছে। আইসিইউ হঠাত্ করেই বাড়ানো হয় না। তাই প্রতিরোধই উত্তম।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, নতুন শনাক্ত ৩ হাজার ৫৫৪ জনকে নিয়ে দেশে এ পর্যন্ত শনাক্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়াল ৫ লাখ ৭৭ হাজার ২৪১। আর গত এক দিনে মারা যাওয়া ১৮ জনকে নিয়ে দেশে করোনা ভাইরাসে মোট ৮ হাজার ৭৩৮ জনের মৃত্যু হলো। গত ২৪ ঘণ্টায় পরীক্ষার তুলনায় শনাক্তের হার বেড়ে ১৩ দশমিক ৬৯ শতাংশ হয়েছে, যা ৫ ডিসেম্বরের পর সবচেয়ে বেশি। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাবে বাসা ও হাসপাতালে চিকিত্সাধীন আরো ১ হাজার ৮৩৫ জন রোগী সুস্থ হয়ে উঠেছেন গত এক দিনে। তাতে এ পর্যন্ত সুস্থ রোগীর মোট সংখ্যা বেড়ে ৫ লাখ ২৫ হাজার ৯৯৪ জন হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে ২১৯টি ল্যাবে ২৫ হাজার ৯৫৪টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। এ পর্যন্ত পরীক্ষা হয়েছে ৪৪ লাখ ৬০ হাজার ১৮৪টি নমুনা। ২৪ ঘণ্টায় নমুনা পরীক্ষার বিবেচনায় শনাক্তের হার ১৩ দশমিক ৬৯ শতাংশ, এ পর্যন্ত মোট শনাক্তের হার ১২ দশমিক ৯৪ শতাংশ। শনাক্ত বিবেচনায় সুস্থতার হার ৯১ দশমিক ১২ শতাংশ এবং মৃত্যুর হার ১ দশমিক ৫১ শতাংশ। সরকারি ব্যবস্থাপনায় এ পর্যন্ত নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে ৩৩ লাখ ৯৬ হাজার ৯২৩টি। আর বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় হয়েছে ১০ লাখ ৬৩ হাজার ২৬১টি।

ইত্তেফাক/বিএএফ

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
আরও
আরও
x