উখিয়ায় নকল চিকিৎসকের পাশাপাশি ভেজাল ওষুধেরও দৌরাত্ম্য!

ক্যাম্পকেন্দ্রিক ফার্মেসিতে বসে চিকিৎসা দিচ্ছে অগণিত ভুয়া চিকিৎসক
উখিয়ায় নকল চিকিৎসকের পাশাপাশি ভেজাল ওষুধেরও দৌরাত্ম্য!
প্রতীকী ছবি (সংগৃহীত)

চোখে চশমা, হাতে চিকিৎসার যন্ত্রপাতি, ফার্মেসির ভেতরে চেম্বার, ভেতরে-বাইরে বহু রোগী। এই রোগীদের দেখেশুনে প্রেসক্রিপশন দেওয়া হচ্ছে। পুশ করা হচ্ছে ইনজেকশন। অনেক সময় কাটাছেড়াও করতে দেখা গেছে। বেশভূষাসহ কথা বলার ভঙ্গি দেখে মনে হবে বড় ডিগ্রিধারী ডাক্তার। অথচ বাস্তবতা হচ্ছে, এরা ভুয়া ডাক্তার। এ ধরনের তথাকথিত ডাক্তারদের একটি অংশ ক্যাম্পের আনাচে-কানাচে ফার্মেসি দিয়ে বসে আছে। আসলের মোড়কে ঢুকিয়ে দিচ্ছে নকল ওষুধ।

সম্প্রতি ক্যাম্প-৮-এ অভিযান চালিয়ে ক্যাম্প প্রশাসন প্রায় ৭ লাখ টাকার নকল ওষুধ জনসম্মুখে পুড়িয়ে ফেললেও থামেনি এ ধরনের ভেজাল ওষুধের বাণিজ্য। এক শ্রেণির ওষুধ কোম্পানির বিক্রয় প্রতিনিধিরা নিম্নমানের ও মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ ক্যাম্পে সরবরাহ করে যাচ্ছে। স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা বলছেন, সরকারের পক্ষ থেকে যথেষ্ট পরিমাণ ওষুধ দেওয়া হচ্ছে। যোগ্যতাসম্পন্ন ডাক্তাররাও চিকিত্সাসেবায় নিয়োজিত রয়েছে। তাই অন্য চিকিৎসকের দ্বারস্থ হওয়ার কোনো প্রয়োজনই নেই।

কুতুপালংয়ের স্থানীয় বাসিন্দা ও আওয়ামী লীগ নেতা নুরুল হক বলেন, রোহিঙ্গাদের পুঁজি করে ক্যাম্পের আনাচে-কানাচে ব্যাঙের ছাতার মতো গজে উঠেছে অসংখ্য ওষুধের দোকান। এসব দোকানে নেই কোনো ফার্মাসিস্ট, নেই কোনো চিকিৎসক। ভুয়া চিকিৎসকরাই চিকিৎসার নামে হাতিয়ে নিচ্ছে বিপুল অর্থ। একই সঙ্গে ভেজাল ওষুধ বাণিজ্য ব্যাপক আকার ধারণ করেছে। রোহিঙ্গা ‘চিকিৎসকদের’ হাতে বেশ কয়েক জন রোগী মারা যাওয়ার ঘটনাও ঘটেছে।

সম্প্রতি কুতুপালং বস্তি ও রোহিঙ্গা ক্যাম্প ঘুরে দেখা যায় অর্ধশতাধিক অবৈধ ফার্মেসিতে ওষুধ বিক্রির পাশাপাশি চিকিৎসা দিচ্ছে এসব ভুয়া ডাক্তার। এসব ডাক্তারদের মধ্যে ডিপু জাফর, রোহিঙ্গা সেলিম উল্লাহ ও খোরশেদ আলমের ফার্মেসির পেছনের চেম্বারে রোগীর সংখ্যা বেশি। তারা স্থানীয়দের ম্যানেজ করে চালাচ্ছে এই ‘চিকিৎসা বাণিজ্য’। শতাধিক রোহিঙ্গা চিকিত্সক কুতুপালং ক্যাম্পের ৮ লক্ষাধিক রোহিঙ্গাদের নিয়ন্ত্রণ করছে।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে রোহিঙ্গা ‘ডাক্তার’ সেলিম, নুরু ও আব্দুল্লাহ বলেন, তারা ক্যাম্প পুলিশকে ম্যানেজ করে ব্যবসা চালিয়ে আসছে দীর্ঘদিন থেকে। তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নিকারুজ্জামান বেশ কয়েক বার কুতুপালং ক্যাম্পে অভিযান চালিয়ে অবৈধ ও মেয়াদোত্তীর্ণ নিম্নমানের ওষুধ মজুদ ও বিক্রির অপরাধে জরিমানা করেছে। এ সময় অধিকাংশ দোকানপাট বন্ধ থাকায় বৃহত্তর আকারে ভ্রাম্যমাণ আদালত চালানো সম্ভব হয়নি বলে নির্বাহী কর্মকর্তা জানিয়েছেন।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দায়িত্বরত স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. রঞ্জন কুমার রাজন জানান, সরকার ও বিভিন্ন এনজিও সংস্থা বিপুল পরিমাণ ওষুধ সামগ্রী ক্যাম্পে সরবরাহ করছে। রোহিঙ্গাদের স্বাস্থ্যসেবার জন্য তারাই যথেষ্ট। আর প্রশাসন ইচ্ছা করলে ভুয়া চিকিত্সকদের ব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা নিতে পারে।

ইত্তেফাক/কেকে

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
আরও
আরও
x