ধ্যানে মানসিক চাপ কমে ৬০ শতাংশ

ধ্যানে মানসিক চাপ কমে ৬০ শতাংশ
[সংগৃহীত প্রতীকী ছবি]

ধ্যানমগ্ন বা মেডিটেশন এখন বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত। মনের সর্বজনীন ব্যায়াম হচ্ছে ধ্যান। যে কোনো বয়সের মানুষ প্রতিদিনই এটা চর্চা করতে পারেন। নিয়মিত ধ্যানে জাগিয়ে তোলে মানুষের ইতিবাচক সত্তাকে। রোগ প্রতিরোধ, নিরাময়, আত্মনিয়ন্ত্রণ, আত্মশক্তির বিকাশ কিংবা আত্মিক শান্তির জন্য ধ্যান এখন সচেতন মানুষের নিত্যসঙ্গী।

একাধিক গবেষণায় প্রমাণিত যে, নিয়মিত মেডিটেশন চর্চায় রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বাড়ে এবং মানসিক স্বাস্থ্য অটুট থাকে। করোনাকালেও বহু মানুষ যখন দিশেহারা হয়ে পড়েছিল, তখন মেডিটেশন ও সুস্থ জীবনচর্চায় যারা অভ্যস্ত, অটুট মনোবল ও প্রাণবন্ত সুস্থতা নিয়ে তারা নিজ কর্তব্য পালন করে গেছেন চমৎকারভাবে।

বিশ্ব জুড়ে এখন প্রায় ৫০ কোটি মানুষ নিয়মিত ধ্যান বা মেডিটেশন করেন। স্ট্রেস বা মানসিক চাপ নিয়ে যখন একজন মানুষ ধ্যানমগ্ন হন, তখন তার মানসিক চাপের মাত্রা কমে যায় ৬০ শতাংশ। গবেষণার তথ্য, হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তির হার অন্তত ৮৭ শতাংশ কমে গেছে, যখন তারা মেডিটেশন করেছেন। ৯১ শতাংশ মানুষই মেডিটেশন বাদ দিয়ে পরে ঘুমের ওষুধ বা স্লিপিং পিল খাওয়ার ওপর নির্ভরশীল হয়েছেন। কোনো ওষুধ বা প্রচলিত চিকিৎসা পদ্ধতিতে এমন সাফল্য কখনো দেখা যায়নি।

ধ্যান বা মেডিটেশন হলো দম নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে নিজের মনের ভেতরে ডুব দেওয়া, ইতিবাচক বিষয় নিয়ে ভাবা, সুখ বা সাফল্যের কথা চিন্তা করা। মেডিটেশনের মাধ্যমে সাফল্য, প্রশান্তি ও নিরাময় লাভ করেছেন লাখ লাখ মানুষ। বিশ্ব জুড়ে মেডিটেশন হয়ে উঠেছে নিরাময়ের বিকল্প পদ্ধতি, সাফল্যের অব্যর্থ প্রক্রিয়া ও প্রশান্তির লাগসই টেকনিক। এ জন্য বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাংলাদেশেও লাখ লাখ মানুষ ধ্যান বা মেডিটেশন করে নিজেদের জীবনযাপনকে করে তুলেছেন অর্থবহ।

এসব প্রেক্ষাপট সামনে রেখে আজ ২১ মে বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো পালিত হচ্ছে ‘বিশ্ব মেডিটেশন দিবস’। দিবসটি পালনের মূল উদ্যোক্তা কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশন। দিবসটি উপলক্ষ্যে আজ ফাউন্ডেশনের সেল, প্রিসেল, শাখা, সেন্টারসহ দুই শতাধিক ইউনিটে সাংগঠনিকভাবে এবং ঘরে ঘরে ব্যক্তিগতভাবে লাখ লাখ মানুষ সম্মিলিতভাবে মেডিটেশনে অংশ নেবেন। বাংলাদেশ সময় সকাল সাড়ে ৯টায় সারা দেশে এবং দেশের বাইরে ইউরোপ, উত্তর আমেরিকা, ফ্রান্স, অস্ট্রেলিয়া, মালয়েশিয়াসহ বিভিন্ন শাখা ও ভার্চুয়াল সেলে প্রবাসী বাংলাদেশিরা ধ্যানমগ্ন হবেন। মেডিটেশন দিবসের প্রতিপাদ্য— ‘নিয়মিত মেডিটেশন, সুস্থ সফল সুখী জীবন’।

২০১৮ সালের এক জরিপে দেখা যায়, যুক্তরাষ্ট্রের ৫২ শতাংশ প্রতিষ্ঠানই তাদের কর্মীদের মেডিটেশনের ব্যবস্থা করে দিচ্ছে। কারণ তারা দেখছে, মেডিটেশন করা কর্মীর উত্পাদনক্ষমতা মেডিটেশন না করা কর্মীর চেয়ে শতভাগ বেশি। বাংলাদেশের করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোও সেদিকে ঝুঁকছে।

আধুনিক মানুষের সুস্থ জীবনযাপনের পথে বড় অন্তরায় মানসিক চাপ, যা হৃদরোগ, ক্যানসার, ফুসফুসের জটিলতা, লিভার সিরোসিসসহ আরও নানা রোগের কারণ।

ইত্তেফাক/এমআর

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
আরও
আরও
x