যেভাবে আত্মহত্যা প্রতিরোধ সম্ভব

যেভাবে আত্মহত্যা প্রতিরোধ সম্ভব
গ্রাফিক্স: ইত্তেফাক

আত্মহত্যা কেবল সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে পৃথিবী থেকে বিদায় দেয় না; সঙ্গে পুরো পরিবার এমনকি স্বজনদেরও নিঃস্ব করে দেয়। অথচ একটু সচেতন হলেই আত্মহত্যা প্রতিরোধ করা সম্ভব বলে মনে করছেন মনরোগ বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন, আত্মহত্যা প্রতিরোধের জন্য প্রথমেই পরিবার থেকে এগিয়ে আসতে হবে। সময়মতো কাউন্সেলিং করালেই হতাশাগ্রস্তকে মানসিক চাপ থেকে বের করে আনা সম্ভব। এতে আত্মহত্যার প্রবণতা অনেক কমে আসবে।

এ বিষয়ে জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিউট ও হাসপাতালের সহযোগী অধ্যাপক ডা. মেখলা সরকার ইত্তেফাক অনলাইনকে বলেন, ‘আত্মহত্যার অন্যতম কারণ মানসিক সমস্যা। মানসিক সমস্যার সমাধান করা গেলে আত্মহত্যা থেকে একটা বিরাট অংশ প্রতিরোধ করা সম্ভব। কারও যদি মানসিক রোগ থাকে, বিষণ্নতা থাকে কিংবা মাদকাসক্ত থাকে, তাদের সময়মতো চিকিৎসার আওতায় আনা গেলে আত্মহত্যা প্রতিরোধ সম্ভব। এছাড়া ছোট বেলা থেকে বাচ্চাদের খেলাধুলা, অন্যদের সঙ্গে মেলামেশাসহ বিভিন্নভাবে সোশ্যাল স্কিল ডেভেলপ করতে পারলে আত্মহত্যার প্রবণতা কমিয়ে আনা সম্ভব।’

বগুড়ার টিএমএসএস মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মনোরোগ চিকিৎসক ডা. রমজান সরকার সাজ্জাদ ইত্তেফাক অনলাইনকে বলেন, ‘আত্মহত্যার প্রধান কারণ বিষণ্ণতা, পারিবারিক অশান্তি, চাকরিতে অসন্তোষ, বেকারত্ব, পরীক্ষার ফল খারাপ করা ও প্রেমে ব্যর্থ হওয়া। এ সব কারণে মানুষের মধ্যে এক ধরনের আশাহীনতা তৈরি হয়। এ সময় তার কাছে সবকিছু অর্থহীন মনে হয়। তখন তিনি আত্মহত্যার পথ নেন। তাকে যদি চিকিৎসার পাশাপাশি মেডিটেশন, তার মধ্যে পজেটিভবোধকে জাগিয়ে তোলা হয়, তাহলে তাকে আত্মহত্যার পথ থেকে ফেরানো সম্ভব হয়। ’

আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশ বা ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর ডাইরিয়াল ডিজিজ রিসার্চ, বাংলাদেশ, (আইসিডিডিআর, বি) মানসিক স্বাস্থ্য বিভাগের সহযোগী বিজ্ঞানী ডা. কামরুন নাহার কলি ইত্তেফাককে বলেন, ‘আমাদের দেশে মানসিক চাপ বিষয়টা সব সময় পেছনের সারিতে থাকে। গুরুত্ব পায় না। কিন্তু কাউন্সেলিং করলে হতাশাগ্রস্ত মানুষকে মানসিক চাপ থেকে বের করে আনা সম্ভব। এতে আত্মহত্যাও অনেক কমে আসবে।’

উল্লেখ্য, বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য মতে, ২০২০ সালে ১১ হাজার ২৫৯ জন আত্মহত্যা করে। এর আগের বছর ২০১৯ সালে ৯ হাজার ৩১০ জন আত্মহত্যা করে। অর্থাৎ ১৯১৯ সালের চেয়ে ২০২০ সালে ১৯৪৯ জন বেশি আত্মহত্যা করেছে।

পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য মতে, বাংলাদেশে ২০২০ সালে প্রতিদিন গড়ে ৩০ জন আত্মহত্যা করেছে। করোনার কারণে আগের বছরের তুলনায় ২০২০ সালে আত্মহত্যার হার বেড়েছে। এর কারণ হিসেবে করোনায় আয়-রোজগার কমে যাওয়া, করোনার হলে গ্রামের মানুষের উপেক্ষা, পারিবারিক জটিলতা, সম্পর্কের অবনতি, পড়াশোনা নিয়ে হতাশা, আর্থিক সংকট, মানসিক অশান্তিকে দায়ী করেছেন বিশেষজ্ঞরা।

ইত্তেফাক/এনই/এসজেড

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
আরও
আরও
x