রাজশাহী মেডিক্যালে বাড়ছে সাধারণ রোগী

রাজশাহী মেডিক্যালে বাড়ছে সাধারণ রোগী
রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগ —ইত্তেফাক

মহামারির দুর্যোগ কাটিয়ে এখন অনেকটাই স্বাভাবিক রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল (রামেক)। কমেছে করোনার রোগী। কমেছে করোনা ডেডিকেটেড শয্যার সংখ্যাও। অন্যদিকে সাধারণ রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। করোনার সময় এই সাধারণ রোগীদের চিকিৎসা পাওয়াই কঠিন হয়ে পড়েছিল। রামেক হাসপাতালের বহির্বিভাগ এবং জরুরি বিভাগ সবখানেই সাধারণ রোগীর ভিড় দেখা গেছে।

বৃহস্পতিবার দুপুরে সরেজমিনে রামেক হাসপাতালের বহির্বিভাগের টিকিট কাউন্টার ও ডাক্তারদের চেম্বারের সামনে রোগীর দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে। তবে স্বল্প জায়গায় বাড়তি রোগীর পদচারণায় নিশ্চিত হচ্ছে না সামাজিক দূরত্ব কিংবা স্বাস্থ্যবিধি। রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ (রামেক) হাসপাতাল সূত্র বলছে, করোনার মধ্যে সাধারণ রোগীর তেমন চাপ ছিল না। এখন প্রচুর রোগীর সমাগম হচ্ছে। হাসপাতালে গত ১৯ আগস্ট বহির্বিভাগে চিকিৎসা নিয়েছে ২ হাজার ৭৪৬ রোগী। জরুরি বিভাগে ভর্তি হয়েছিল ৩৫৬ রোগী। অথচ গত ২০ সেপ্টেম্বর বহির্বিভাগে চিকিৎসা নিয়েছে ৩ হাজার ৫৯৮ এবং জরুরি বিভাগে ৪৩০ জন রোগী।

বিশ্ববিদ্যালয়ের গাড়ি ব্যবহার করেন ভিসির ছেলে, বাড়ি নিয়েও দুর্নীতি

অপরদিকে, হাসপাতালের করোনা ইউনিটে গত ২২ আগস্ট করোনায় মারা যায় ১২ জন। এদিন সকালে রামেক হাসপাতালের করোনা ইউনিটে ভর্তি ছিল ২৪০ রোগী। হাসপাতালে মোট করোনা ডেডিকেটেড শয্যার সংখ্যা ছিল ৫১৩টি। করোনার সংক্রমণের বৃদ্ধির ফলে ৫১৩টি শয্যা ছাড়িয়ে রোগীরা করোনা ইউনিটের বারান্দায় চিকিৎসা নিয়েছে। কিন্তু গতকাল বৃহস্পতিবার (২৩ সেপ্টেম্বর) রামেক হাসপাতালের ২৪০ করোনা ডেডিকেটেড শয্যার বিপরীতে রোগী ভর্তি ছিল ১১৩ জন।

এ বিষয়ে রামেক হাসপাতালের বার্ন ইউনিটের বিভাগীয় প্রধান ডা. আফরোজা নাজনীন জানান, করোনা মহামারির মধ্যে অনেক রোগীর এমন হয়েছে যে, তার আরো দুই-তিন মাস পর অপারেশন করলেও চলবে। আবার বার্ন ইউনিট যেহেতু করোনা ইউনিট হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে, তাই জটিল অপারেশনগুলোও করতে পারছেন না। কিছু রোগী ঢাকায় পাঠিয়ে দিতে হচ্ছে। আবার গরিব রোগীরা অপেক্ষা করছে। তবে এখন আগের চেয়ে অপারেশনের সংখ্যা কিছুটা বেড়েছে। এসব কারণেই হয়তো সাধারণ রোগী বাড়তে পারে। এ বিষয়ে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ ডা. নওশাদ আলী জানান, এটা প্রাকৃতিক একটি বিষয়। এছাড়া সে সময় যেহেতু মানুষ আতঙ্কিত ছিল, জরুরি না হলে কেউ হাসপাতালে আসেনি; আবার এমনও হতে পারে, সে সময় অনেক রোগী সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাও কম নিয়েছে।

রাজশাহী মেডিকেলে করোনা ও উপসর্গে সর্বোচ্চ ১২ জনের মৃত্যু 

রাজশাহী বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) ডা. হাবিবুল আহসান তালুকদার জানান, এটা স্বাভাবিক। করোনার সময় অনেক সাধারণ রোগী যেমন—কারো হয়তো পিত্তথলির পাথর হয়েছে। যেটা কিছুদিন পরে অপারেশন করলেও চলবে। এমন রোগীরা করোনার মধ্যে হাসপাতালে তেমন আসেনি। কিন্তু এখন তারা হাসপাতালে আসতে শুরু করেছে। এ কারণে হয়তো সাধারণ রোগীর সংখ্যা বাড়ছে।

এ বিষয়ে রামেক হাসপাতাল পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শামীম ইয়াজদানী জানান, এটা খুবই ভালো দিক যে, করোনার সংক্রমণ কমেছে। যে হারে করোনার সংক্রমণ বাড়ছিল তাতে মনে হচ্ছিল আর কিছুদিন বাড়লে হাসপাতালে হয়তো রোগী ভর্তি করা সম্ভব হবে না। তিনি আরো জানান, বহির্বিভাগেও রোগী বাড়ছে। সামনে আরো বাড়তে পারে। সাধারণ রোগী বৃদ্ধির পেছনে অনেক কারণই থাকতে পারে। যেমন—লকডাউন নেই। আবার জরুরি ছাড়া হয়তো হাসপাতালে রোগীও আসেনি। তারা এখন আসছে। তবে সাধারণ রোগী বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতিও নেওয়া হচ্ছে। ইতিমধ্যে টিকিট কাউন্টারে জনবল বাড়ানো হয়েছে। মেডিসিন বিভাগের সামনের প্রাচীরটি ভেঙে উন্মুক্ত করা হয়েছে। রোগীদের বসার জন্য জায়গাও বাড়ানো হয়েছে।

ইত্তেফাক/কেকে

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
আরও
আরও
x