আর্থ্রাইটিসে ভুল চিকিৎসায় ভোগান্তি বাড়ায়: ডা. শারফুদ্দিন আহমেদ

আর্থ্রাইটিসে ভুল চিকিৎসায় ভোগান্তি বাড়ায়: ডা. শারফুদ্দিন আহমেদ
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ডা. মো. শারফুদ্দিন আহমেদ। ফাইল ছবি।

আজকে বিশ্ব আথরাইটিস দিবস। এবছরের আর্থ্রাইটিস দিবসের প্রতিপাদ্য: ডোন্ট ডিলে, কানেক্ট টুডে: টাইম টু ওয়ার্ক। রিউম্যাটিক ও অন্যান্য মাস্কিউলোস্কেলেটাল রোগের ব্যাপ্তি ও তার প্রভাব সম্পর্কে সবাইকে সচেতন করার লক্ষ্য নিয়ে বিশ্বব্যাপী আজ এই দিবসটি পালিত হচ্ছে।

পৃথিবীর জনসংখ্যার একটি উল্লেখযোগ্য অংশ এখনো রিউম্যাটিক ও অন্যান্য মাস্কিউলোস্কেলেটাল রোগ সম্পর্কে অতটা সচেতন নয়, তাদের বেশিরভাগই দুর্ভাগ্যজনকভাবে অনির্ণীত থাকে কিংবা কিছুটা ভুলভাবে নির্ণীত হয়ে থাকে। অনেকেই তাদের ব্যথাসহ অন্যান্য দুর্ভোগের সাথে মানিয়ে নিতে চেষ্টা করেন। এসব রোগ তাদের দৈনন্দিন জীবনযাত্রাকে ব্যাহত করে তাদের জীবনযাত্রার মান কমিয়ে দেয়, সমাজের প্রতি তাদের অবদান রাখার ক্ষমতা কমিয়ে দেয় যার ফলে তাদের বেশিরভাগই আত্মবিশ্বাসের অভাবে ভোগেন এবং সমাজের অন্যান্যদের উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েন।

আজ বিশ্ব আর্থ্রাইটিস দিবস

এ বিষয়ে বিশ্ব আর্থ্রাইটিস দিবস উপলক্ষে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ডা. মো. শারফুদ্দিন আহমেদ বলেন, আপনারা সবাই জানেন, আর্থ্রাইটিস একটি টার্ম - যা একটি ডিজিস গ্রুপকে বর্ণনা করতে ব্যবহৃত হয়, যার লক্ষণগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো শরীরের অস্থিসন্ধি ও অন্যান্য অংশের ইনফ্লামেশন। আর্থ্রাইটিস বেশ কয়েকটি রোগের একটি সমন্বিত লক্ষণ যার ফলে রোগীদের অস্থিসন্ধি ও শরীরের অন্যান্য অংশে ব্যাথা, সচলতা কমে যাওয়াসহ জীবনযাত্রার মান কমে যায়।

ডা. মো. শারফুদ্দিন আহমেদ জানান, আমাদের চিকিৎসাবিজ্ঞান এখনো প্রায় দুশো'র উপর রিউম্যাটিক ও অন্যান্য মাস্কিউলোস্কেলেটাল রোগনির্ণয় ও চিকিৎসায় অন্যান্য স্পেশালটি থেকে পিছিয়ে আছে। এই পরিস্থিতিটা বাংলাদেশসহ বিশ্বের সব দেশেই একটু ভয়াবহ, যার কারণ হলো বিশ্বব্যাপী যোগ্য রিউম্যাটোলজিস্ট-এর অভাব। ফলশ্রুতিতে এই রোগীরা প্রায়শই অনিচ্ছাকৃতভাবে হলেও অনির্ণীত থাকেন কিংবা ভুলভাবে চিকিৎসা পেয়ে থাকেন যা তাদের ভোগান্তি আরো বাড়িয়ে দেয়। এজন্য আমাদের আরো সতর্ক থাকা দরকার। যেহেতু আর্থ্ররাইটিসসহ অন্যান্য মাস্কিউলোস্কেলেটাল রোগগুলো রোগীদের সচলতা কমিয়ে দিয়ে শারীরিকভাবে অক্ষম করে দেয়, তাই এসব রোগের চিকিৎসায় আমরা রিউম্যাটলজিস্ট, অর্থোপেডিক সার্জন, ফিজিওথেরাপিস্ট ও অক্যুপ্যাশনাল থেরাপিস্টসহ অন্যান্য সবাইকে যুক্ত করে মাল্টিডিসিপ্লিনারী এপ্রোচের কথা চিন্তা করতে পারি।

১২ অক্টোবর বিশ্ব আর্থ্রাইটিস দিবস – শেয়ার বিজ

ডা. মো. শারফুদ্দিন আহমেদ আরো বলেন, আমাদের দেশের ডাক্তাররা অনেক যোগ্য, অনেক পরিশ্রমী এবং রোগীর চিকিৎসায় অনেক আন্তরিক- একথা আমি মনেপ্রাণে থেকে বিশ্বাস করি এবং গর্বের সাথে বলতে পারি। এই কোভিড প্যানডেমিক মোকাবেলায় তারা তাদের দক্ষতা ও আন্তরিকতার স্বাক্ষর রেখেছেন। এজন্যে আপনাদের প্রতি আমার আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা। আমি মনে করি, এসব রিউম্যাটিক ও অন্যান্য মাস্কিউলোস্কেলেটাল ডিজিজ মোকাবেলায় আমাদের রিউম্যাটোলজিস্টসহ অন্যান্যরা তাদের মেধার সর্বোচ্চটুকু দিয়ে কাজ করে যাবেন এবং সর্বোচ্চ সহানুভূতির সাথে রোগীদের সেবা দিয়ে যাবেন। এর পাশাপাশি আমরা সবাই মিলে জনগণকে এসব রোগের লক্ষণ ও প্রকোপ সম্পর্কে সচেতন করতে পারি।

তিনি আশাবাদ প্রকাশ করে বলেন, আমাদের সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমেই দেশে সবার মধ্যে রিউম্যাটিক ও অন্যান্য মাস্কিউলোস্কেলেটাল ডিজিজ সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি পাবে বলে আমি আশা করি বলে মনে করি।

ইত্তেফাক/এএইচপি

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
আরও
আরও
x