বেকারত্ব ঘোচাতে উদ্যোক্তা উন্নয়ন

বেকারত্ব ঘোচাতে উদ্যোক্তা উন্নয়ন
প্রতীকী ছবি

আমাদের সিস্টেমের কারণে পড়াশোনা শেষে চাকরির পেছনে ছোটার প্রবণতা বিদ্যমান। কিন্তু শিক্ষিত হয়ে নিজেই যদি নিজের চাকরির ব্যবস্থা করে, মানে উদ্যোক্তা হিসেবে নিজেকে গড়ে তোলে—তাহলে দেশেরও উন্নয়ন সম্ভব। নিজের জন্যও সেটি সম্মানের। নতুন প্রজন্মকে সেদিকে আগ্রহী হতে হবে। চাকরির মানসিকতা থেকে সরে আসতে হবে। নিজের সৃজনশীলতা দিয়ে উদ্যোক্তা হিসেবে নিজেকে গড়ে তুলতে হবে। সবার মধ্যে কিন্তু একটা সুপ্ত প্রতিভা বিরাজ করছে, এদেশের মাটি ও নিষ্ঠাবান শ্রমজীবী মানুষ আছে, দুহাতের শক্তি দিয়ে আমরা অনেক কিছু করতে পারি। নিজ উদ্যোগে প্রতিষ্ঠান সৃষ্টি করা যায়। শুধু দরকার সাহস ও শক্তি।

দেশীয় উদ্যোক্তাদের ৬০ শতাংশই নারী

বাংলাদেশ এখন সমৃদ্ধ অর্থনীতি, সামাজিক উন্নয়ন, নারীর ক্ষমতায়নে একটা পরিচিতি লাভ করেছে। উৎপাদন ও রপ্তানিতে নুতন নুতন রেকর্ড সৃষ্টি করছে। মিঠা পানিতে মৎস্য উৎপাদনে সারা বিশ্বের মধ্যে তৃতীয়, সবজি চাষে ৪র্থ, আম উৎপাদনে ৭ম, পোশাক রপ্তানিতে তৃতীয়, সামাজিক সব সূচকে দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশের তুলনায় এগিয়ে আছে, এটা কম কিসের? বিশেষ করে কৃষি উৎপাদন এ আধুনিকতায় নতুন নতুন ফলনে আমাদের কৃষি উদ্যোক্তারা তাক লাগিয়ে দিয়েছে। সৌদি আরবের খেজুর বাংলাদেশে হচ্ছে। ড্রাগন ফল এখন অতীব সহজলভ্য। থাই পেঁপে- পেয়ারা, ভিয়েতনামের তরমুজ-নারিকেল আমাদের এখানে হচ্ছে। ক্যাপসিকাম সবজিও দেশে হচ্ছে। তাছাড়া কমলা, মাল্টার আবাদও প্রসার লাভ করেছে। ফুলের চাষ করে তা বাণিজ্যিকভাবে বিক্রি করে এরই মধ্যে অনেকেই লাভবান।

আসলে উদ্যোক্তা হতে হলে সবার আগে প্রয়োজন তার ইচ্ছাশক্তি। যে বিষয় নিয়ে কাজ করবে তার উপর সম্মুখ ধারণা থাকতে হবে। প্রশিক্ষণের জন্য নানা সংস্থা রয়েছে। অনলাইনে নিবন্ধন করেও প্রশিক্ষণ গ্রহণ করা যায়। মৎস্য চাষ, পেলট্রি খামার, গরু মোটাতাজাকরণ ও গাভী পালনে দুগ্ধ খামার, ডিজিটাল প্রিন্টিং, তথ্যপ্রযুক্তি, চামড়াজাতদ্রব্যাদি, পোশাক খাতে, ক্ষুদ্র কুটির শিল্প, কৃষিতে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা রয়েছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বিশেষত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতেও এখন উদ্যোক্তা উন্নয়নের ওপর পাঠ্যক্রম রয়েছে। ব্যক্তি পর্যায় উদ্যোক্তা সৃষ্টি হলে আমাদের লোকজন বিদেশে যাবে কেন লেবারের চাকরি করতে? নিজে উদ্যোক্তা হয়ে প্রতিষ্ঠান গড়ে অপরকে চাকরি দেওয়া, দেশের জন্য এর চেয়ে মহৎ কাজ কি হতে পারে?

ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের ই-কমার্সে অন্তর্ভুক্ত করতে নতুন উদ্যোগ

দেশের অর্থনীতিকে উজ্জীবিত করতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নতুন উদ্যেক্তা তৈরিতে জোর দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অধীন বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) এ লক্ষ্যে একটি প্রকল্প ও গ্রহণ করেছে। দুই বছরে ২৪ হাজার নতুন উদ্যোক্তা তৈরির লক্ষ্যে ২০১৯ সালের জানুয়ারিতে ‘উদ্যোক্তা সৃষ্টি ও দক্ষতা উন্নয়ন’ শীর্ষক একটি প্রকল্প গ্রহণ করে বিডা। এই প্রকল্পের সারা দেশের ৬৪টি জেলায় এপর্যন্ত প্রায় ২১ হাজার আগ্রহীকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। যাদের মধ্যে প্রায় ৪ হাজার জন নিজেদের উদ্যোক্তা হিসেবে নানা ধরনের প্রকল্প গড়ে তুলেছেন। বিডার তথ্য অনুযায়ী ২০১৯ ও ২০২০ সালের প্রশিক্ষণ দেওয়ার পর সারা দেশে ৩ হাজার ৬৭০ জন উদ্যোক্তা হিসেবে নিজেদের প্রকল্প গড়ে তুলেছেন। তাদের মাধ্যমে বিভিন্ন খাতে ৯৮৫ কোটি টাকার মতো বিনিয়োগ হয়েছে। কর্মসংস্থান হয়েছে ৩২ হাজার মানুষের।

করোনা সংকটে ৪০-৫০ শতাংশ নারী উদ্যোক্তা ঝরে পড়ার আশঙ্কা

বর্তমানে উদ্যোক্তাদের বড় সমস্যা পণ্যসামগ্রী বিপণন। রাষ্ট্রীয় উদ্যোগ না থাকাতে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা বেশি ক্ষতিগ্রস্ত। ফড়িয়ারা মধ্যস্বত্বা হিসেবে অবস্থান করে সুবিধা নেওয়ায় কৃষকরা ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত। এ বছর যেমন চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে ম্যাংগো ট্রেন চালু করা হয়েছে যার ফলে বাগান মালিকরা স্বল্প ভাড়ায় আম প্রেরণ করতে পেরেছে বাগান মালিকরা লাভবান হয়েছে, তেমনি করে সবজি, মৌসুমি অন্যান্য ফলের ক্ষেত্রে এ ব্যবস্থা চালু করা হলে কৃষি উদ্যোক্তারা সঠিক মূল্য পাবে। পণ্যসামগ্রী গুদামজাতের জন্য আর্থিক সুবিধা দিতে হবে। তাছাড়া উদ্বৃত্ত পণ্য রপ্তানি ক্ষেত্রে বিশেষ সুবিধা প্রদান করতে হবে। তাহলে নতুন উদ্যোক্তা সৃষ্টিতে আগ্রহ জন্মাবে। উদ্যোক্তা বৃদ্ধি পেলে বেকারত্ব কমে আসবে। দেশ স্বনির্ভরতার দিকে এগিয়ে যাবে।

ইত্তেফাক/কেকে

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
আরও
আরও
x